১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেপথ্যের হিরো

রাজু রাজ, তরুণ চিত্রগ্রাহক। খুব অল্প সময়েই তার পরিচিতি ছড়িয়েছে। তাকে নিয়ে লিখেছেন রোকো শ্রাবণ

‘কাজই আনন্দ, কাজই জীবন’Ñ এ কথাটির ওপর মনেপ্রাণে বিশ্বাস রেখে কাজ করে যাচ্ছেন রাজু রাজ। তার পরিচয় একজন তরুণ চিত্রগ্রাহক হিসেবে। ক্যামেরাই যার মূল হাতিয়ার। তরুণ এ চিত্রগ্রাহক বেশ নাম করেছেন তার কাজের দক্ষতা দিয়ে। ফ্রেমে এনেছেন বৈচিত্র্য। সুন্দর কম্পোজিশন এবং নিখুঁত ফ্রেমিংয়ে তার খ্যাতি রয়েছে দেশীয় নাটক-সিনেমাপাড়ায়। রাজু রাজের কাছে জানতে চাওয়া হয় কীভাবে শুরু হলো তার পথচলা! উত্তরে বলেন, ‘মায়ের স্বপ্ন ছিল অভিনেতা হব। আমারও এ রকমই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু বুঝতে পারছিলাম না কার কাছে যাব বা কীভাবেই কাজ পাব। তারপর ২০০৩ সালে পরিচিত এক প্রডাকশন ম্যানেজারের মাধ্যমে শুরুতে কাজ করি নাটকের প্রডাকশন বয় হিসাবে। ওই কাজটি করতে গিয়েই বুঝতে পারি অভিনয়টা এত সহজ নয় যতটা ভেবেছিলাম। তারপর আফসানা মিমির প্রডাকশনে শুরু হয় আমার দ্বিতীয় অধ্যায়। সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে।’

এরপর টানা তিন বছর কাজ করেন সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসেবে। ২০০৭-এ বিজ্ঞাপনচিত্র দিয়েই তার প্রধান চিত্রগ্রাহক হিসেবে যাত্রা শুরু। সেই থেকে দাপিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানত টিভি নাটকে, বিজ্ঞাপনচিত্রে। সিনেমাও করেছেন। ‘আদি’ নামের ওই ছবিটির ট্রেলার মুক্তি পাওয়ার পর থেকে রাজুর খ্যাতি বেড়েছে আরও বেশি।

স্বপ্নটাও এখানে, বলছেন তিনি, ‘আমার স্বপ্ন চলচ্চিত্রে থিতু হওয়া, ভাল ভাল কিছু ছবিতে কাজের মাধ্যমে নিজের অবদান রাখতে চাই।’ চলচ্চিত্র নিয়ে তার সঙ্গে আলাপকালে বার বার উঠে এসেছে সত্যজিৎ রায়ের প্রসঙ্গ। সত্যজিৎ রায়ের সবগুলো ছবিই তার দেখা। সেরা পছন্দের ছবি ‘আগন্তুক’। ছেলের নামও রেখেছেন এ ছবির নামে, আগন্তুক।

রাজু রাজের কণ্ঠে স্বপ্নের কথা, আশাবাদের। ক্ষোভেরও। ‘দেখুন একমাত্র বিজ্ঞাপনেই যথাযথ সম্মানী পাই। টিভি নাটকে যা পাই সেটাকে সম্মান বা সম্মানী কোনটাই বলা চলে না।’ চিত্রগ্রাহকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় নাÑ এমন আফসোসের কথাও বললেন রাজু। এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক নাটকের চিত্রগ্রাহক তিনি। কাজ করেছেন ত্রিশটিরও বেশি বিজ্ঞাপনচিত্রে।