১৭ জানুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাকৃবির সাদ হত্যাকান্ডের দুই বছর॥ বিচারে নেই অগ্রগতি

বাকৃবি সংবাদদাতা ॥ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা সায়াদ ইবনে মোমতাজ সাদের আলোচিত হত্যাকান্ডের দুই বছর হলেও বিচারের নেই কোন অগ্রগতি। দ্রুত বিচার আইনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে মামলা। আসামিদেও কেউ কেউ জামিনে মুক্তি নিয়ে এবং গ্রেপ্তারী পড়োয়ানা নিয়ে প্রায়ই ক্যাম্পাসে ঘুরাফেরা করলেও পুলিশ বলছে পালাতক।

২০১৪ সালের ৩১ মার্চ রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশরাফুল হক হলের ২০৫ নং কক্ষে সাদকে আটকে রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কার্পেট দিয়ে মুড়িয়ে লোহার রড, লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে পেটানো হয় ঘন্টার পর ঘন্টা। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১লা এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মারা যান সাদ। হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনের ডাক দেয় তাঁর সহপাঠীরা। তাদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক সমিতি যোগ দিলে অচল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলায় পুলিশি তদন্ত করে ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযুক্তরা হলেন- সুজয় কুমার, রোকনুজ্জামান, সাদেকুর রহমান, রোকন, রেজাউল করিম, নাজমুল শাহাদাত, মুনতাকা মুফরাত, অন্তর চৌধুরী, সুমন পারভেজ, মিজানুর রহমান, ফয়সাল ইসলাম, মনোয়ারুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ এবং প্রশান্ত দে। এরা প্রত্যেকেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনেও নেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্তদের প্রথম আটজনকে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। এদের সবাই এখন জামিনে আছেন। বাকি ছয়জনকে গ্রেপ্তার করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া বহিষ্কারের সময় শেষ করে ক্যাম্পাসে এসেছে। আর কয়েকজন সচারাচর ক্যাম্পাসের ঘুরফেরা করছে ও ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ বলছে এরা আজও পলাতক। ময়মনসিংহ কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্তদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে শোপর্দ করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক আছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।