২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মাদারীপুরে ব্যাপক সংঘর্ষ : ব্যালট ছিনতাই, গোলাগুলি : আহত ৩৫

নিজস্ব সংবাদদাতা, মাদারীপুর ॥ মাদারীপুরে ভোট গ্রহণের শুরুতেই ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ব্যালট ছিনতাই, বাক্স ভাংচুর, গোলাগুলি, বোমাবাজির মধ্যদিয়ে দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ২জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটমাঝি ইউনিয়নের ৩ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ক্লোজ করে নিয়ে গেছে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যদিয়ে অন্য সকল ইউনিয়নের নির্বাচন

শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবী করেছেন রিটার্নিং অফিসার। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বৃহষ্পতিবার সকাল সকাল ৮টা থেকে বেলা ১০টার মধ্যে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের কুন্তিপাড়া, করদী ও ছয়না কেন্দ্রে সরকার

দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। এ সময় কেন্দ্র দখল করে ব্যালট বাক্স ভাংচুর ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০জন আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। সেখান থেকে ৬জনকে আটক করা হয়। কুন্তিপাড়া, করদী ও ছয়না (৬, ৭ ও ৯ নং ওয়ার্ড) কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও পূনরায় সংঘর্ষের আশংকায় ওই ৩ কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করে নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের ক্লোজ করে নিয়ে গেছে কর্তৃপক্ষ। মস্তফাপুর ইউনিয়নের তাঁতীবাড়ি কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনায় ১০জন আহত হয়।

আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আশংকাজনক হওয়ায় দু‘জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মস্তফাপুরের নওহাটা কেন্দ্রে সংঘর্ষে আহত হয় ৫জন। ছোট বাড্ডা ও আমবাড়ি কেন্দ্রে মেম্বার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ৬জন আহত হয়েছে। এ সব কেন্দ্রে ভোটাদের উপস্থিতি ভালো থাকলেও সংঘর্ষের কারণে ভোটাররা ভোট কেন্দ্র ত্যাগ করে। পাঁচখোলা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রশিদ গৌড়া জাফরাবাদ কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তাকে মাদারীপুর সদর

হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে আবারো সংঘর্ষের আশংকা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে খোয়াজপুর ইউনিয়নের কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী রোমান সরদার নির্বাচন বর্জন করেছেন। মাদারীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা. মাহমুদ হোসেন বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। রোগী আসা অব্যাহত আছে। তাদের চিকিৎসা দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। মাদারীপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন বলেন, “ঘটমাঝি ইউনিয়নের ৩টি ভোট কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে।

অন্যান্য ইউনিয়নের নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”