১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈশ্বরদী অঞ্চলে মোটা ও নিন্মমানের চাউল চিকন করে সারা দেশে বাজারজাত করা হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার, ঈশ্বরদী ॥ ঈশ্বরদীর কয়েকটি রাইচ মিলে মোটা চাউল ছেঁটে চিকন ও পলিশ করার পর চটকদার পলিথিন-চটের বস্তায় ভরে নামি-দামি চাউল বলে বাজার জাত করা হচ্ছে । দীর্ঘদিন থেকে অব্যাহতভাবে এসব মোটা ও নিন্মমানের চাউল বেশী দামের চাউল বলে বাজার জাত করায় ক্রেতারা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হয়ে আসছেন । বিষয়টি জানার পরও সংশ্লিষ্ঠ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না । ফলে সাধারণ ক্রেতারা একদিকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন । অন্যদিকে নানা প্রকার পেটের পীড়াসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে নানা ভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন । ভুক্তভোগী ক্রেতা, চিকিৎসক ও চাউল ব্যবসায়ীদের দে’য়া অভিযোগ সুত্রে এসব তথ্য জানাগেছে । সূত্রমতে, যোগাযোগসহ নানা কারণে দেশের মধ্যে ঈশ^রদী অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ এলাকা । এখানে সহজেই উত্তরাঞ্চলের বৃহৎ চাউল মোকাম গড়ে উঠেছে । এখানে ছোট বড় প্রায় সাত শতাধিক ধান চাতালও গড়ে উঠেছে । একারণে এখানে প্রায় বিশ হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে । গত বিশ বছরে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা প্রায় চৌদ্দশত ট্রাকের মালিক হয়েছেন । এসমস্ত নানা কারণে সরকার ও বিভিন্ন ব্যাংক ব্যবসায়ীদের লোন দে’য়ায় বেশ কিছু ব্যবসায়ী চোট-বড় অটো রাইচ মিলের মালিক হয়েছেন । অটো রাইচ মিলের ব্যবসা ভালো হওয়ায় হাস্কিং মিল মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন । ঈশ্বরদীসহ দেশে বর্তমানে প্রায় তেত্রিশ হাজার হাস্কিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে । অটোরাইচ মিলে ভালো ব্যবসার সুযোগে কতিপয় মিলমালিক অবৈধভাবে মোটা চাউল ছেঁটে চিকন করার প্রকল্প হাতে নেয় । তারা দীর্ঘদিন থেকে নিন্মমানের ইরি ধানের মোটা চাউল ছেঁটে চিকন করে বাঁসমতি, কাটারীভোগসহ নামি-দামী চাউলের সাথে মিসিয়ে বাজার জাত করে আসছে । ঐসব অসাধু ব্যবসায়ীরা আর্থিভাবে লাভবান হলেও ক্রেতারা ধীর্ঘদিন থেকে প্রতারিত হয়ে আসছেন । আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তারা নানা প্রকার পেটের পীড়াসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন । প্রতিদিন ঈশ্বরদী অঞ্চলে ১শ/১৫০’শ টন চাউল উৎপাদিত হয় । এসব চাউলের সাথে যোগ করা হয় বিদেশী চাউল । আবার বিভিন্ন জেলা থেকেও চাউল এখানে আনা হয় । এসব সকল প্রকার চাউল নানা কায়দায় বাজার জাত করা হয় । এরমধ্যে থেকে অসাধু ভ্যবসায়ীরা মোটা চাউল নির্দিষ্ট কয়েকটি অটোরাইচ মিলে ছেঁটে চিকন ও দামি ব্রা-ের চাউলের সাথে মিশিয়ে স্থানীয় বাজার ও ডাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে । এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কতিপয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মাসোয়ারা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ক্রেতা, চিকিৎসক, রুচিশীল ব্যবসায়ীদের মতে, চাউল ভেজালকারী অসাধু ব্যবসায়ীদের চিণ্হিত করে মানবতা বিরোধী ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ঐসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি জরুরিভাবে সুচিকিৎসা করা প্রয়োজন ।