২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উড়াল সড়কে ঢাকা

এতদিন পর মাত্র একাংশ! মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার বা উড়াল সড়কের একাংশ তেজগাঁও সাতরাস্তা-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী বুধবার। ভারতের সিমপ্লেক্স ও বাংলাদেশের নাভানা যৌথভাবে এটি নির্মাণ করেছে। খরচ হয়েছে ২১৩ কোটি টাকা, যাতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশী সহায়তা। আগে মগবাজার রেলক্রসিংয়ের বাধা অতিক্রম করে সাতরাস্তা থেকে মগবাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার আসতে সময় লাগত কমপক্ষে এক ঘণ্টা। ফ্লাইওভার চালুর ফলে এখন লাগবে বড়জোর পাঁচ মিনিট। এর ফলে স্বভাবতই কমবে অসহনীয় যানজট।

তবে কথা আছে অন্যত্র। রাজধানীর যানজট নিরসনে ১৯৯৯ সালের ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের (ডিটিসিবি) সমীক্ষা অনুযায়ী, যানজট নিরসনে ২০টি পয়েন্টে ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, বাস বে, বাস টার্মিনাল, পার্কিং এরিয়া ইত্যাদি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নির্মিত হয় মহাখালী, মেয়র হানিফ ও খিলগাঁও ফ্লাইওভার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্প অনুমোদন পায় ২০১১ সালে। এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। তবে তিন দফায় এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতে করে স্বভাবতই বেড়ে যায় নির্মাণ ব্যয়। বিভিন্ন সময়ে নির্মাণ কাজের মধ্যেই ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়ে নক্সায়। ফলে চলে ভাঙ্গা-গড়ার খেলা। গণমাধ্যমে এ নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। কেননা, এর পেছনে উদ্দেশ্য আদৌ সৎ ছিল না। এই প্রকল্পের মেয়াদ তিন দফা বাড়ানোর ফলে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২১৯ কোটি টাকা। যেভাবেই হোক, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে, ভাঙ্গা-গড়ার খেলা দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাত, আর কী! এর পাশাপাশি ছিল অসহনীয় ও অকহতব্য জনদুর্ভোগ। কেননা দীর্ঘ উড়াল সড়কের দু’পাশে বিস্তর স্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল, আবাসন, ফ্ল্যাটবাড়ি, গলি, তস্যগলিতে প্রায় প্রতিদিন লেগে থাকত তীব্র যানজট। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও বন্ধের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞা। বৃষ্টি ও বর্ষায় পানি জমে গেলে জনদুর্ভোগ হতো অবর্ণনীয়। এতেও শেষ রক্ষা হলে কথা ছিল। এখন পর্যন্ত পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৭০ শতাংশ। সব কিছু ঠিকঠাক চললে বাকি অংশটুকু খুলে দেয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বর অথবা আগামী বছরের জুন নাগাদ। সুতরাং জনদুর্ভোগ এখনই কমবে এমন কথা বলা যাচ্ছে না।

ফ্লাইওভার চালু হলে যানজট কী কমবে? বাস্তবতা তা সমর্থন করে না। উড়াল সড়কের নিচের রাস্তা বিশেষ করে সিদ্ধেশ্বরী, মগবাজার চৌরাস্তা এলাকায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ দুঃসাধ্য হবে বলে মনে করে ট্রাফিক বিভাগ। এখানে কয়েক স্থানে আছে একমুখী সড়ক বা ওয়ান ওয়ে। তদুপরি বিভিন্ন পয়েন্টে ফ্লাইওভারে ওঠা-নামার জন্য সংযোগ সড়কের সংখ্যাও কম। ফলে সেসব পয়েন্টে যানজট হতেই পারে। যে কোন পরিকল্পনা সুষ্ঠু, সমন্বিত, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট, সর্বোপরি ব্যয়সাশ্রয়ী হওয়া অত্যাবশ্যক। দুঃখজনক হলো সরকারী সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই তা মনে রাখে না। আর সে কারণেই যে প্রকল্প ২০১৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা, তা তিন দফা মেয়াদ বাড়িয়েও ২০১৭ সাল নাগাদ শেষ করা যায় না। সঙ্গত কারণেই এতে করে বাড়ে জনদুর্ভোগ ও প্রকল্প ব্যয়। আর উন্নয়নে শ্লথগতি পরিলক্ষিত হলে সাধারণ মানুষের পড়তে হয় সমূহ আর্থিক ঝুঁকির মুখে। ফ্লাইওভার নির্মাণ করতে গিয়ে দু’পাশের ব্যবসা-বাণিজ্য যে লাটে উঠেছে, তার কথা কেউ মনে রাখে না। নিচের খানাখন্দে ভর্তি রাস্তাগুলোর অবস্থাও শোচনীয়। আরও যা দুঃখজনক, নির্মাণ কাজে গাফিলতির জন্য মানুষের মৃত্যুর খবরও আছে। আগামীতে রাজধানীতে মেট্রোরেল, পাতালরেলসহ আরও ফ্লাইওভার নির্মিত হতে যাচ্ছে। খুব ভাল। তবে যেন সময়ের কাজ যথাসময়ে শেষ হয়।