২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পায়রায় প্রথম কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে কয়লাভিত্তিক বড় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের কথা শোনা যাচ্ছে অনেক দিন ধরেই। অনেক পরিকল্পনা নিয়েই সরকার এগোচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উল্টো সুন্দরবনের কাছে ভারতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের সমঝোতা করেই তীব্র বিতর্কের মধ্যে পড়েছে সরকার। সেই বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত চীনা কোম্পানিই দেশে প্রথম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে এগিয়ে এসেছে। এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলাবর সন্ধ্যায় পটুয়াখালীতে কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

মহাজোট সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে দেশে কয়লাচালিত বড় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এই উদ্যোগের প্রথমটি ছিল রামপাল বিদ্যুত কেন্দ্র। যদিও রাপমালকে পেছনে ফেলে এখন এগিয়ে গেল পায়রা। বিদ্যুত কেন্দ্রটি নির্মাণ করবে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড (বিসিপিসিএল)। যা দেশীয় কোম্পানি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) একটি যৌথমূলধনী কোম্পানি। বিদ্যুত কেন্দ্রটির অর্ধেক মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ সরকারের। বিদ্যুত কেন্দ্রটির ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে চীনের এনইপিসি এবং সিইসিসি নামের দুটি কনসোর্টিয়াম। বিদ্যুত কেন্দ্রটির নির্মাণে ১২ হাজার ২৮৪ কোটি ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার ৯৪৩ টাকার চুক্তি হয়েছে এই দুই কোম্পানির সঙ্গে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে চুক্তিতে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানির সচিব দীপক কুমার ঢালি এবং এনইপিসির পক্ষে কোম্পানির প্রেসিডেন্ট চায় মিং এবং সিইসিসির পক্ষে চেন ইউ চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন। আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুত কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসবে আগামী ২০১৯ সালের জুন মাসে আর দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসবে একই বছর ডিসেম্বরে। বিদ্যুত কেন্দ্রর ইউনিটপ্রতি উৎপাদন ব্যয় হবে ছয় টাকা ৬৫ পয়সা। চীন, অস্ট্রেলিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে বিদ্যুত কেন্দ্রটির জন্য কয়লা আমদানি করা হবে। বলা হচ্ছে বিদ্যুত কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছাতে টনপ্রতি কয়লার ব্যয় দাঁড়াবে ১০০ ডলার।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে এনডব্লিউপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যুত কেন্দ্রটি উৎপাদনে আসবে বলে আমরা আশা করছি। এ বিষয়ে বিসিপিসিএল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যুত কেন্দ্রটির জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংক এবং চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ঋণ সহায়তা দেবে। বিদ্যুত কেন্দ্রর জন্য ৮০ শতাংশ ঋণ নেয়া হবে। আর ২০ শতাংশ এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএসমসি বিনিয়োগ করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিদ্যুত ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। সঙ্গত কারণে সরকার বিদ্যুত উৎপাদনে বিশেষ মনোযোগী। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ উপযোগী দেশ হওয়ায় চীন সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্তব্য করে তিনি দেশটিকে ধন্যবাদ জানান। পায়রা বিদ্যুত কেন্দ্র করতে গিয়ে পটুয়াখালীর মধুপাড়া, নিশান বাড়িয়া, দশরহাউলা, মরিচ বুনিয়া গ্রামের ৯৮২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুত কেন্দ্রর ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ হয়েছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটির পায়েলিংয়ের মাধ্যমে নির্মাণ কাজও শুরু হয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আমরা এখন মধ্যম আয়ের দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার ঘোষণা নিয়েছেন। এ জন্য আমাদের মাথাপিছু বিদ্যুত ব্যবহারের পরিমাণ ৩৩৫ কিলোওয়াট/আওয়ার থেকে বৃদ্ধি করে ৬০০ কিলোওয়াট/আওয়ার করতে হবে। আমরা ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।