১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তালপাতার হাতপাখার কদর বেড়েছে

বিশ্বজিৎ মনি, নওগাঁ ॥ ‘শীতের শত্রু তুমি গরমের সখা, এতদিন ছিলে কোথায় ওরে প্রাণের পাখা।’ বসন্ত শেষের দিকেই চৈত্রের কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরম। সেই সঙ্গে প্রচ- গরম। গরমে একটুতেই শরীর ঘেমে জবজবে হয়ে যায়। এ সময় শুধু মানুষই নয়, প্রতিটি প্রাণই চায় একটু শীতল বাতাসের পরশ। বর্তমান যুগে বৈদ্যুতিক পাখার পাশাপাশি হাত পাখারও কদর রয়েছে। আর সেটি যদি তালপাতার পাখা হয়, তাহলে তো কথাই নাই। সেই তালপাতার পাখার বাতাস খেয়ে যেমন মানুষ শীতলের পরশ নিয়ে শান্তি লাভ করে, তেমনি এসব পাখা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে আরেক শ্রেণীর মানুষ। গরমের দিনে এই পাখাই যেন মানুষের দিন-রাতের পরম সঙ্গী হয়ে থাকে।

এই তালপাতার হাতপাখা তৈরি করে সচ্ছলভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন নওগাঁর মহাদেবপুরের ‘পাখা গ্রামের’ শতাধিক পরিবার। গ্রামের প্রকৃত নাম ভালাইন হলেও পাখা তৈরির কাজে নিয়োজিত শতাধিক পরিবারের কারণে গ্রামটি এখন ‘পাখা গ্রাম’ হিসেবেই পরিচিত হয়ে উঠেছে। তালপাতার নানা ডিজাইনের হাতপাখা তৈরি ও বিক্রি করাই এ গ্রামের মানুষের অন্যতম পেশা। ওই গ্রামের গৃহবধূরা সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন তালপাতা দিয়ে নজরকাড়া পাখা তৈরির কাজে। উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের ভালাইন গ্রামের শতাধিক পরিবারের শত শত সদস্যের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে এই তালপাতার তৈরি হাত পাখায়। সরেজমিনে দেখা যায়, ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই চলছে পাখা তৈরির কাজ। বাড়ির মেয়েরা ব্যস্ত পাখা তৈরির কাজে। পাখা তৈরি ও সুতা দিয়ে বাঁধাইয়ের কাজটি বাড়ির মেয়েরাই করে থাকেন। বিভিন্ন স্থান থেকে তালপাতা সংগ্রহ, পাতা ছাঁটাই ও তৈরি পাখা বিক্রির কাজ করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা। তেমনি গভীর মনোযোগ সহকারে পাখা তৈরিতে ব্যস্ত গৃহবধূ আছমা খাতুন জানান, ১২ বছর আগে বিয়ে হয় এ পাখা গ্রামের যুবক সামছুর রহমানের সঙ্গে। শ্বশুরবাড়ির অন্যদের সহায়তায় বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি পাখা তৈরিতে পারদর্শী হয়ে ওঠেন। তালের পাতা মাপমতো কাটা ও ছাঁটাই থেকে শুরু করে কয়েক ধাপে শেষ হয় পাখা তৈরির কাজ। পাখা তৈরির শেষ ধাপে রয়েছে সুতা দিয়ে বাঁধাই।

আছমা জানান, তিনি এখন প্রতিদিন প্রায় ১শ’ পাখা তৈরি করতে পারেন। আছমার এখন প্রতিদিন আয় হয় ২শ’ থেকে ২শ’ ৫০ টাকা। পাখা তৈরি থেকে পাওয়া আয়ের এ টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানকে লেখাপড়া শেখানোর স্বপ্ন দেখছেন আছমা। শুধু আছমা নয়, ওই গ্রামের গৃহবধূ সুমী, খোরশেদা, সায়রা, শেফালী, কোহিনুর, মালা, শিউলি রোকেয়াসহ অনেকের পরিবারই পাখা তৈরি ও বিক্রির ওপর নির্ভরশীল।