২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজধানীবাসীর সাড়ে ২৩ শতাংশ ফুসফুস সমস্যায় ভুগছে

  • গবেষণার তথ্য

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বায়ু দূষণের কারণে রাজধানীর ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ মানুষ ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। শুধু ফুসফুসের সমস্যায় নয়, বায়ু দূষণের ফলে নগরীতে ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, এ্যাজমা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রদাহজনিত (সিওপিডি) রোগও বাড়ছে। এছাড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ফুসফুসের সমস্যাও বাড়ে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি পরিচালিত এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ‘নাগরিক স্বাস্থ্যের ওপর বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে গবেষণার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোঃ রুহুল আমিন। এ সময় তিনি বলেন, গবেষণায় রাজধানীর ১১টি এলাকার নানা বয়সী ৫০০শ’র বেশি মানুষের ফুসফুসের সক্রিয়তার পরীক্ষা বা পালমোনারি ফাংশন টেস্ট (পিএফটি) করা হয়। পিএফটির ফলাফলে দেখা যায়, গড়ে রাজধানীর ২৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ বাসিন্দা ফুসফুসের সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে ২২ দশমিক ১৮ শতাংশ পুরুষ। আর ২৪ দশমিক ৭২ শতাংশ নারী। ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের ওপর পরিচালিত জরিপের পিএফটি ফলে দেখা যায়, ৭৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ মানুষের ফুসফুস স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি (বিইউ) ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। বায়ু দূষণ প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশন নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বায়ু দূষণের কারণে শিশুরা নানা রোগ নিয়ে বড় হচ্ছে। দূষণ কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়। এক্ষেত্রে প্রত্যেক নাগরিককে এগিয়ে আসতে হবে।

আনিসুল হক বলেন, দূষণমুক্ত সবুজনগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে আগামী ২ বছরে ৩ লাখ ২৫ হাজার গাছের চারা লাগানো হবে। এছাড়া সবুজ ঢাকা গড়ে তুলতে প্রতিটি বাসার ছাদে বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সময় মেয়র বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে নির্মাণ ও মেডিক্যাল বর্জ্যসহ সব ধরনের আবর্জনা মুক্ত রাখতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে উত্তর সিটি কর্পোরেশন এ লক্ষ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী ২ বছরে উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৩ লাখ ২৫ হাজার গাছ লাগানো হবে। গ্রীন ঢাকা গড়তে প্রতিটি বাড়ির ছাদেও বনায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বায়ুদূষণ প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন মা অনেক বেদনা সহ্য করে একটি সন্তান জন্ম দেন। কিন্তু শহরের বিষাক্ত বায়ু এই শিশুটির প্রাণ শক্তি নষ্ট করে দেয়। তাই এই শহরের প্রতিটি মানুষকে সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে শিশুটির দায়িত্ব নিতে হবে। বাতাস শোধনের প্রধান প্রতিষেধক হিসেবে ঢাকা শহরকে পরিষ্কার রাখতে হবে।

বায়ু দূষণের প্রভাব সম্পর্কে জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব) আবদুল মালিক বলেন, সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড থেকে শুরু করে মার্কারি, লেডের মতো ভারি পদার্থ বাতাসে মিশে যাচ্ছে। দূষিত বায়ু মানবদেহের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বায়ু দূষেণের কারণে ফুসফুসের পাশাপাশি হৃদরোগ, যকৃতের সমস্যা ও গর্ভবতী মায়েদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বায়ু দূষণ প্রতিরোধে রাজধানী ও এর আশপাশের ইটভাঁটি, যানবাহন ও ট্যানারিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেয়া হয়। এছাড়া গ্রিন-কেমিস্ট্রির নীতিমালার ভিত্তিতে শিল্পায়নের ব্যবস্থা ও বায়ু দূষণের প্রতিরোধের প্রয়োজনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানানো হয়। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার ও পরিবেশ স্থপতি ইকবাল হাবিব।