১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শিশুসহ নিহত ৬ ॥ ইউপি ভোটে বিক্ষিপ্ত সহিংস ঘটনা

শিশুসহ নিহত ৬ ॥ ইউপি ভোটে বিক্ষিপ্ত সহিংস ঘটনা
  • চট্টগ্রামের সীতাকু-, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, যশোর, কুষ্টিয়া, কুমিল্লাসহ কয়েকটি এলাকায় অনিয়ম ও গোলযোগের খবর ;###;বেশিরভাগ এলাকায় উৎসবমুখর ভোট ;###;ইসিতে গিয়ে বিএনপি পরবর্তী ৪ ধাপ নির্বাচন বর্জনের হুমকি দিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও কেন্দ্রের বাইরে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, কেন্দ্র দখলসহ বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এক শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে প্রায় ২শ’ জন। নিহতদের মধ্যে কেরানীগঞ্জের হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালে দুইপক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শুভ কাজী (১০) নামের এক শিশু রয়েছে। এছাড়া ভোট কেন্দ্রে প্রতিপক্ষের হামলায় যশোরে আবদুস সাত্তার নামের এক ফেরীওয়ালা, জামালপুরে দুইপক্ষের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে মারা যান রাকিবুল ইসলাম (৩৫)। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র দখল করতে গিয়ে নৌকা প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে সানাউল্লাহ, ইব্রাহিম ও জামান নামে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এর বাইরে বেশিরভাগ নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। কেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে। বেশিরভাগ জায়গায় ভোট ছিল উৎসবমুখর। প্রথম দফার মতোই দ্বিতীয় দফায়ও মহিলা ভোটারদের উপস্থিতি ছিল। তারা রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিয়েছেন। ভোট শুরু হওয়ার প্রথম চার ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। এর পরে ভোটার সংখ্যা ধীরে কমতে থাকে। কোন বিরতি ছাড়াই বেলা ৪টায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপরই শুরু হয় ভোট গণনা। রাতের মধ্যে প্রায় ইউপিরই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

যে কয়টি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে তার বেশিরভাগই ঘটেছে আওয়ামী দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে। তবে বিএনপির প্রার্থীরা প্রথম থেকেই অভিযোগ করেছেন ভোটগ্রহণের শুরু থেকে তাদের এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়েছে। তারা পতিপক্ষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ভোট জালিয়াতির অভিযোগ করেন। একই কারণে বিএনপি, জাসদ, স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীসহ প্রায় অর্ধশত প্রার্থী ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ৩০ ইউপি থেকেই বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

দ্বিতীয় দফায় কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও ভেতরে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন। তবে প্রথমবারে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ৬৫ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হলেও দ্বিতীয় দফায় স্থগিত কেন্দ্রের সংখ্যা একেবারেই কম বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় দফায় ৬৩৯ ইউপিতে ৬ হাজারের বেশি ভোট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন থেকেও দাবি করা হয়েছে দ্বিতীয় দফায় তুলনামূলক ভালভাবেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ দফায় ভোটারদের উপস্থিতি ভাল। সকাল থেকেই চার নির্বাচন কমিশনার বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব নিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। এর বাইরে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারাও মাঠ পর্যায়ে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ করছেন। জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা বলছেন, দ্বিতীয় দফায়ও ভালভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন্ হয়েছে। তবে তারা এও স্বীকার করেছে কিছু কিছু জায়গায় ভোটগ্রহণে অনিয়ম হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে কমিশনের পক্ষ থেকে ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মোঃ আবু হাফিজ বলেন, ভোটগ্রহণের শুরু থেকেই কমিশনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গণমাধ্যম, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণে দ্বিতীয় দফায় ভালভাবেই ভোট সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জানান কোথাও বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর আসেনি। তবে অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কেন্দ্রের ভেতরে কোন অনিয়ম হলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের বাইরেও অঘটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পদক্ষেপ নেবে।

এদিকে নির্বাচন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও কয়েকটি ঘটনা সামগ্রিক অর্জনকে ম্লান করে দিয়েছে।

সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলে দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ভোট কেন্দ্রে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকার কেরানীগঞ্জ ও যশোর, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রামের সীতাকু-, কুমিল্লা, জামালপুরসহ কয়েকটি এলাকায় অনিয়ম ও গোলযোগে ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিতও করে নির্বাচন কমিশন। যশোরের একটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারে সিল মারার জেরে তিন সদস্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার পর এক সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ইসিতে বিএনপির অভিযোগ ॥ এদিকে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম কারচুপির লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ইউপি নির্বাচনের প্রতিপক্ষ দল বিএনপি। একই সঙ্গে তারা পরবর্তী চারধাপের নির্বাচন বর্জনেরও হুমকি দেয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দলের যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান এ হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, গত ২২ মার্চের প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচন ও বৃহস্পতিবারের দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়নি। এমন চলতে থাকলে সামনে যে চার ধাপের নির্বাচন আছে, তা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব। তিনি বলেন, ভোটের আগের রাত ১২টার পর থেকেই সিল মারা শুরু হয়। শুধু মানুষের রক্ত ঝরে, প্রাণ যায়। এ নির্বাচনের মানে কী? সিইসির ক্ষমতা যে আছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার ভূমিকা দেখি না। বিএনপি নির্বাচনে এসে তাদের সুযোগ করে দিয়েছিল গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টির। কিন্তু সরকার ও ইসি সে সুযোগ গ্রহণ করেনি। দুটো নির্বাচনই বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

জনকণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদন

চট্টগ্রাম অফিস ॥ সন্দ্বীপে ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হন এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৭ জন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে চর বাউরিয়া কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে মূলত ব্যালটবাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও গুলি চালায়। ত্রিমুখী গোলাগুলিতে নিহত হন ৩ জন। তাদের নাম সানাউল্লাহ, ইব্রাহিম ও জামান। গোলাগুলি ও সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে এক পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। আহত সকলকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্দ্বীপের চরবাউরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ছাড়া অন্যান্য কেন্দ্রে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

কেরানীগঞ্জ ॥ হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র শুভ কাজী (১০) নামের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। এই ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিহত শুভ কাজী ওই এলাকার ঢালিকান্দি গ্রামের হালিম কাজীর ছেলে। এ ঘটনার পর কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের অভিযোগ এনে ভোটবর্জন করে হযরতপুর ইউনিয়নের বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হক রিপন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ২০ থেকে ৩০ অস্ত্রধারী কেন্দ্রে হামলা চালায়। এ সময় তারা ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিবর্ষণ করতে করতে এলাকা ত্যাগ করে। এতে স্থানীয় হালিম কাজীর শিশুপুত্র শুভ কাজীসহ মোট পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশু শুভকে স্থানীয় মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে শিশুটি মারা যায়। আহতরা এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

যশোর ॥ দ্বিতীয় দফায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একজন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ যুবলীগ কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের চাঁচড়া ভাতুড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বোমাবাজি ও গোলাগুলিতে আবদুস সাত্তার বিষে (৭০) নামের এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আবদুল হক (৫৬) নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। নিহত আবদুস সাত্তার বিষে যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। আহত আবদুল হক (৫৬) চাঁচড়া মধ্যপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে।

জামালপুর ॥ দুইপক্ষের ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার মধ্যে পড়ে মারা যান রাকিবুল ইসলাম (৩৫)। শ্যামপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুর চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই মেম্বার প্রার্থী মোকছেদ আলী ও মর্জিনা বেগমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে রফিকুল ইসলাম (৫২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়। তবে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিমুল ইসলাম জানান রফিকুল ইসলাম সংঘর্ষে নিহত হননি, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এছাড়া সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল ও ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার জামালপুরে দুই উপজেলায় ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

কুমিল্লা ॥ ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ককটেল বিস্ফোরণ, কেন্দ্র দখল, প্রতিপক্ষের এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট প্রদানসহ অনিয়ম-কারচুপির মধ্য দিয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ ও বরুড়া উপজেলার ১৪টি ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। বিকেল আড়াইটায় এসব অভিযোগ এনে সদর দক্ষিণ উপজেলার ৫টি ইউপির বিএনপি মনোনীত ৫ প্রার্থী এবং চৌয়ারা ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থী নির্বাচন বর্জন করেছেন। দুই উপজেলার এসব ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনায় কমপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মাদারীপুর ॥ ভোটগ্রহণের শুরুতেই ব্যাপক সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া, ব্যালট ছিনতাই, বাক্স ভাংচুর, গোলাগুলি, বোমাবাজির মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরে সংঘর্ষে আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান প্রার্থী অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মাদারীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটমাঝি ইউনিয়নের ৩ কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ ॥ দু’টি উপজেলার ১৬৬টি মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তবে বিশৃঙ্খলা হয়েছে ৯টি কেন্দ্রে। কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশের গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। এতে পুলিশের গুলিতে একজন ও ককটেল বিস্ফোরণে ৩ জন এবং দুই আনসার সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছে।

ভোলা ॥ দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ভোলা সদর, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরাসহ মোট ৪টি উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বিচ্ছিন্ন হামলা, সহিংস ঘটনা, সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাংবাদিকরা অবস্থান করার সময় হঠাৎ পুলিশের গুলিতে এনটিভির ভোলার স্টাফ করেসপন্ডেন্ট আফজাল হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। গুরুতর আহতদের ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ॥ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের মধ্যে খোকসাবাড়ি, বহুলী ও কাওয়াকোলা ইউনিয়নে ভোট চলাকালে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। বহুলী ইউনিয়নের ডুমুর গোলামী ও খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের নিস্তারানী ভোট কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী শফিকুল ইসলাম এবং জয়নাল আবেদিনের সমর্থকদের ওপর নজরুল ইসলামের লোকজন হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটের আঘাতে ৫ জনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।

নোয়াখালী ॥ ককটেল ও গুলি বর্ষণ, হামলা-সংঘর্ষসহ বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলায় ১৫টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। এ ঘটনায় এক সদস্যপ্রার্থী ও নারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৯টি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে স্ব স্ব প্রিসাইডিং অফিসারগণ।

মানিকগঞ্জ ॥ হরিরামপুর ও দৌলতপুর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুইটি কেন্দ্রে পুলিশের গুলি ও রাবার বুলেট, একজন গুলিবিদ্ধ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নরসিংদী ॥ ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাবিবউল্লাহ (টিউবওয়েল), জামায়াত সমর্থিত আনোয়ার হোসেন (তালা) দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাঘাব ইউনিয়নের চাঁদপাশা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে নৌকা প্রতীকে জোরপূর্বক জালভোট প্রধান করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ কামাল প্রায় ৩শ’ ব্যালট পেপার বাতিল করেন।

দৌলতপুর, কুষ্টিয়া ॥ বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, হামলা, গুলির মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত। অনিয়মের অভিযোগ এনে বিএনপির প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। বিক্ষিপ্ত ঘটনায় ১৩ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ॥ বৃহস্পতিবার দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে নির্বাচনী বিরোধ নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। দুর্গাপুর গ্রামের ৪টি স্থানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো গ্রাম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের বাড়িঘর, দোকানপাট ভাংচুর, লুটপাট হয়।

শেরপুর ॥ জেলার ১৬টি ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও পৃথক সহিংসতায় শ্রীবরদীতে ৩ প্রিসাইডিং অফিসারসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।