২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কলকাতায় নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক ভেঙ্গে নিহত ২৩

কলকাতায় নির্মাণাধীন উড়াল সড়ক ভেঙ্গে নিহত ২৩
  • ধ্বংসস্তূপে আটকা বহু মানুষ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ কলকাতার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা গীরিশ পার্কের কাছে চিৎপুর সড়কে নির্মাণাধীন বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার ভেঙ্গে অন্তত ২৩ জন নিহত ও বহু লোক আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটির নিচে বহু গাড়ি ও মানুষ আটকা পড়েছে। এসব গাড়ি একেবারে চ্যাপ্টা হয়ে গেছে বলে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে। আটকেপড়াদের উদ্ধারে কাজ করছে দমকল ও সেনা সদস্যরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে স্থানীয় মানুষ। তবে ঠিক কি কারণে এটি ভেঙ্গে পড়ল এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া, আনন্দবাজার ও বিবিসির।

২০০৯ সালে কলকাতার অন্যতম ঘনবসতি ও ব্যস্ততম এলাকায় ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শেষ করা যায়নি।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শোক প্রকাশ করেছেন। হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি। শোক জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। এ ঘটনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন বিগত সরকারকে দায়ী করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। নিহত পরিবারপ্রতি ৫ লাখ টাকা আহতদের জন্য ৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এই দুর্ঘটনাকে দৈবঘটনা বলে জানিয়েছে নির্মাণকারী সংস্থা। আহতদের সাহায্যে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেছে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই ঘটনার জন্য বৃহস্পতিবারের সকল রাজনৈতিক প্রচার স্থগিত রাখে সিপিএম।

খবরে বলা হয়েছে, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গণেশ টকিজের কাছে ফ্লাইওভারটির একাংশ ভেঙ্গে নিচে যানবাহনের ওপর পড়ে। নিচে আটকা পড়ে কয়েকটি যাত্রীবোঝাই বাস। একাধিক প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনও এর নিচে আটকট পড়ে। কংক্রিটের নিচে চাপাপড়া কোন একটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষ খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপে আটকেপড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। পরে যোগ দেন দমকল বাহিনী ও সেনা সদস্যরা।

পূর্ণমল ধানুকা নামের একজনকে জানায়, আচমকা যেন বোমা ফাটার আওয়াজ হলো বাইরে। তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে দেখি চারদিক ধোঁয়ায় ভরে গেছে। চোখের সামনে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল ব্রিজের একাংশ। ততোক্ষণে লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৭৮ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

ফ্লাইওভারের যে অংশটি ভেঙ্গে পড়েছে, সেই অংশের গার্ডার বুধবার রাতে ঢালাই করা হয়েছিল।

কংক্রিটের নিচে আটকেপড়াদের উদ্ধারে ড্রিল মেশিন দিয়ে পাথরের সø্যাব কাটা হচ্ছে। ক্রেন দিয়ে সরানো হচ্ছে কংক্রিটের টুকরো।

আটকেপড়াদের খুঁজে বের করতে ঘটনাস্থলে বিশেষ ধরনের ক্যামেরা পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন চার শ’ সেনা।

এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিবেকানন্দ ও চিৎপুর রোডসহ কলকাতার একাধিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করে শোক প্রকাশ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী মেদিনীপুরের সভা বাতিল করে ঘটনাস্থলে ছুটে গেছেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে মমতা বলেছেন, এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে। ক্ষমতায় আসার পর ওই সংস্থার কাছ থেকে ফ্লাইওভারটির কাজের পুরো পরিকল্পনা চেয়ে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু নির্মাণ সংস্থার তরফ থেকে তা নাকি দেয়া হয়নি। মমতার দাবি, কাজ বন্ধ করলে আইন আদালত হতে পারে ভেবেই তা করেনি তার সরকার।

একে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে মমতা আরও বলেছেন, উদ্ধারকাজই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তবে দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে অবশ্য রীতিমতো তোপ দেখেছেন বিরোধীরা। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘সাত বছর আগে বরাত দেয়া হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তার মধ্যে পাঁচ বছর ক্ষমতায় আছেন মমতা। কাজ ঠিকমতো হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব কী করে এড়িয়ে যাবেন উনি? যদি কোথাও কোন গোলমাল থেকেও থাকে তাহলে তিনি বরাদ্দ বাতিল করলেন না কেন?

নির্বাচিত সংবাদ