২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৪০% অর্থ ফেরত দিয়েছে ফিলিপিন্স

৪০% অর্থ ফেরত দিয়েছে ফিলিপিন্স

গাফফার খান চৌধুরী/রহিম শেখ ॥ ফিলিপিন্সের ব্যাংকিং ব্যবস্থাসহ দেশটির বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দায় চিহ্নিত করায় বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধারের আশা দিন দিন বাড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ উদ্ধার করে বাংলাদেশ ব্যাংকে দেয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিপিন্সের সিনেট ব্লু-রিবন কমিটি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অর্ধেক নয়, পুরো অর্থই চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপিন্সের বিচার বিভাগীয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্থ ফেরত দেয়ার প্রস্তাব এলে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো অর্থ ফেরত চাইবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, একটু সময় বেশি লাগলেও রিজার্ভ জালিয়াতির সব টাকাই ফেরত পাবে বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে হ্যাকড হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়েছে ফিলিপিন্স ক্যাসিনোর অপারেটর মাইক ওয়াং। দেশটিতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ বলেছেন, তার সামনেই সেখানকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দিয়েছে। একই দিনে রিজার্ভের অর্থের ৪৬ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের এ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল-এএমএলসিকে ফেরত দিয়েছেন অভিযুক্ত চীনা ব্যবসায়ী কিম অং। অন্যদিকে আগামী সপ্তাহে চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারের তৎপরতার অংশ হিসেবে ফিলিপিন্সে দুজন প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, ফিলিপিন্সের ব্যাংকিং রীতি ভঙ্গ করে হ্যাকারদের এ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করে দেশটির রিজাল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের মাকাতি শাখা। ইতোমধ্যে সে সব এ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আদেশ দিয়েছে ফিলিপিন্সের আদালত। রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থের লেনদেনের প্রক্রিয়া ও ওইদিন ব্যাংকটির সিসিটিভি বন্ধ থাকায় তাদের এ্যান্টি মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে ওই ব্যাংককে দায়ী করেছে। অবশ্য ওই ব্যাংকে যাওয়া বেশিরভাগ অর্থ ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে বের হয়ে যাওয়ায় সরাসরি তা আর ব্যাংকিং সিস্টেমে আসবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফিলিপিন্সের আইন অনুযায়ী, সেখানকার কোন ব্যাংক থেকে অনিয়ম করে বিদেশী অর্থ বের হয়ে গেলে সে দায় ওই ব্যাংককে নিতে হয়। এ কারণে দেরিতে হলেও পুরো অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে বলেন, সময় একটু বেশি লাগলেও রিজার্ভ জালিয়াতির সব টাকাই বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত পাবে। কেননা, রিজার্ভ জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপে রয়েছে ফিলিপিন্স। এই ঘটনায় দেশটির বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দায় প্রমাণিত হয়েছে। ফলে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা এগমন্ট গ্রুপের সদস্যপদ বাতিলের আশঙ্কা রয়েছে ফিলিফিন্স কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া প্রায় সাড়ে ৬শ’ কোটি টাকার সমপরিমাণ ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক নিয়মে অর্থ ফেরত পেতে হলে দায় চিহ্নিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ইতোমধ্যে ফিলিপিন্সের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ সেখানকার একাধিক পক্ষের দায় চিহ্নিত করায় দেশটিতে যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার উদ্ধারের আশা দিন দিন বাড়ছে। মানি লন্ডারিংয়ের দায়ে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাকাতি শহরের জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো ও তার এক সহকারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সিনেটের প্রথম শুনানিতে অংশ নিয়ে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠান ফিলরেম এক কোটি পেসো বাংলাদেশকে ফেরত দিতে চেয়েছে। তৃতীয় শুনানিতে অংশ নিয়ে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের বিপরীতে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার উদ্ধার করে তা বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে বলে বুধবার দেশটির গণমাধ্যমগুলোকে জানিয়েছিলেন ফিলিপিন্সে সিনেটের প্রেসিডেন্ট প্রো-টেমপোর রালফ রেক্টো। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পুরো তদন্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন পর্যায়ে দায় পাওয়া না গেলে অর্থ ফেরত পেতে প্রথমে মামলা করতে হবে দেশের আদালতে। আর দায় পাওয়া গেলে তার সুরাহা হওয়ার পর আদালতে যেতে হবে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে শুনানি শেষে যে রায় হবে এ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে তা পাঠানো হবে ফিলিপিন্সের এ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে। সেখান থেকে দেশটির আদালতে বিষয়টি উত্থাপনের পর শুনানি শেষে অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে কি-না সে বিষয়ে রায় হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গবর্নর আবু হেনা মোহাঃ রাজী হাসান বলেন, চুরি হওয়া অর্থ আমরা ফেরত পাবই। তবে সব প্রক্রিয়া শেষ করে অর্থ ফেরত আনতে হয়ত কিছুটা সময় লাগবে। তিনি জানান, অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সংস্থা এগমন্ট গ্রুপ ও এপিজি সহায়তা দিতে রাজি আছে। তিনি আরও বলেন, ফিলিপিন্সের আরসিবিসি ব্যাংক শাখায় হ্যাকারদের পাঠানো ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার আটকে রাখার অনুরোধের পরও তা ছাড় করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত শুনানিতে উপস্থাপন করবে। এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারে তৎপরতার অংশ হিসেবে ফিলিপিন্স সিনেটের পরবর্তী শুনানিতে দু’জন প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ৫ এপ্রিল ম্যানিলায় সে দেশের সিনেটের ব্লু-রিবন কমিটি চতুর্থ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে। ওই শুনানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের দু’জন প্রতিনিধি থাকবেন। এর পরের শুনানিগুলোতেও বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব প্রতিনিধি রাখবে বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফিলিপিন্সের সিনেটের শুনানিতে অংশ নিতে প্রতিনিধি পাঠানোর এ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে দেশটিকে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সহায়তা নেয়া হচ্ছে সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব) জন গোমেজের।

সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার ফেরত পেল বাংলাদেশ ॥ মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের এ্যাকাউন্টে থাকা বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বৃহস্পতিবার সাড়ে চার মিলিয়ন ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপিন্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বলেছেন, তার সামনেই সেখানকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪ দশমিক ৬৩ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত দিয়েছে। কিভাবে ফেরত পাওয়া গেল ওই টাকা জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, ক্যাসিনোর অপারেটর মাইক ওয়াং সিনেটের শুনানিতেই বলেছিলেন তার কাছে ৪.৬৩ মিলিয়ন ডলার আছে এবং ক্যাসিনোতে আরও ৪৫০ মিলিয়ন পেসো (১০ মিলিয়ন ডলারের সমমান) রয়েছে। তিনি জানান সেটাই প্রথম অংশ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশকে ফেরত দেয়া হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই আরও কিছু টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। কিন্তু পুরো টাকাটা ফেরত পাওয়া যাবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত জন গোমেজ বলেন, ফিলিপিন্সের সিনেটররাই বলছে বাংলাদেশ ৩৪ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাবে কিন্তু তাতে তো সন্তুষ্ট হতে পারিনা। পুরোটাই তো উদ্ধার করতে হবে। ক্যাসিনোতে যাওয়া টাকা পাওয়ার বিষয়ে যে সংশয় রয়েছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যাসিনোতে চলে গেছে বলে টাকা পাবে না তা তো মানব না। সিনেট দারুণ কাজ করছে। সিনেটর বলছেন, ৩৪ মিলিয়ন ডলার পাওয়া যাবে। আমরা ধাপে ধাপে এগোব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন রিজার্ভ চুরির সাথে প্রধানত যারা জড়িত তাদের সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। চারজনের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস হয়েছে। ফিলিপিন্সের আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

৪৬ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছেন কিম অং ॥ রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থের ৪৬ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের এ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল-এএমএলসিকে ফেরত দিয়েছেন অভিযুক্ত চীনা ব্যবসায়ী কিম অং। দেশটির এ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল-এএমএলসিকে এই অর্থ ফেরত দিয়েছেন কিম। ফিলিপিন্সের সংবাদ মাধ্যমে ম্যানিলা বুলেটিন এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি হওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিপিন্স সিনেটের প্রেসিডেন্ট রালফ রেক্টো। এ ছাড়াও কিম অংয়ের আরেক প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন হাওয়াই লেজার কোম্পানিতে আরও পাচার হওয়া অর্থের এক কোটি ডলার রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই চীনা ব্যবসায়ী। অর্থ পাচারের এ ঘটনা তদন্তে আগামী ৫ এপ্রিল পরবর্তী সিনেট শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন এক বিভাগে থাকা কর্মকর্তাদের বিশেষ নজরদারি সিআইডির ॥ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধি অনুযায়ী কোন কর্মকর্তাকে একই বিভাগে তিন বছরের বেশি রাখার নিয়ম নেই। বিশেষায়িত ক্ষেত্র হলে ৫ বছর রাখা যাবে। এর বেশি নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কাজী ছাইদুর রহমানকে এরও অনেক বেশি সময় ধরে একই বিভাগে রাখা হয়েছে। তিনি ওই বিভাগের যুগ্ম পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। এরপর পদোন্নতি পেয়ে ডিজিএম হন। সেখান থেকে জিএম হন। কিন্তু তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়নি। রিজার্ভ জালিয়াতিতে এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকায় বিভাগের জিএম ছাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিশেষ নজরদারিতে রেখেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঘটনার এক মাস পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেক্স রিজার্ভের কর্মকর্তা আশিকুর রহমানকে বদলি করা হয় বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে আর ট্রেনিং একাডেমি থেকে মফিজুর রহমান খানকে বদলি করে ফরেক্স রিজার্ভ বিভাগে আনা হয়। ওই কর্মকর্তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিআইডি কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মির্জা আবব্দুল্লাহেল বাকী জনকণ্ঠকে বলেন, রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অনেক আলামত জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে অনেককেই। প্রয়োজনে আরও অনেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। অনেকেই নজরদারিতে রয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা চুরির সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন কর্মকর্তার জড়িত থাকার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অবহেলা ও গাফিলতি থাকার বিষয়টি বার বারই প্রকাশ পাচ্ছে।

দুই ডেপুটি গবর্নরকে জিজ্ঞাসাবাদ ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুই ডেপুটি গবর্নর আবুল কাসেম ও নাজনীন সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলের বাংলাদেশ ব্যাংকে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সাবেক গবর্নর ড. ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এর মধ্যে নাজনীন সুলতানাকে বেলা ৩টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আবুল কাসেমকে ডাকা হয়। তাকেও একান্তে প্রায় আধাঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিজার্ভ চুরি নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে গবর্নর আতিউর রহমান সরে দাঁড়ানোর পর বাংলাদেশ ব্যাংকের দুই ডেপুটি গবর্নর নাজনীন সুলতানা ও আবুল কাসেমকেও অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংকটির তৎকালীন গবর্নর ড. আতিউর রহমান পদত্যাগ করার পর পরই রাজধানীর শেরে বাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় গিয়ে ওই দুই ডেপুটি গবর্নরকে অব্যাহতি দেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক সাবেক গবর্নর ড. ফরাসউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।

অবশেষে নিজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করল আরসিবিসি ব্যাংক ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ ফিলিপিন্সে পাচারের ঘটনায় সাবেক দুই কর্মী মায়া দিগুইতো ও এ্যাঞ্জেলা টোরেসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন- আরসিবিসি। মানি লন্ডারিং মামলায় ব্যাংকটির জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া ও জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা টোরসের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। ফিলিপিন্সের সংবাদমাধ্যম ‘এবিএস-সিবিএনকে এ কথা জানিয়েছেন আরসিবিসি গ্রুপের আইনজীবী মিশেল এস্তাভিলো। তবে এই দু’জন কর্মী ছাড়াও আরো জুপিটার শাখার একজন কর্মী এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সন্দেহভাজন ওই কর্মীর নাম আদ্রিয়ান ইউজিউসিকো। এর আগে ফিলিপিন্সের সিনেট শুনানিতে আরসিবিসির এই কর্মীর জড়িত থাকার অভিযোগও উঠে আসে। এই আদ্রিয়ানোই আরসিবিসি’র অন্যান্য শাখার কর্মীদের সঙ্গে মায়ার বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। এর আগে অর্থ পাচারে ব্যবহৃত চারটি ভুয়া এ্যাকাউন্টের মধ্যে ‘জেসি ল্যাগরোসাস’ এ্যাকাউন্টটিতে আদ্রিয়ানোর ছবিই ব্যবহার করা হয়। আদ্রিয়ানো ছাড়াও দেগুইতোর পরিচিত অন্য ব্যাংকের আরও একজন কর্মী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করছেন আরসিবিসি গ্রুপের আইনজীবী মিশেল এস্তাভিলো। এদিকে, অনুমতি ছাড়াই জাল এ্যাকাউন্ট খুলে তাতে অর্থ লেনদেন করার অভিযোগে মায়া ও টোরেসের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করার কথা জানিয়েছেন ফিলিপিন্সের ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর আইনজীবী রোমান এসগুয়েরা।