১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

বায়ান্ন বাজার তিপ্পান্ন গলি

মোরসালিন মিজান ॥ চৈত্রের শুরুতে বেশ গরম পড়েছিল। অনেকেই শঙ্কিত ছিলেন, সামনে আরও বাড়বে। বাড়বে বৈ কমবে না। আদতে উল্টো হয়েছে। অন্তত গত কয়েকদিনের আবহাওয়া আমলে নিলে উল্টো-ই বলতে হবে। কারণটি আর কিছু নয়, বৃষ্টি। অসময়ে হাউমাউ কান্না জুড়ে দিয়েছে আকাশ। গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে মুখ ভার। সন্ধ্যার আগে আগে সেটা কান্নায় রূপ নিয়েছিল। বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা। গায়ে পড়তেই টের পাওয়া গেছে। সামান্য কয়েক ফোঁটায় জামাকাপড় ভিজে একাকার। বুধবারে এসে একই গল্প। এদিনও সন্ধ্যাটা ধুয়ে গেছে বৃষ্টির জলে। কী কা-! বৃহস্পতিবারও দেখা নেই সূয্যি মামার! ফলাফল- শীত শীত অনুভব। এই অনুভবটা অবশ্য মজার। অনেকে দু’হাত পকেটে ভরে হাঁটছেন। পায়ে হাঁটার পথগুলোও এখন দারুণ পরিষ্কার। টানা বৃষ্টিতে ময়লা যা কেটে গেছে। বেশ লাগে হাঁটতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসির দিকে হেঁটে যেতে মনের অজান্তেই গান এলো মনেÑ এই পথ যদি না শেষ হয়...! আবহাওয়া অধিদফতর অবশ্য বলছে, এই বৃষ্টি নিয়ম মেনে হচ্ছে।

চৈত্রে এমন হয়। একইসঙ্গে এটি কালবৈশাখীর আগাম বার্তা বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

কালবৈশাখী নিয়ে সতর্ক করা হলেও, রাজধানী ব্যস্ত বৈশাখের প্রস্তুতি নিয়ে। সারা শহরেই শুরু হয়ে গেছে বাংলা নববর্ষ বরণের প্রস্তুতি। বিশেষ করে বলতে হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের কথা। এখান থেকে প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে আয়োজন করা হয় মঙ্গলশোভাযাত্রার। বিপুল কর্মযজ্ঞ। তাই আগেভাগেই কাজ শুরু করে দিয়েছে চারুকলার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, চলছে সরাচিত্র আঁকার কাজ। মাটির সরায় উজ্জ্বল রঙে আঁকা হচ্ছে গ্রামীণ জীবনের নানা অনুষঙ্গ। একসঙ্গে অনেকেই আঁকছেন। শিল্পী নাজির দীর্ঘদিন ধরে বাংলা বোঝাতে বাঘ আঁকছেন। বৈশাখের সঙ্গে তার আঁকাআঁকি সহজেই মিলে যায়। শিল্পী ভাষায়Ñ বাঘের দেশে বৈশাখ। সেই বৈশাখ এঁকে যাচ্ছেন তিনি। কেউ কেউ তৈরি করছেন কাগজের পাখি। তুহিন পাখি থাকছে এবারও। পাশেই মেঝেতে চলছে মুখোশ তৈরির কাজ। আর লিচু তলায় বাঁশের অবকাঠামো। এগুলোই ধীরে ধীরে বিভিন্ন প্রাণীর রূপে দৃশ্যমান হবে। অংশ নেবে মঙ্গলশোভাযাত্রায়।

যানজটের শহর ঢাকায় বুধবার থেকে চালু হলো আরও একটি উড়াল সেতু। মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের একাংশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সাতরাস্তা অংশে উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন করেন। পরে উড়ালসড়কের ওপর দিয়ে মগবাজার প্রান্তে এসে নামেন। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেতুটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। নতুন উড়াল সেতু। ব্যাপক কৌতূহল মানুষের। প্রথম দিনই বিপুল পরিমাণ যান চলাচল করে সেতুর উপর দিয়ে। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে আশপাশ দেখছেন। ছবি তুলছেন। উড়ালসড়কে ওঠানামার জন্য তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, সোনারগাঁও হোটেল, মগবাজার, বাংলামোটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ও শান্তিনগর মোড়ে লুপ রাখা হয়েছে। যান চলাচল শুরু হওয়া অংশটির দৈর্ঘ দুই কিলোমিটারের কিছু বেশি। যারা এতদিন টঙ্গী ডাইভারশন সড়ক ব্যবহার করতেন, বোনাস হিসেবে পেলেন উড়ালসড়কও। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী জুনে বাংলামোটর থেকে মৌচাক অংশ চালু করা যাবে। ডিসেম্বরে চালু হবে মৌচাক-আবুল হোটেল অংশ। আর তাহলে রাজধানী ঢাকার যানজট যা আছে, তার থেকে অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাকিটা বলবে সময়।