১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোড়ে মোড়ে ট্রাফিকের নির্দেশনা মানছে না কেউ

মোড়ে মোড়ে ট্রাফিকের নির্দেশনা মানছে না কেউ

রাজন ভট্টাচার্য ॥ ‘এখানে যানবাহন দাঁড়ানো সম্পূর্ণ নিষেধ। আদেশক্রমে ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগ (পূর্ব)’। রাজধানীর বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত খোদ মতিঝিলের শাপলা চত্বর এলাকায় এরকম সাইনবোর্ড ঝুলছে ফুটপাথ ঘেঁষে। সাদা রঙের সাইনবোর্ডের লাল বৃত্তের মাঝখানে বাসের ছবিটি লাল কালিতে ক্রস চিহ্ন দিয়ে কেটে দেয়া আছে। কিন্তু কে শোনে কার কথা! দিনভর সব বাসই দিব্যি থামছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো হচ্ছে মহাআনন্দে। অথচ শাপলা চত্বর এলাকায় কর্তব্যরত আছেন অন্তত ১০ ট্রাফিক পুলিশ! একই চিত্র দৈনিক বাংলা মোড়ে। এখানে দুটি সাইনবোর্ড ঝুলছে। একটি বাস না থামানোর নির্দেশনা। অপরটি রিক্সা না দাঁড়ানোর। সেখানেও নির্দেশ বাস্তবায়নে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা নেই। পুরানা পল্টন মোড়ের চিত্রও একই। এখানেও পুলিশের নির্দেশনা অমান্য করে দিনভর বাস থামছে। ফলে যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

নতুন বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের (উত্তর) পক্ষ থেকে বাস থামা না থামার সাইনবোর্ড ঝুললেও তা বাস্তবায়নের কেউ নেই। শাহজাদপুর পূবালী ব্যাংকের সামনের রাস্তার চিত্রও একই। বাড্ডা নতুন রাস্তা এলাকায় সাইনবোর্ডের নির্দেশনা অমান্য করে গাড়ি থামায় সেখানেও দিনভর যানজটের ভোগান্তি। অথচ এ নিয়ে কারও কোন মাথাব্যথা নেই। তাহলে প্রশ্ন আসতেই পারে পুলিশের পক্ষ থেকে এরকম নির্দেশনা টাঙ্গানোর অর্থ নিয়ে।

মহাখালী বাসটার্মিনালের উভয় পাশের সামনের রাস্তায় পুলিশের দেয়া সাইনবোর্ডে ‘বাস থামানো নিষেধ’ লেখা রয়েছে। সেখানেও কারণে অকারণে বাস থামে। যাত্রী ওঠানামার চিত্র সব সময়ের। মহাখালী রেলগেট এলাকার চিত্র একই রকমের। বনানী, খিলক্ষেত, বিমানবন্দর এলাকাতেও পরিস্থিতি একই রকমের। নগরীর অন্তত শতাধিক পয়েন্ট ঘুরে এ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগের সাইনবোর্ডের নির্দেশনা কার্যত অকার্যকর। পরিবহন চালকরাও জানেন না, থামা ও না থামার নির্দেশনা দেয়ার কথা। পুলিশও এ বিষয়ে তৎপর নয়। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠবে যানজট নিরসনে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপ যদি ব্যর্থ হয় তাহলে পরিস্থিতি কি দাঁড়াবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যানজটের কারণে দিনে ৪০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। এতে বছরে আর্থিক ক্ষতি ৩০০ কোটি টাকা। ফলে মহানগরীর ৭৩ ভাগ মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিও হচ্ছে। রাজধানীবাসীর দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে গড়ে এক ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময়ই যানজটে আটকে থাকতে হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যানজটের প্রধান কারণ ১৯। গবেষকরা বলছেন, রাজধানীতে ৩০ ধরনের যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলছে। সোয়া দুই লাখের স্থলে সাড়ে নয় লাখ গাড়ি চলাচলের অনুমোদন কোন অবস্থাতেই সুখকর নয়। উল্টোপথে চলা ও আইন না মানা, কার পার্কিংয়ের স্থানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, রাস্তা ও ফুটপাথ দখল অর্থাৎ আট ভাগ সড়কের মধ্যে কার্যকর রাস্তা মাত্র আড়াই ভাগ, সিএনজি স্টেশন, স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা না থাকা, ট্রাফিক সদস্যদের প্রশিক্ষণের অভাবেই যানজট হচ্ছে। পাশাপাশি উন্নয়ন কাজ সময়মতো না হওয়াকেও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা হয়।

সব মিলিয়ে দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে নগরীর যানজট সমস্যা। রাস্তায় নামলে কখন গন্তব্যে পৌঁছান যাবে তার নিশ্চয়তা নেই। নিত্য দুর্ভোগ রাস্তায় রাস্তায়। অপেক্ষা ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এ কেমন নগরী, যেখানে যানজটের ভয় নিয়ে রাস্তায় নামতে হয়। তবে শীঘ্রই কি সঙ্কট থেকে মুক্তি নেই? রাজনৈতিক সদিচ্ছায় স্বল্পমেয়াদী পরামর্শগুলো কার্যকর করা গেলে পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলোও যথাসময়ে শেষ হচ্ছে না। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীতে দিনে ৩১৭ নতুন গাড়ির অনুমোদন দেয়া সঠিক নয়। তাছাড়া অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটপাথ ও রাস্তা দখলমুক্ত করলেই ৩০ ভাগ যানজট কমে আসবে। নগরীতে হেঁটে চলাচল করেন ৬০ ভাগ মানুষ। রিক্সায় ১৯ ভাগ। বাস ও অটোরিক্সায় ১৬ ভাগ, প্রাইভেটকারে মাত্র ৫ ভাগ মানুষ যাতায়াত করেন। অথচ প্রাইভেটকার অনুমোদন দেয়া হচ্ছে বেশি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা আর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চিঠি চালাচালি করে গণপরিবহন নামানোর প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হযেছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ মিজানুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, যানজট সমাধানে ট্রাফিক আইন মেনে চলা, ভিজিলেন্স টিম গঠন, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা করতে হবে। ইন্টার সেকশনের কাছে স্টপেজ বন্ধ করতে হবে। অবৈধ পার্কিং, ফুটপাথ ও রাস্তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে দখলমুক্ত করা সম্ভব হলে ৩০ ভাগ যানজট কমবে। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছাই বড় বলে মনে করেন তিনি। নগরীর ২০ ভাগের বেশি রাস্তা দখলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়নের দিকে যেতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ না করলে জনদুর্ভোগ আরাও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

রাস্তার পাশেই রি-ফুয়েলিং স্টেশন ॥ মুগদা বিশ্বরোডের পাশেই শান্ত সিএনজি এ্যান্ড রি ফুয়েলিং স্টেশন। গ্যাস নিতে কয়েক শ’ গাড়ির লাইন থাকে প্রতিদিন সকাল থেকেই। সব গাড়িই রাখা হয়ে মূল সড়কে। এরমধ্যে বিশ্বরোড থেকে মা-া গলির মাথায় দ্বিতীয় সারিতে রাখা হয় ২০টির বেশি মেক্সি। মতিঝিল-মুগদা রোডে এসব গাড়ি যাতায়াত করে। এর একটু সামনে আইডিয়াল স্কুলের সামনে অবৈধ গাড়ি পার্কিং তো আছেই। একারণে খিলগাঁও চৌরাস্তা থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত পাঁচ মিনিটের রাস্তা যেতে সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা! কমলাপুর কন্টেনার ডিপোর গেটের সামনে ২৪ ঘণ্টাই ওয়াগন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ অর্ধশত গাড়ি রাখা হয় মূল সড়কে। রাতে এর সংখ্যা বাড়ে। কোন কোন সময় মাল ওঠানামও চলে সড়কের মধ্যেই। একারণেই স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলাচল করতে পারে না। ফল যথারীতি যানজট। এছাড়াও ট্রাফিক পূর্ব বিভাগের পক্ষ থেকে বাসাবো, ফ্লাইওভারের শেষ মাথা, আনসার ক্যাম্প, কমিউনিটি সেন্টার, মালিবাগ রেলগেট থেকে শুরু করে প্রায় বাড্ডা এলাকা পর্যন্ত পুলিশের কোন নির্দেশনাই মানাতে দেখা যায়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তেজগাঁও জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) রাজীব দাশ জনকণ্ঠকে বলেন, এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জনস্বার্থে। নির্দেশনা মানা হলে যানজট কমবে। সবাই ভালভাবে চলাফেলা করতে পারবেন। এজন্য সকলের মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, পরিবহন চালকসহ পরিবহন সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কোনভাবেই আইন ভঙ্গ করা যাবে না। তাছাড়া যানজট নিরসনে বিচ্ছিন্নভাবে পদক্ষেপ না নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

সময় যাচ্ছে রাস্তায় ॥ রাজধানীতে যানজটের ফলে এক কোটি ৬০ লাখ মানুষের দৈনিক দুই কোটি ৪০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইইবি) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ আয়োজিত সেমিনারে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান। সেমিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হলো অবৈধ পার্কিং এবং বহুতল ভবনের কার পার্কিংগুলো ভিন্ন কাজে ব্যবহার। অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল হক যানজট নিরসনে তাঁর নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, এরই মধ্যে নয়টি স্থানকে তিনি যানজটমুক্ত করেছেন। গাজীপুর থেকে তেজগাঁও সাতরাস্তা পর্যন্ত ইউ-লুপ স্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজও শুরু হয়েছে। এসব সিসি ক্যামেরাকে পুলিশের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হবে। ট্রাফিক পুলিশ সিসি ক্যামেরার ছবি দেখে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও মফস্বল পর্যায়ে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে কয়েকটি মন্ত্রণালয় স্থানান্তর করা যেতে পরে। মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান রাজধানীর সেবা সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয়হীনতা, ট্রাফিক আইন না মানা, পর্যাপ্ত সড়ক না থাকা, রাস্তা দখল, রাস্তায় পার্কিং প্রভৃতি সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করতে হলে নাগরিকদের সচেতন হওয়াসহ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

যত উদ্যোগ ॥ হাতিরঝিলের তেজগাঁও অংশ থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কে ২২ ইউলুপ (ইউ আকৃতির সেতু) নির্মাণ করবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এই ইউলুপ নির্মাণ করতে এ সড়কের ৬৯ ক্রসিং বন্ধ করে দেয়া হবে। আর ইউলুপগুলো নির্মাণ হলে এ সড়ক থেকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ যানজট কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঁচটি মেট্রো রেল ॥ আগামী ২০ বছরে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ৫৫ শতাংশ বাড়বে। পাল্লা দিয়ে বাড়বে যানবাহনও। এ সময়ের মধ্যে নগরবাসীর দৈনিক যাতায়াত (ট্রিপ) বাড়বে প্রায় ৭১ শতাংশ, যা রাজধানীতে যানজটের তীব্রতা বাড়াবে দ্বিগুণ। পরিস্থিতি উত্তরণে ঢাকায় আগামী ২০ বছরে পাঁচটি মেট্রোরেল চালু করতে হবে। পাশাপাশি দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), নতুন কয়েকটি সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়েও নির্মাণ করতে হবে। রাজধানীর যানজট নিরসনে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি) সংশোধন-সংক্রান্ত দ্বিতীয় অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ, যা ২০৩৫ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৬৩ লাখে। এ সময় ট্রিপের সংখ্যা ২ কোটি ৯৮ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৫ কোটি ১১ লাখে। কিন্তু বিদ্যমান সড়ক ব্যবস্থায় এ যাতায়াত সম্ভব নয়। ফলে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা তথা মেট্রোরেল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করতে হবে। এজন্য বর্তমানে চলমান প্রকল্পসহ রাজধানীতে পাঁচটি মেট্রোরেল নির্মাণ করতে হবে। এতে বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে প্রায় ২ হাজার ৫৬ কোটি ডলার বা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা।

কার পার্কিংয়ের স্থানে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ॥ ঢাকার যানজট নিরসনে রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন সড়কের পাশে নির্মিত যেসব ভবনের কার পার্কিংয়ের স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকান তৈরি করা হয়েছে তার একটি তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট। সম্প্রতি জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্টের বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি সাহিদুল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আগামী দুই মাসের মধ্যে উক্ত তালিকা আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অপসারণে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

যানজট নিরসনে পুলিশের প্রতিবেদন ॥ যানজট নিরসনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। যেখানে রাজধানীতে যানজটের ১৯ কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যানজট থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদী বেশকিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

পুলিশের প্রতিবেদনে অপ্রশস্ত রাস্তা, যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, গাড়ি পার্কিং, রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে হাট-বাজার, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, দোকান-পাট বসানো, রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী রাখা, আবাসিক ও বাণিজ্যিক বহুতল ভবনে কার পার্কিং না থাকা, পার্কিং থাকলেও বন্ধ রাখা, রাস্তায় যত্রতত্র বাস, মিনিবাস ও অটোরিকশা থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশ, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, রাজউকসহ সরকারী অন্য সংস্থাগুলোর কাজে সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা মহানগরীতে ২১৯ বাস স্টপেজ এবং বিআরটিসি কর্তৃক অনুমোদিত ২০৮ বাস রুট রয়েছে। বিআরটিসি ও বেসরকারী মিলিয়ে প্রতিদিন ১২ হাজার বাস/মিনিবাস এই রুটগুলোয় যাত্রী পরিবহন করে থাকে। বাস স্টপেজে বাস না থামিয়ে মূল রাস্তার ওপর বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এছাড়া আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলো নগরীর অভ্যন্তরে হওয়ার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীর ব্যস্ততম বিভিন্ন রাস্তায় ২০ পয়েন্ট, লেভেল ক্রসিং রয়েছে। প্রতিদিন ট্রেনের আপ ও ডাউন মিলিয়ে দৈনিক ৪/৫ ঘণ্টা সময় লেভেল ক্রসিংগুলোয় যানবাহন আটকে থাকে। এ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফিটনেসবিহীন যান্ত্রিক ত্রুটিপূর্ণ এবং পুরনো যানবাহন রাস্তায় চলার কারণেও যানজট সৃষ্টি হয়।