১৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৯  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আনসারুল্লাহর দুই জঙ্গী অভিজিত হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলামত পরীক্ষা ও ডিএনএ রিপোর্ট এখনও পায়নি ডিবি

শংকর কুমার দে ॥ বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ব্লগার ও লেখক মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার অভিজিত রায় হত্যার ঘটনায় অংশ নিয়েছিল সন্দেহভাজন সাতজন। এর মধ্যে দুইজন সরাসরি হত্যাকা-ে অংশ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই এর ল্যাবে পাঠানো হত্যাকা-ে ব্যবহৃত আলামতের পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও ঢাকায় ডিবির হাতে এসে পৌঁছায়নি, পৌঁছায়নি ডিএনএ রিপোর্টও। খুনীরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (বর্তমানে আনসার আল ইসলাম) সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিএনএ ও আলামত পরীক্ষার রিপোর্ট না আসায় তদন্তের দৃশ্যমান অগ্রগতি দীর্ঘ এক বছর আগে যেই তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গেছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

ডিবি সূত্র জানান, অভিজিত হত্যাকা-ের অভিযোগে এর আগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে সস্ত্রীক বাসায় ফেরার পথে টিএসসি এলাকায় লেখক-ব্লগার অভিজিত রায়কে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় যে আটজনকে গ্রেফতার করা হয় তার মধ্যে রয়েছে শফিউর রহমান ফারাবি, সাবেজ আলী, আমিনুল মল্লিক, জুলহাস বিশ্বাস, জাফরান হাসান, আবুল বাশার ও সাদেক আলিম। এছাড়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক তৌহিদুর রহমানও রয়েছেন। কারাগারে রয়েছেন তারা সবাই। আদালতের নির্দেশে তাদের কয়েক দফায় রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কিন্তু সন্দেহভাজন আসামিদের টিআই প্যারেড করানো হলেও কোন সুনির্দিষ্ট ক্লু পাওয়া যায়নি। হত্যায় তাদের সরাসরি অংশ নেয়ার তথ্যও মেলেনি। অভিজিত হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসে স্থানীয় গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন একাধিকবার। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে অভিজিত হত্যাকা-ের বেশ কিছু আলামত ও ডিএনএ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিএনএ ও আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।

তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা অভিজিত হত্যাকা-ে গ্রেফতারকৃত আটজনের প্রসঙ্গে বলেছেন, অভিজিত হত্যায় ওই আটজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া না গেলেও তাদের কাছ থেকে কয়েকজন হত্যাকারীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তিরা গ্রেফতার হলে রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।

গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কাছে দুর্বৃত্তরা চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে অভিজিত রায়কে হত্যা এবং তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে গুরুতর আহত করে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। অভিজিত খুনের পর তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। নিহত অভিজিতের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. অজয় রায় তদন্তের বিষয়ে বরাবরই হতাশা ব্যক্ত করছেন।

যা বলেছেন ডিএমপির মুখপাত্র ॥ কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিএমপির মুখপাত্র মনিরুল ইসলাম বলেছেন, বিজ্ঞান মনস্ক লেখক অভিজিত হত্যায় দু’জন সরাসরি অংশ নেয় এবং এ ঘটনায় সাতজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের খুব দ্রত গ্রেফতার করা হবে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিজিত হত্যার অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে এ কথা বলেন তিনি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, অভিজিত হত্যায় যে দু’জন সরাসরি অংশ নেন তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (বর্তমানে আনসার আল ইসলাম) সদস্য। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। অভিজিত হত্যাকা-ে সংশ্লিষ্ট যেসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে তা উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে এফবিআইয়ের ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল তার রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি। তিনি বলেন, যারা হত্যায় অংশ নিয়েছে তাদের ডিএনএ আমরা সংগ্রহ করে এফবিআইয়ের ল্যাবে পাঠিয়েছি। এছাড়াও এর আশপাশে যারা ছিল তাদেরও ডিএনএ সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এফবিআইয়ের ল্যাব ও সিআইডির ল্যাবের রিপোর্ট মেলানোর পর বোঝা যাবে এ হত্যার সঙ্গে কারা কারা জড়িত ছিল।

এর আগে যা বলেছিলেন ॥ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, তিনি বলেন, ‘অভিজিত হত্যাকা-ের মামলাটি ছিল ক্লু বিহীন। আমরা কয়েকজনকে চিহ্নিত করি। ঘটনা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। যখন শিক্ষিত সমাজ কোন ঘটনা সুপরিকল্পিতভাবে ঘটায় তখন এটা বের করতে সময় লাগে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আমরা ৮ জনকে গ্রেফতার করেছি। ফাহায়াদি ও মান্নান রাহী ঘটনাকে প্ররোচিত করেছিল। এর কয়েকদিন পর ৩ জনের একটি গ্রুপ ঘটনাটি ঘটায়। তবে ঘটনার সময় আরও ৬ থেকে ৭ জন আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ৮ জন ছাড়া আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ভিডিও ফুটেজে তারা নেই। গ্রেফতারকৃতরা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। বর্তমানে ব্লগার ও প্রকাশকদের মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে অভিজিত হত্যাকা-ে বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার।

পহেলা বৈশাখের ঘটনার আংশিক তদন্ত ॥ পহেলা বৈশাখের যৌন হয়রানির ঘটনায় তিনি বলেন, একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কিন্তু আদালত তা না করে মামলাটি আংশিক তদন্ত করার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআইকে) দায়িত্ব দিয়েছে। পিবিআই তদন্ত করছে। তবে তারা যদি তদন্তে সহযোগিতা চায় তাহলে ডিবি সহযোগিতা করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এই কথা জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম।