১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের অবদান!

  • টাইগারদের ‘টিম ইন্ডিয়া’র ধন্যবাদ দেয়া উচিত বলে মন্তব্য কিংবদন্তি কপিল দেবের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ নিউজিলান্ডের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে টি২০ বিশ্বকাপ মিশন শুরু হয় স্বাগতিক ভারতের। সেই দলটি বাংলাদেশের বিপক্ষে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে মহামূল্যবান জয় তুলে নেয়। মূলত টাইগারদের বিপক্ষে ওই জয়েই সেমিফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। পরে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেরা চার নিশ্চিত করে স্বল্প ঘরানার ক্রিকেটের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নরা।

বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে চলমান বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছে ভারত। ম্যাচটির ফলাফল যাই হোক না কেন, টুর্নামেন্টে ভারত যে সাফল্য পেয়েছে তার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব। নিজের লেখা এক কলামে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশ ও বিরাট কোহলির কারণেই এতদূর এসেছে ভারত।

সুপার টেনে ভারতের বিপক্ষে জেতা ম্যাচ নাটকীয়ভাবে হেরে যায় বাংলাদেশ। এটি অনন্তকাল আক্ষেপ হয়ে থাকবে টাইগার ভক্তদের। এ জ্বালা কখনই জুড়ানোর নয়। মনের কোণে স্মৃতিটা উঁকি দিলেই আক্ষেপে জ্বলে-পুড়ে ছারখার হবে হৃদয় মন। ঠিক উল্টো অবস্থা ভারতীয়দের। তাদের জন্য ম্যাচটি শুধু স্মরণীয়ই নয়, স্বস্তিকরও বটে। কেননা ওইদিন মাশরাফি, সাকিবদের কাছে হারলে টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে যেতে পারত ‘টিম ইন্ডিয়া’র। আর তাই, কপিল দেব বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন মনেন্দ্র সিং ধোনির দলকে। ভারতের এই জীবন্ত কিংবদন্তি অলরাউন্ডারের ধারণা, ২৩ মার্চ বেঙ্গালুরুতে হেরে গেলে সেমির আগেই হয়ত দর্শকের ভূমিকাই থাকতে হতো টি২০ বিশ্বকাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নদের।

১৯৮৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব তার এক কলামে লিখেছেন, টি২০ বিশ্বকাপে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ দেয়া উচিত ভারতের। বাংলাদেশ আর অবশ্যই বিরাট কোহলির সৌজন্যে দলটা সেমিফাইনালের টিকেট পায়। বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় দলটাকে প্রয়োজনীয় প্রেরণা দিয়েছে। এরপর থেকে দলটার মনোভাবে যে পরিবর্তন এসেছে, তা যে কেউ বুঝতে পারবে। লাল-সবুজের দেশের বিপক্ষে ভারত যে চাপে পড়েছিল তা অবলীলায় স্বীকার করেছেন তারকা এই অলরাউন্ডার। সে সব স্মরণ করিয়ে দিয়ে কপিল বলেন, বাংলাদেশ হেরে গেলেও এ ধরনের ম্যাচে ১০টার মধ্যে ৯টা দলই জিতবে। তিন বলে ২ রানের সময় ভারত একেবারে হাঁটু গেঁড়ে নতজানু হয়ে ছিল। তবে স্বাগতিক দল কোনরকমে হলেও একটা দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। সেই রাতে হেরে গেলে ভারত হয়ত চটজলদি বিদায় নিত টুর্নামেন্ট থেকে। তাদের মনোবল ভেঙ্গে যেত বলেই মনে হয়।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ আছেন কপিল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ধোনিদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর দল। যে কোন প্রতিপক্ষকেই হারানোর সামথ্য রাখে তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্য টাইগারদের, বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে প্রায় প্রতি ম্যাচেই লড়াই করে হারতে হয়েছে। তবে পেসার তাসকিন আহমেদ ও স্পিনার আরাফাত সানিকে অবৈধ বোলিং এ্যাকশনের দোহাই দিয়ে আইসিসি নিষিদ্ধ করলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। এর নেতিবাচক প্রভাব ভালই পড়ে টাইগারদের পারফর্মেন্সে।

এরপরও বাংলাদেশ যেভাবে লড়াই করেছে তা সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। তাইতো ভারতের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর কপিল বলতে বাধ্য হয়েছিলেন, ‘হেরেও হৃদয় জয় করেছে বাংলাদেশ’। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আরও একবার টাইগারদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার।