২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ

  • সিমন্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ভারত পরাজিত ৭ উইকেটে

মোঃ মামুন রশীদ ॥ বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ছিল সুনসান নীরবতা। স্নায়ুচাপটা ছিল স্বাগতিক ভারতেরই! দু’বার ক্যাচ দিয়েও নাটকীয়ভাবে নো বলের কল্যাণে টিকে যাওয়া লেন্ডল সিমন্সই করেছেন সর্বনাশটা। শেষ পর্যন্ত তার ৫১ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৮৩ রানে ভারতকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৭ উইকেটে বিধ্বস্ত করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফাইনালে উঠে গেছে ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর সে কারণেই হতাশা সঙ্গী করে সেমি থেকেই চলতি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেল ভারতের। প্রথম ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৯২ রানের বড় সংগ্রহ গড়েছিল তারা বিরাট কোহলির হার না মানা ৮৯ রানে ভর দিয়ে। জবাবে ১৯.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৬ রান তুলে জয় পায় ক্যারিবীয়রা। রবিবার ফাইনালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শিরোপা লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ফর্মহীন শিখর ধাওয়ান ও ইনজুরিতে পড়া যুবরাজ সিংকে বাদ দিয়ে আজিঙ্কা রাহানে ও মনিষ পা-ে সুযোগ পান। সমস্যা ছিল ক্যারিবীয় দলেও। ইনফর্ম আন্দ্রে ফ্লেচার ইনজুরিতে, সুযোগ পান সিমন্স। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটাই দারুণ করেছে ভারতীয় দল। মহেন্দ্র সিং ধোনি এদিন টস হারলেও উদ্বোধনী জুটিতে ভারতের ৪৩ বলেই আসে ৬২ রান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেট ৫৫ রান তুলে দারুণ গতিতে এগিয়ে গেছে ভারত। ৩১ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৩ রান করার পর জ্বলে ওঠা রোহিতকে সাজঘরে পাঠান স্যামুয়েল বদ্রি। এর পর রানের গতিটা কমে গেলেও বেশ ভালভাবেই এগিয়ে যেতে থাকে ভারত। রাহানে-কোহলি ৬৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন। ৩৫ বলে মাত্র ২ চারে ৪০ রানের ইনিংস খেলে ফিরে যান রাহানে। এদিনও ফর্মের তুঙ্গে থাকা কোহলির ব্যাটে ছিল রানের ফোয়ারা। কোন ক্যারিবীয় বোলারই তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি। কোহলি টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক হাঁকান। ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটির পথে ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর তা-ব চালান। এদিন সুরেশ রায়নার আগেই ধোনি ব্যাট হাতে নেমে শুধুমাত্র তাকে দারুণ সঙ্গ দিয়েছেন। দু’জন তৃতীয় উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন। কোহলি ৪৭ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২ উইকেটে ১৯২ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ভারত। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ক্যারিবীয়রা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ক্রিস গেইলকে (৫) সরাসরি বোল্ড করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ। আরেক নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলসও (৮) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। এর পরও দারুণ খেলছিলেন চার্লস-সিমন্স। তবে ব্যক্তিগত ১৮ রানে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে বুমরাহকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সিমন্স নো বলের কল্যাণে। দলীয় রান তখন ৪৯! এর পর ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠেন এ দুই ব্যাটসম্যান। তৃতীয় উইকেটে তারা ৬১ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়ে ক্যারিবীয়দের জয়ের আশা জিইয়ে রাখেন। তবে হুট করেই কোহলি বোলিং করতে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন। চার্লস ৩৬ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫২ রান করে ফিরে যান। তবে সিমন্স থামেনি। অবিশ্বাস্য ভাগ্য নিয়ে নেমেছিলেন এদিন। ১৫তম ওভারে হারদিক পান্ডের বলে ক্যাচ আউট হলেও নো বলের জন্য বেঁচে যান আবার। পরের বলেই ছক্কা! শেষ ওভারে কোহলি ছাড়া কোন বোলার ছিল না। প্রয়োজন ৮ রান! আন্দ্রে রাসেল চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে ২ বল বাকি থাকতেই খেলা শেষ করেন। ১৯.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৬ রান তুলে জয় পায় তারা। সিমন্স ৮৩ আর রাসেল ২০ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ রান করে অপরাজিত থাকেন।