১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফাইনালে আরও ভাল খেলার প্রত্যয় ইংলিশদের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ অপ্রতিরোধ্য নিউজিল্যান্ড বরাবরের মতোই ধাক্কা খেয়েছে সেমিফাইনালে। ২০০৭ টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে হেরে সেমি থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার ইংল্যান্ডের কাছে হেরে থেমে গেছে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। অথচ কঠিনতম গ্রুপের সব ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে উঠেছিল কিউইরা। কিন্তু তাদের কোন পাত্তাই দিল না ইংল্যান্ড। অথচ গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে যাত্রা শুরু হয়েছিল ইয়ন মরগানের দলটির। এরপর থেকেই দুরন্ত হয়ে উঠেছে ইংলিশরা। আরেকটি দিনের জন্য জ্বলে ওঠার আত্মবিশ্বাস হয়ে গেছে, রবিবার ফাইনালে প্রতিপক্ষ যেই হোক ফুঁসে ওঠার জন্য দৃঢ় প্রত্যয়ী দলের ক্রিকেটাররা। সেভাবেই প্রস্তুত হচ্ছে সবাই। এমনটাই দাবি করেছেন ইংলিশ ওপেনার জেসন রয়।

২০১০ সালে মাত্র একবারই ফাইনাল খেলেছে ইংল্যান্ড। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া সেই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। কিন্তু এরপর টানা দুই আসরে (২০১২ ও ২০১৪) গ্রুপ পর্বই পেরোতে পারেনি তারা। এমনকি গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় ইংলিশদের। শুধু আইসিসির দুই সহযোগী সদস্য দেশ স্কটল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে হারাতে পেরেছিল তারা। মরগানের জন্য সেটি ছিল দুঃসহ এক যন্ত্রণা, যেই স্মৃতিটা এবার বিশ্বকাপ মঞ্চে উপনীত হওয়ার আগেও ভুলতে পারেননি। কারণ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই তিনি স্থায়ী অধিনায়ক হয়েছিলেন। এবার তাই প্রত্যয় জানিয়েছিলেন দুঃখটা মুছে দেয়ার। ইতোমধ্যেই তা হয়েছে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। প্রথম দল হিসেবে টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা দ্বিতীয়বার জিততে উন্মুখ ইংল্যান্ড। রয় এ বিষয়ে বলেন, ‘যেই হোক আমাদের প্রতিপক্ষ আমরা সবাই জ্বলে উঠেই তাদের মুখোমুখি হব। আমাদের বিষয়ে অনেক মানুষের নেতিবাচক একটি মনোভাব ছিল। আশা করছি ফাইনালে ওঠার কারণে তাদের অনেকেই এখন আমাদের পক্ষে চলে এসেছেন।’

সময়মতো ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলেছেন রয়। সেমিফাইনালে তার ৪৪ বলে ৭৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংসটাই ইংলিশদের সহজ জয় পাইয়ে দিয়েছে।

এছাড়া তিন তরুণ ক্রিকেটার জো রুট, বেন স্টোকস ও জশ বাটলার খেলার ধারাটাই পাল্টে দিয়েছে দলের। এটিকে অধিনায়ক মরগান বলছেন ‘বেপরোয়া’ স্টাইল। আর সেজন্যই চলতি আসরে অন্য যেকোন দলের চেয়ে সর্বাধিক ছক্কা হাঁকানো দলে পরিণত করেছে ইংল্যান্ডকে। কলকাতার বিখ্যাত ইডেন গার্ডেন স্টেডিয়ামে হবে ফাইনাল। বিশ্বের বৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়ামগুলোর একটি যার ধারণক্ষমতা শুরুতে প্রায় ১ লাখ থাকলেও বর্তমানে ৬৮ হাজার। ফাইনাল নিয়ে রয় বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য শুধুই আরেকটি খেলা। হয়তো ইডেনের লাখখানেক দর্শকের সামনে খেলতে হবে। সেটা আমাদের জন্য বিস্ময়কর এক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা সেখানে গিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই উপহার দিতে চাই। আমরা গত বছর থেকে যেই মাত্রার ক্রিকেট খেলছি সেটাই করতে চাই।’

এন্ডি ফ্লাওয়ার ও ডানকান ফ্লেচারদের মনোভাব পুরোপুরি পাল্টিয়ে এখন দলকে ভিন্নভাবে গড়ে তুলেছেন ট্রেভর বেলিস। মরগান-বেলিস সবসময়ই ক্রিকেটারদের একটি উপভোগের মধ্যে থেকে খেলা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি অনুশীলন ফেলে আগ্রায় তাজমহল পরিদর্শনের জন্যও নিয়ে যাওয়ার হয়েছে ক্রিকেটারদের। এসবই ইংলিশ ক্রিকেটে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।