২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাফুফেকে শেখ জামালের চিঠি

  • আট খেলোয়াড় ফেরত চেয়ে খেলার জন্য আবেদন

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বুধবার বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছিলেন, ‘শেখ জামাল যেহেতু এই আসরে খেলতে চেয়ে আমাদের কাছে লিখিতভাবে কোন আবেদন করেনি, তাছাড়া টুর্নামেন্টের গ্রুপিং ড্র ও ফিক্সচার যেখানে চূড়ান্ত হয়ে গেছে, সেখানে তাদের আর অংশ নেয়ার সুযোগ নেই।’ তাহলে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে, গ্রুপিং ড্র হওয়ার পরও আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ কিভাবে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে খেলার সুযোগ পায়? ফুটবলপ্রেমীদের কাছে একটাই প্রশ্নÑ কেন বার বার বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন দল শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের সঙ্গে? তাহলে তারা কি হীন ষড়যন্ত্রের শিকার?

সালাম মুর্শেদীর উপরোক্ত বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সচেতন ফুটবলমোদিরা বলছেন, শেখ জামাল দেশের শীর্ষ পর্যায়ের একটি ক্লাব। তাদের কেন টুর্নামেন্টে খেলার জন আবেদন করতে হবে? তারা তো এমনিতেই খেলবে। বরং বাফুফের উচিত ছিল তাদের আমন্ত্রণ জানানো। যাহোক, বাফুফের সিনিয়র সভাপতি যখন নিয়মের কথা বলেছেন, তখন নিয়ম মেনেই শেখ জামাল ধানম-ি বৃহস্পতিবার বাফুফের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলতে চায়। তবে অবশ্যই তাদের দাবি অনুযায়ী আট ফুটবলারকে নিয়ে।

এ প্রসঙ্গে শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদের বলেন, ‘শেখ জামাল সবসময়ই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়ে। এবারও কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে দলগঠন করা হয়েছে। আনা হয়েছে বিদেশী ফুটবলার। আমরা কখনই বলিনি স্বাধীনতা কাপে খেলব না। তবে আমাদের আট ফুটবলারকে যেভাবে অন্যায়ভাবে অন্য তিন ক্লাবে দিয়ে দেয়া হয়েছে, তা সংশোধন করে আবারও আমাদের কাছে সেসব খেলোয়াড় ফিরিয়ে দিলেই আমরা খেলব।’

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে অংশ নেয় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সে দলের সিংহভাগ ফুটবলারই ছিলেন শেখ জামালের। বাফুফে শেখ জামালের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে আট খেলোয়াড় ক্যাম্পে নিয়ে যায়Ñ বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ শেষ হওয়া মাত্রই ওই খেলোয়াড়দের আবারও শেখ জামালে ফিরিয়ে দেয়া হবে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সেই ওয়াদার বরখেলাপ করে দেশীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাদের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে-মদদে ওই আট ফুটবলারকে উঠিয়ে দেয়া হয় তিনটি ক্লাবের (চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড, ঢাকা আবাহনী লিমিটেড এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড) গাড়িতে। অথচ তখনও শুরুই হয়নি নতুন মৌসুমের দল বদল। স্বভাবতই খেলোয়াড়রা তখনও ছিলেন শেখ জামালের। তাদের এভাবে ফুসলিয়ে বা ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় ফুটবলাঙ্গনে। ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করে শেখ জামাল। কিন্তু বাফুফে তাদের কোন সাহায্যই করেনি। বরং শেখ জামাল ও শেখ রাসেলকে বাদ দিয়ে আয়োজন করে ‘শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’!

এসব কিছুর প্রতিবাদ করায় শেখ জামালের সভাপতি মনজুর কাদেরকে ‘শোকজ’ করা হয়। বাফুফের এমন আচরণ অব্যাহত থাকায় নিজেদের আট ফুটবলারকে ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয় শেখ জামাল। ইতোমধ্যেই আদালত বাফুফেকে নির্দেশ দিয়েছে আট ফুটবলারকে শেখ জামালে ফেরত পাঠানোর। কিন্তু বাফুফে সেটা না করে বরং আদালতের সেই আর্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। আট ফুটবলারের বিষয়ে এখন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী রবিবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের অভিমতÑ বাফুফের একটি কুচক্রী মহল শেখ জামালকে ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা এখন দেশের ফুটবল নয়, ব্যস্ত আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচনে জিততে না পারলে তো শেখ জামালকে ‘সাইজ’ করা যাবে নাÑ এটা তো এখন পাগলও বোঝে! ২০১০ সালে ধানম-ি ক্লাবটি শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব নামে আত্মপ্রকাশ করে। তারা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। মোট তিনবার লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ২০১৩ সালে আটবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপ জয় করে ক্লাবটি (মোট শিরোপা তিনটি)। ২০১০ সাল থেকে টানা চার বছর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলে তারা। দেশের বাইরে নেপালে ২০০০ সালে ক্লাব বুদ্ধ সুব্বা গোল্ডকাপ জয় করে। ২০১১ সালে নেপালে সাফাল পোখারা কাপ টুর্নামেন্টের ফাইনালে শেখ জামাল নেপাল আর্মিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে ভারতের কলকাতায় আইএফএ শিল্ড কাপের ফাইনালে উঠে শেখ জামাল। ফাইনালে কলকাতা মোহামেডানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। ওই বছরই ভুটানে অনুষ্ঠিত কিংস কাপে হয় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন। শুধু পুরুষ ফুটবলেই নয়। শেখ জামাল সাফল্য পেয়েছে মহিলা ফুটবল দিয়েও। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম পেশাদার মহিলা ফুটবল লীগেও চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাক লাগিয়ে দেয় ক্লাবটি; যা একটি মাইফলক, একটি ইতিহাস। অথচ বাফুফের এক শ্রেণীর কর্তাদের কুটিল ষড়যন্ত্রে ক্লাবটি হিমশিম খাচ্ছে।