২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হিউম্যান মাল্টিটাস্কিং এবং নারীর উচ্চশিক্ষা ভিত্তি

  • শায়লা শারমিন ঈশিতা

‘হিউম্যান মাল্টিটাস্কিং’ এবং ‘কম্পিউটার মাল্টিটাস্কিং’ হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট সময়ে একাধিক কাজ সম্পাদন করা। আমাদের মস্তিষ্ক প্রথমে সাজিয়ে নেয় যে, সে কোন কাজটির পর কোনটি করবে। তারপর সময় অনুসারে একের পর এক কাজগুলো সম্পাদন করে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই খুব সাধারণ একটি ঘটনা। আমরা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে বাকি সময়টা মাল্টিটাস্কিং করি।

হিউম্যান মাল্টিটাস্কিং নারী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। একজন খুব সাধারণ নারীর সাধারণ জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে দেখি সে সকালে উঠছে, নিজেকে পরিচ্ছন্ন করছে, বাচ্চাদের স্কুলের জন্য তৈরি করছে, পরিবারের জন্য প্রতিবেলার খাবার রান্না করছে, পরিবারের কোন সদস্য কি পছন্দ করে তা লক্ষ্য রাখছে, ঘর প্রতিদিন পরিষ্কার করা এবং গোছানোও তারই কাজ। আবার দিন শেষে বাচ্চাদের হয়ত পড়াতেও হচ্ছে। আপাত দৃষ্টিতে খুব সাধারণ কিছু কাজ মনে হতে পারে, সবার তাই মনে হয়। কিন্তু এসব কাজগুলোকে আরও বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে যে একের পর এক এই কাজগুলো শুধু শিরোনাম মাত্র।

যেমন ধরি আজ সকালে একজন নারী তার পরিবারের জন্য সকালের নাস্তা তৈরি করবেন। এই কাজটি সম্পাদন করতে প্রথমে তাকে পরপর কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। স্বভাবতই তিনি ভাববেন নাস্তা তৈরির জন্য তার বাড়িতে কি কি আছে, তারপর সেগুলো দিয়ে কি কি নাস্তা তৈরি হতে পারে, পরিবারের কে কি খেতে চাইবেন। সিদ্ধান্ত নেয়া হলে তাকে সেই অনুযায়ী পরপর কিছু টাস্ক শেষ করতে হবে। এমনই এক একটা শিরোনামের পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের এবং শরীরের একাধিক টাস্ক। সুতরাং, আমরা মাল্টিটাস্কিংয়ের সঙ্গে খুব পরিচিত। কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় যখন আমরা ভাবতে যাই যে ঘরে বাইরের দুই জায়গাতেই আমাদের সমান মনোযোগ দিতে হবে। বেশিরভাগ নারী সংসার সামলিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ভয় পান। ভয় পান সমাজের কটাক্ষ করে করা আক্রমণকে। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে তাকে আগে ভাবতে হবে তার জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি একজন পরিপূর্ণ মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য কখনোই ছকে বাধা জীবন নিয়ে ঘরবন্দী হয়ে থেকে যাওয়া হতে পারে না। আর তার জীবনের উদ্দেশ্য যাই হোক তা পূরণে একমাত্র সহযোগী হচ্ছে উচ্চশিক্ষা। সংসারী হবার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা সহজ নয় ঠিক, কিন্তু মোটেও অসম্ভব নয়। আমাদের ভাবতে হবে কষ্টের ফল কিভাবে আমাদের জীবন, চিন্তা-চেতনা এবং পারিপার্শ্বিক সকল ব্যাপারে আমূল পরিবর্তন আনবে। কিভাবে এই কষ্টই আমাদের পরবর্তী জীবনের নিশ্চয়তার কারণ হবে, আমাদের শক্তি হবে। যদি সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে একবার শুরু করা যায় তবে এটুকু নিশ্চয়তা পাওয়াই যায় যে, কোন না কোনভাবে আমাদের মস্তিষ্ক এই মাল্টিটাস্কিং-এ অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারবে।