২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কক্সবাজারে কলেজ ছাত্রী হাসিনার ঘাতক প্রকাশ্যে ঘুরছে

কক্সবাজারে কলেজ ছাত্রী হাসিনার ঘাতক প্রকাশ্যে ঘুরছে

স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজার সরকারী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ৩য় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী হাসিনা আকতার হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। হত্যাকান্ডের ৭২ ঘন্টায়ও কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো হত্যার শিকার হাসিনা সম্পর্কে মিথ্যাচার ও অপবাদ দিচ্ছে আসামীরা। ‘ঘাতক’ স্বামী ইয়াছিন আরফাত নিজেকে চৌফলদন্ডী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক দাবী করে হত্যা মামলা থেকে নিজেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত হাসিনার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, হত্যা মামলার প্রধান আসামী পাষন্ড স্বামী আরাফাত ছাড়াও জাহেদুল ইসলাম এবং রেবেকা বেগমকেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। মামলার বাদী নিহত কলেজ ছাত্রী হাসিনার বড়ভাই জাকির হোসেন বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার সদর চৌফদন্ডী মধ্যম মাইজপাড়ার মোস্তাক আহমদের পুত্র ইয়াছিন আরাফাতের সঙ্গে হাসিনার বিয়ে হয়। বিয়ের আগে বরের চাহিদা মতো মোটর সাইকেল, ফুলসেট ফার্নিচার ও ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু বিয়ের পর আবারও ৫ লাখ টাকা দাবী করে বর ইয়াছিন আরাফাত হাসিনাকে অনেকবার শারীরিক মানসিক নির্যাতন করেছে। বিয়ের পর এক মাসে অন্তত দশবার মারধর করেছে হাসিনাকে। পারিবারিক অর্থ দৈন্যতায় এ খবর মা-বাবাকে বলেনি হাসিনা।

এরপরও স্বামীর বর্বর নির্যাতন সহ্য করে সংসার জীবনের সুখ খোঁজেছিল হতভাগী হাসিনা। কিন্তু না, পাষন্ড স্বামী থামেনি। যৌতুক দাবীতে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে যৌতুকের দাবী মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৯ মার্চ হাসিনাকে কৌশলে হত্যা করে ‘আত্মহত্যা’ প্রচার করতে হাসিনার নিথর দেহ ঝুলিয়ে রাখা হয় ঘরের চালের সঙ্গে। নিহত হাসিনা কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন নাপ্পাজা পাড়ার মৃত আব্দুল মোনাফের মেয়ে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মোঃ আসলাম হোসেন জানান, ঘাতক স্বামীসহ আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।