১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

‘তনুর প্রকৃত হত্যাকারীদের বাঁচাতে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা হচ্ছে’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তনুর প্রকৃত হত্যাকারীদের বাঁচাতে জজ মিয়া নাটক সাজানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশে কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। শুক্রবার তনু হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মসূচীতে এ অভিযোগ করেন নেতৃবৃন্দ।

তনু হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবিতে সিপিবি শান্তিনগর শাখার আহ্বানে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিনগর কাঁচাবাজারের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নারীনেত্রী শাম্মী আরা সাথী এবং সমাবেশ পরিচালনা করেন নারী নেত্রী অনিন্দা সাহা তুলতুল। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার প্রধান সড়কসমূহ প্রদক্ষিণ করে। সমাবেশে শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনতা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তব্য রাখেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জলি তালুকদার, হযরত আলী, ত্রিদিব সাহা, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, সাংবাদিক ও নারীনেত্রী মণ্টি বৈষ্ণব, লাকী আক্তার, মঞ্জুর মঈন প্রমুখ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কার্যকরি সভাপতি, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা সাদেকুর রহমান শামীম; ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সেন গুপ্ত, সিপিবি পল্টন থানার সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত প্রমুখ।

জলি তালুকদার বলেন, ‘আমাদের বোন তনু যখন ধর্ষণ এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, তখন সারাদেশের বিবেকবান মানুষ এমন নৃশংস ও বর্বরতার বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমে এসেছে। আমরা দেখলাম ঘটনার এতদিন পরেও দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় নাই। আমরা আরো দেখলাম তনুর পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের নামে আরেকটা জজ মিয়া নাটক রচনার পায়তারা চলছে। তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের নিরবতা এবং প্রশাসনের এসব অপতৎপরতা দেখে দেশের মানুষের মনে আজ আশংকা সৃষ্টি হয়েছে যে, কোন শক্তিশালী গোষ্ঠীকে রক্ষা করার চক্রান্ত চলছে।’

নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘শুধু মাত্র তনু হত্যার বিচার নয় বরং দেশে আজ যে বিচারহীনতার সংষ্কৃতি চালু হয়েছে তার অবসান হওয়া জরুরী।’ তিনি বলেন ‘একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন-নিপীড়ন এর ক্ষেত্রে দোষীদের চিহ্নিত করা এবং বিচারের ক্ষেত্রে সীমাহীন ব্যর্থতার জবাব সরকারকে দিতে হবে। তনু’র জন্য দেশে আজ যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে তা জনতার উপর, নারীর উপর, শ্রমিকের উপর চলমান জুলুমের বিরুদ্ধে জাগরণ। সরকার যদি জনতার ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়, তবে জনতার জাগরণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।’

বক্তারা বলেন, সরকার একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের কোনো কুল কিনারা করতে পারছে না। পহেলা বৈশাখে ঘটা ব্যাপক যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কাউকে বিচারের সম্মুখীন করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় চরম ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় তাকে অপসারণ করতে হবে। সমাবেশ থেকে সারাদেশে চলমান গণজাগরণে সম্পৃক্ত সকল মানুষকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং এই সংগ্রামে শান্তিনগরবাসী সর্বাত্মকভাবে থাকবে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।