২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্র্যাকের দু’কর্মকর্তার অপহরণের দায় বন্দুকধারীরা স্বীকার করলেও উদ্ধার হয়নি

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা ॥ আফগানিস্তানে অপহৃত দুই ব্র্যাক কর্মকর্তার অপহরণের দায় স্বীকার করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। আফগান ব্র্যাক অফিসে ফোন করে অপহরণের দায় স্বীকার করেছে বন্দুকধারীরা। তবে এখন পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছে।

ব্র্যাক ঢাকা অফিসের মুখপাত্র অপহৃতদের স্বজনদের জানিয়েছেন উদ্ধার প্রচেষ্টা পজেটিভলি এগোচ্ছে। ব্র্যাকের এ কথায় আস্বস্ত হতে পারছেন না অপহরণের স্বীকার সিরাজুল ইসলাম সুমন ও ইঞ্জিনিয়ার হাজী শওকত আলীর পরিবার। অপহরণের ঘটনা জানার পর থেকেই শুরু দু’পরিবারের কান্না যেন এখনও থামছে না।

অপহৃত ইঞ্জিনিয়ার হাজী শওকত আলীর ভাই মোহাম্মদ আলী বাবলু জানিয়েছেন ব্র্যাক চিফ পিপুলস অফিসার মুনমুন সালমা চৌধুরীর সাথে তার বার বার যোগাযোগ হয়েছে। তিনি দু’দিন আগে জানিয়েছেন অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা আফগান ব্র্যাক অফিসে ফোন করে অপহরণের দায় স্বীকার করেছে। তাদের উদ্ধার পজেটিভলি এগোচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তবে বন্দুকধারীরা মুক্তিপণ দাবী করেছে কিনা তা তিনি স্পষ্ট করেননি। তাদের এ কথায় আস্বস্ত হতে পারছেন তারা। ইঞ্জিনিয়ার শওকত আলীর ৯০ বছরের ক্যান্সারে আক্রান্ত বৃদ্ধা মা মোছাঃ রওশন আরা বেগম ছেলের অপহরণের খবর শুনে বিছানায় শয্যাশায়ী। তিনি শুধুই ছেলের নাম ধরে প্রলাপ বকছেন। শওকত আলীর মেয়ে আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্রী ফাতেমা তুজ জোহরা লাবনী জানিয়েছেন ব্র্যাক কর্মকর্তাদের কথাতে তারা কোন ভরসা পাচ্ছেন না। প্রতি মুহুর্ত তাদের কাটছে অজানা আশঙ্কায়। অপর অপহৃত ব্র্যাক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলামের বাড়িতেও আহাজারী চলছে। বৃদ্ধ মা শাহনাজ পারভীন বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। স্ত্রী লতা খাতুন বাকরুদ্ধ হয়ে পরেছেন। সিরাজুল ইসলামের চাচাত ভাই খালেক খান জানিয়েছেন ব্র্যাক ঢাকা অফিস থেকে ভাবীকে কয়েকবার ফোন করে শুধু আল্লাহ আল্লাহ করতে বলেছেন। তাদের ফোন কোন পুরুষ সদস্য ধরলে তারাতারি কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন। এদিকে অপহৃত দু’পরিবারের স্বজনরা তাদের উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন জানিয়েছেন। উল্লেখ্য ১৭ মার্চ আফগানিস্তানের কুন্দজ থেকে বানশাল যাবার পথে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা ব্র্যাকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম ও ইঞ্জিনিয়ার হাজী শওকত আলীকে অপহরণ করে। সিরাজুল ইসলাম সুমন পাবনা সদর থানার দুবলিয়া গ্রামের এজেম উদ্দিনের ছেলে। অপর অপহৃত হাজী শওকত আলী জেলার ভাঙ্গুড়া থানার হাঙড়াবাড়ী গ্রামের মৃত মোস্তাক হোসেনের ছেলে। তার পরিবার ঢাকার উত্তরার আজমপুরে বসবাস করেন।