১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লক্ষ্মীপুরে গণধর্ষণের শিকার একই পরিবারে দু’বোন

লক্ষ্মীপুরে গণধর্ষণের শিকার একই পরিবারে দু’বোন

নিজস্ব সংবাদদদাতা, লক্ষ্মীপুর ॥ লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে একই পরিবারের সহোদর দু’বোন কে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে দুই বোনকে ধর্ষণের ঘটনায় কমলনগর থানায় পৃথক দুইটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৯মার্চ মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজারের পাশের একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে দু’বোন গণধর্ষন করে দূর্বৃত্তরা। কমলনগর থানায় পৃথক দু’টি ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীরা হচ্ছেন, কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা মৃত ইস্রাফিলের ছেলে মোঃ খোকন, একই এলাকার মৃত সোলেমানের ছেলে মোঃ সিরাজ। অন্য আসাসীরা হচ্ছেন, ওই এলাকার ইসামাইল হোসেনের ছেলে মোঃ ইউছুফ ও মৃত হোসেন আহাম্মদের ছেলে মোঃ আবদুল করিমসহ অজ্ঞাত আরো এক আসামী।

ধর্ষিতাদের দু’জনের মধ্যে বড় বোন (১৬) জনকণ্ঠকে জানায়, একই গ্রামের পার্শ্ববর্তী মোঃ খোকন তাকে প্রেমের অভিনয়ে বিভিন্ন প্রলোভ দেখায়। এক পর্যায়ে ২৯ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে খোকন তার বাড়িতে আসে। রাতে আধাঁরে তাঁকে ঘর থেকে বের হতে বলে। সে একা ঘর থেকে বের হবে না বলার পর ছোট বোনকে সঙ্গে আনতে বলে। দু’বোন ঘর থেকে উঠানে বের হয়ে আসার পর ৪/৫জন যুবক তাদের দু’বোনের মুখ বেঁধে পাশ্ববর্তী একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির পুকুর পাড়ে রেখে রাতভর জোরপুর্বক তাঁদের ধর্ষণ করে। ধর্ষিত দু’বোরের মধ্যে ছোট বোন (১৪) জানায়, খোকনের চাচাতো ভাই সিরাজ আমার গলায় ধারালো ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষক খোকন ও সিরাজের বন্ধু ইউছুফ এবং আবদুল করিমও আমাদের ওপর উপর্যুপরি পাশবিক নির্যাতন করে। ধর্ষিতাদের বিধবা মা জানান, রাতে আমি ঘুমে ছিলাম। লম্পট খোকন, সিরাজসহ কয়েকজন মিলে আমার দু’ কিশোরী মেয়েকে তুলে নিয়ে জোরপুর্বক উপর্যুপরি রাতভর ধর্ষণ করে। সকালে স্থানীয়দের সহযোগীতায় একটি কলাবাগান থেকে তাদের অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করি। বিষয়টি স্থানীয় নব নির্বাচিত মেম্বার আবদুর রহিম দুলাল মাঝিকে জানালে তিনি মিমাংসা করবেন বলে আশ্বাস দেন এবং মামলা না করার জন্য পরামর্শ দেন। পরিশেষে প্রতিকার না পেয়ে পুলিশে অভিযোগ করি।

ধর্ষিতাদের ভাই এবং অপর স্থানীয়রা জনকণ্ঠকে জানান, অভিযুক্তরা নব নির্বাচিত ইউপি মেম্বার আবদুর রহিম দুলাল মাঝির চাচাতো ভাই এবং নিকটতম আত্মীয়, সে জন্য মিমাংসার নামে কালক্ষেপন করে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে অপচেষ্টা করা হয়েছে। নব নির্বাচিত ইউপি মেম্বার আবদুর রহিম দুলাল মাঝি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সত্য নয়। আমি ধর্ষিতাদের উপকার করতে চেষ্টা করেছি, ক্ষতি নয়। এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির আহাম্মদ জনকণ্ঠকে জানান, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দু’বোন ধর্ষিত হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদেরকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বিকেলে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে। আসামীদের পাকড়াও করতে পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ নিয়ে এলাকায় জনমনে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অবিলম্বের দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্ত শাস্তির দাবী করেছে এলাকাবাসী।