২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সামরিকায়ন বন্ধে বেজিংকে চাপ ॥ দক্ষিণ চীন সাগর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরমাণু অস্ত্র হ্রাস নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ৫০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতার সঙ্গে সমবেত হন। কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম বন্ধুপ্রতীম শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠকই অনেক বেশি মনোযোগ আকর্ষণ লাভ করে। খবর নিউইয়র্ক টাইমস অনলাইনের।

নেতৃবৃন্দ ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন এপ্রিলের শেষ দিকে এক জলবায়ু পরিবর্তন চুক্তি সই করবে। এটি হবে দুটি দেশের জটিল সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন এক ইস্যুতে মতৈক্যের এক বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু তারা দ্রুত আরও বিরোধপূর্ণ ইস্যুগুলোর দিকে দৃষ্টি দেন। ওবামা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সামরিক স্থাপনা নিয়ে শির ওপর চাপ দেন। এ তৎপরতা ওই জলরাশিকে সামরিকায়ন না করতে গত শরৎকালে চীনা প্রেসিডেন্টের দেয়া প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে বলে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।

ওই বৈঠকের আগে ওবামা শি জিনপিংকে বলেন, চীন ও অন্যান্য দেশের মতো এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রয়েছে। এটিই ছিল পরমাণু নিরাপত্তা সম্মেলনে আগত কোন সফররত নেতার সঙ্গে ওবামার একমাত্র বর্ধিত বৈঠক। শীর্ষ সম্মেলন শুক্রবার শেষ হয়েছে।

জবাবে শি বলেন, আমাদের দুটি দেশের মধ্যে কিছু বিরোধপূর্ণ বিষয় ও মতানৈক্য রয়েছে। তিনি ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল ধারণা পরিহার করতে এবং একে অপরের মূল স্বার্থের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান। এটি ছিল দক্ষিণ চীন সাগরে হস্তক্ষেপ না করতে ভদ্র ভাষায় জানানো এক সতর্কবাণী এ সাগরে চীনের অন্যতম মূল স্বার্থ নিহিত বলে বেজিং মনে করে থাকে। চীনের প্রতিবেশীরা সাগরের শৈলশ্রেণী ও চড়ার প্রতি চীনের দাবির বিরোধিতা করছে। চীন বিশ্বের অন্যতম সামরিক গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথে ঔপনিবেশন স্থাপন করছে বলে তাদের আশঙ্কা। সমুদ্রপথ যাতে বাধামুক্ত থাকে তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখান নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠায়, কিন্তু এতে চীনা যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধার ঝুঁকি দেখা দেয়। সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন সফরকালে জি চীন দক্ষিণ চীন সাগরে অস্ত্রসজ্জা করবে না বলে ঘোষণা দেন। কিন্তু তখন থেকেই চীন এর মূল ভূখ- থেকে শত শত মাইল দূরের শৈলশ্রেণী ও নতুন করে নির্মিত দ্বীপগুলোতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ও সামরিক রাডার বসিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-উপদেষ্টা বেঞ্চামিন জে রোডস বলেন, দক্ষিণ চীন সাগরের সামরিকায়ন না করার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব ঘটনা ও খবর আমাদের চোখে পড়েছে। শি ও ওবামা উত্তর কোরিয়ার সৃষ্ট পরমাণু হুমকি মোকাবেলার ক্ষেত্রেই অধিকতর মতৈক্যে পৌঁছান। চীন পিয়ংইয়ং সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ সমর্থন করে। উত্তর কোরিয়া পরমাণু পরীক্ষা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। বৈরী প্রতিবেশী উত্তর কোরিয়ার হুমকির মুখে আমেরিকার মিত্রদের পুনরায় আশ্বস্ত করতে ওবামা জাপানের প্রধানমন্ত্রী জিনজো আবে ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পাক জিউন হাইয়ের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। এতে পরমাণু নিরাপত্তা প্রশ্নে অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় না। কারণ তার দেশের হাতে বিশাল পরমাণু অস্ত্রভা-ার রয়েছে। গত সপ্তাহে বেলজিয়ামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলাও সমাবেশের ওপর ছায়াপাত করে। বিশেষত ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধারা তথাকথিত কোন তেজষ্ক্রিয় বোমা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করতে কোন পরমাণু স্থাপনায় অনুপ্রবেশ করতে চাচ্ছে বলে খবর বেরনোর পর উদ্বেগ দেখা দেয়। সিরিয়া ও ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধ থাকায় পুতিনের অনুপস্থিতি অপ্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু হোয়াইট হাউস উল্লেখ করে যে, রাশিয়া তবুও পরমাণু প্রশ্নে সহযোগিতা করেছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচী হ্রাস করার আলোচনায় রাশিয়ার ভূমিকা খাটো ছিল না। (ইরানকে শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি)।

রোডস বলেন, রাশিয়া পরমাণু নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনায় আসুক তা আপনারা চান। তারা এরূপ সম্মেলনে যোগ না দিয়ে নিজেদেরই বিচ্ছিন্ন করেছে মাত্র। Ñনিউইয়র্ক টাইমস।