২১ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিরীহ মানুষ হত্যা

গত বছরের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল ব্লগার তথা তরুণ মুক্তচিন্তকদের ওপর বর্বর জঙ্গী আক্রমণ। জঙ্গীরা একের পর এক হত্যাকা- ঘটিয়েছে। সন্দেহভাজন ক’জনকে গ্রেফতার করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বিশেষ অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। তবে বছর শেষে দেশের ব্লগার হত্যা মামলার প্রথম রায় ঘোষণার বিষয়টি মানুষের জন্য ছিল স্বস্তিদায়ক। সফরকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেসামরিক নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ডক্টর সারাহ সুয়ল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ দমনে আমাদের সংগ্রাম’ শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন। সে বক্তৃতায় তিনি অভিমত প্রকাশ করে বলেছেনÑ ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে জঙ্গী বা সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে আমরা দেখেছি, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে সেখানে জঙ্গী বা সন্ত্রাসবাদ ঠাঁই পায়নি।’

বাংলাদেশে একের পর এক মুক্তচিন্তকের হত্যায় সমাজে মুক্তচিন্তা প্রকাশের পথ যে বিপন্ন হয়ে উঠেছে তাতে সংশয় প্রকাশ করা চলে না। পক্ষান্তরে নানা নামে ও চেহারায় সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে সম্প্রতি নিরীহ মানুষ ও ব্লগার হত্যার বিষয়ে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির বিশ্লেষণ তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি যথার্থই মন্তব্য করেছেনÑ এসব হত্যা শুধু বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আক্রমণ নয়, এটা বাংলাদেশের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও মুক্তমতের প্রতিও আক্রমণ।

এটা ঠিক যে, জঙ্গীবাদ এখন আর কোন একটি বা নির্দিষ্ট কিছু দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন এক বৈশ্বিক সমস্যা। তাই তার সমাধানও করতে হবে বৈশ্বিকভাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গীবাদ দমনে যে পদক্ষেপ গ্রহণে করেছে তাতে অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও একযোগে কাজ করছে। মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির বক্তব্যের ভেতর দিয়ে এটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে রাষ্ট্র ও মানুষের সংগ্রামের পক্ষে রয়েছে আমেরিকা।

মুক্তচিন্তার বিপক্ষ শক্তি মৌলবাদ, জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা। আজকে যারা মুক্তচিন্তক ও মুক্তচিন্তার পক্ষের মানুষগুলোকে অপমান করছে, হত্যার হুমকি দিচ্ছে তারা কোনভাবেই মানবতাবাদ, সমাজের সুস্থতা ও রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অনুসারী হতে পারে না। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ আজ সময়ের দাবি। আমরা আগেও জোরালোভাবে উচ্চারণ করেছি বাংলাদেশের ওপর মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ ছায়া বিস্তার করে চলেছে। তারা অন্ধকারের প্রাণী, আলোতে তাদের ভয়। যুক্তিবুদ্ধির ধার তারা ধারে না। তাদের কাছে মানবতন্ত্র নয়, বড় হলো চাপাতিতন্ত্র। লেখার জবাব যারা লেখা নয়, চাপাতির মাধ্যমে দিয়ে থাকে তারা রাষ্ট্রের আইন মানে না। তাই রাষ্ট্রকে উদ্যোগী হয়ে তাদের অপতৎপরতা রোধ করতে হবে। শেকড়সুদ্ধ তাদের উপড়ে ফেলা চাই সভ্যতার স্বার্থে। তা না হলে এরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে জঙ্গলে পরিণত করে ছাড়বে। মুক্তমনা অভিজিত-ওয়াশিকুর-অনন্ত-নিলয়সহ প্রতিটি হত্যাকা-ের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা জরুরী। সময় এসেছে জঙ্গীবাদ মৌলবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোর। জঙ্গীবাদ প্রতিরোধে তরুণ সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন ডক্টর সারাহ সুয়ল। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে তা দমন করা সহজ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দেশের প্রতিটি এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের আলোয় স্নাত তারুণ্য শক্তির সতর্ক সজাগ থেকে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কোন বিকল্প নেই, এ কথা জনকণ্ঠ বার বার বলে আসছে।