১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্যাটিংয়ের দুঃখ ঘুচাবেন মরগান

মোঃ মামুন রশীদ ॥ ইতিহাস কি রহস্য আর বৈচিত্র্যময়! ২৯ বছর পেরিয়ে গেছে, ১৯৮৭ সালের ৮ নবেম্বর, রবিবার। ভেন্যু- ইডেন গার্ডেন। দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। কিন্তু ভাগ্যের শিকেটা সেবারও ছিঁড়েনি মাইক গ্যাটিংয়ের দলটির। শিরোপা জিতে নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ হতে চলল আবারও সেই ঐতিহাসিক ইডেনেই আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলতে নামছে ইংলিশরা। ৩ এপ্রিল- সেই ইডেন, আশ্চর্যজনকভাবে এবারের দিনটিও রবিবার। এবার গ্যাটিংয়ের দুঃখটা ঘুচাতে পারবেন ইয়ন মরগান। সেদিন দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিততে পারেননি গ্যাটিং। দারুন ব্যাটিং করছিলেন, কিন্তু একটা রিভার্স সুইপ করতে যাওয়াটাই কাল হয়েছিল। অসি অধিনায়ক এ্যালান বোর্ডারের বলে সাজঘরে ফিরেছিলেন। ওয়ানডে বিশ্বকাপ আর জেতাই হয়নি ইংল্যান্ডের। তবে ক্ষুদ্রতম ফরমেটের ক্রিকেট টি২০ আসরে ২০১০ সালেই শিরোপা জিতেছে তারা। দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতার সুযোগ তাদের সামনে। এবার অবশ্য প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফরমেটটাও আলাদা। কিন্তু লড়াইয়ের মঞ্চ অভিন্ন এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ। এবার সেই ইতিহাস পাল্টাতে পারবেন মরগান?

মরগানের জন্যও অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ এবারের বিশ্বকাপটা। কারণ গত বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঠিক আগেই হুট করে দায়িত্ব পেয়েছিলেন দলের। সেই দায়িত্বটার শুরুতেই বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে তাকে ঠেলে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত হতাশা নিয়ে ফিরতে হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়ে। দুই সহযোগী সদস্য দেশ আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে পারলেও টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে দুর্বলতম বাংলাদেশের কাছে পরাজয় দেখতে হয়েছিল। এবার সে কারণে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে আসার আগেই মরগান জানিয়েছিলেন ওয়ানডে বিশ্বকাপের ক্ষত ঢাকতে চান তিনি। সেই ক্ষতটা অনেকখানিই শুকিয়ে গেছে হয় তো মরগানের। কারণ দুই আসর পর (২০১২ ও ২০১৪) আবারও টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। ফরমেট আলাদা হলেও ভেন্যুটা ইডেন বলেই ইতিহাস কড়া নাড়ছে ইংলিশ শিবিরের দ্বারে।

১৯৮৭ সালের তৃতীয় ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মধ্যে। কানায় কানায় পূর্ণ ইডেনে এ্যালান বোর্ডারের অস্ট্রেলিয়া ২৫৩ রানের সংগ্রহ গড়ে। দারুণ জবাবই দিচ্ছিল ইংলিশরা। ৩১ ওভারেই ২ উইকেটে ১৩৫ রান তুলে ফেলেছিল তারা। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক গ্যাটিংয়ের সঙ্গে ৬৯ রানের দারুণ জুটি গড়ে তুলেছিলেন বিল এ্যাথি। শেষ পর্যন্ত জুটি ভাঙ্গতে বল হাতে নেন বোর্ডার নিজেই। বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিন করা বোর্ডারের প্রথম বলটিই ছিল লেগ স্টাম্পের বাইরে। কিন্তু রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ব্যাটের ওপরের অংশে লাগে গ্যাটিংয়ের। ক্যাচ চলে যায় উইকেটরক্ষক গ্রেগ ডায়ারের হাতে। ৪৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ রান করে সাজঘরে ফেরেন গ্যাটিং। পরে এ্যালান ল্যাম্ব চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু জিততে পারেনি ইংলিশরা। মাত্র ৭ রানে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে আত্মাহুতি দেয়ার সেই কষ্টটা পরে কুরে কুরে খেয়েছে গ্যাটিংকে। কারণ সে সময় এ ধরনের ব্যাটিং খুব বিরল ছিল। রিভার্স সুইপ কালেভদ্রে করতে দেখা যেত ব্যাটসম্যানদের। এ কারণে অনেকে গ্যাটিংকে ওই শটটির জন্য দুষেছিলেনও। দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভঙ্গ হওয়া ইংল্যান্ড আর পারেনি এখন পর্যন্ত। আবারও সেই ইডেন। এবার ইংল্যান্ডের ২৯ বছর আগের সেই আক্ষেপ ঘুচানোর ভার মরগানের কাঁধে।

বর্তমান সময়ে ক্রিকেটে রিভার্স সুইপ খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। বিশেষ করে টি২০ ক্রিকেটে একেবারে ডাল-ভাত হয়ে গেছে শটটি। এটি এখন ব্যাটসম্যানদের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি শটে পরিণত হয়েছে এবং বিভিন্ন রূপ নিয়েছে রিভার্স সুইপ! আর ইংল্যান্ড দলও এবার বিশ্বকাপে দেখিয়ে দিয়েছে রিভার্স সুইপ খেলা রপ্ত করে ফেলেছে তারা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো এবং সেমিফাইনালেও ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা নিয়মিতহারেই করেছেন রিভার্স সুইপ। বিশেষ করে তিন তরুণ ব্যাটসম্যান জেসন রয়, জো রুট আর জস বাটলাররা হাত পাকিয়ে ফেলেছেন রিভার্স সুইপে। কিউইদের বিপক্ষে সেমিতে এ তিন ক্রিকেটারই দারুণ কিছু রিভার্স সুইপ উপহার দিয়েছেন।

সে কারণে এবার অন্তত ইডেনে ২৯ বছর আগের মতো ইংলিশদের দুঃখের কারণ হবে না রিভার্স সুইপ, এমন আত্মবিশ্বাস রাখতেই পারে মরগানরা! তিন যুগ আগে একটি ‘সানডে’ মেঘ জমিয়েছিল ইংলিশদের চোখে-মুখে, এবারের ‘সানডে’ কি রৌদ্রজ্জ্বোল হবে তাদের জন্য। ইডেনে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ফাইনালটা যে সেই ঐতিহাসিক ‘রবিবার’!