২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধোনির ‘নো বল’ আক্ষেপ

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ টি২০তে তিন-তিনবার প্রাণ একজন ব্যাটসম্যানকে কতটা ভয়ঙ্কর করে তুলতে পারে, সেটি দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। ক্রিস গেইল-বিরাট কোহলিকে ম্লান করে দিয়ে আলোচনায় লেন্ডল সিমন্স। বৃহস্পতিবার মুম্বাইর আলোচিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বোলার-ফিল্ডারদের বদান্যতায় কাঁদল মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। দ্বিতীয় শিরোপার এত কাছে এসেও ভারত এখন মৃতপুরী। ১৯২ রান করে হার ৭ উইকেটে! তিনবার আউটের হাত থেকে বেঁচে ‘নায়ক’ সিমন্স (৫১ বলে ৮২*)Ñ ম্যাচ শেষে নিজ বোলারদের দু-দুটি ‘নো‘ বলে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানের বেঁচে যাওয়াটাকেই বড় করে দেখছেন স্বাগতিক অধিনায়ক। ধোনি বলেন, ‘যে সময় নো-বল দুটি হয়েছে, সেটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট পেলে স্পিনারদের দিয়ে দ্রুত আরও দু-একটি ওভার করিয়ে নেয়া যেত। হয়ত খুব বেশি রান দিয়েই পার পাওয়া যেত।’

এ জন্য সরাসরি বোলারদের দায়ী করে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘এটা ঠিক কোন বোলারই নো-বল করতে চায় না। তবে এ ধরনের উইকেটে যেখানে, ব্যাটসম্যানকে আটকে রাখা কঠিন, তখন উইকেট পাওয়া বলটি নো হলে, তার দায় বোলারেরই। তার ওপর একটি ক্যাচ ছিল দুর্দন্ত। আমি ওদের ওপর রুঢ় হতে চাই না। কেবল মনে করিয়ে দিতে চাই, চাপের সময়ই সেরাটা দিতে হয়।’ ম্যাচে দুইবার সিমন্সের ক্যাচ ধরেন ভারতীয় ফিল্ডাররা। দুবারই ‘নো’ বলে বেঁচে যান তিনি। সিমন্স যখন ১৮ রানে তখন ‘নো’ বল দেন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ৫০ রানে পেসার হারদিক পান্ডিয়া। যুবরাজ সিং ইনজুরিতে পড়ায় এদিন দুটি পরিবর্তন আন হয়। বাদ পড়েন শিখর ধাওয়ান। সুযোগ হয় অজিঙ্কা রাহানে ও মানিষ পান্ডের। রোহিতের সঙ্গে ওপেন করেন রাহানে। ধোনির যুক্তি, ‘রাহানেকে যে কাজটা করতে দেয়া হয়েছিল, সেটি সে দারুণভাবে করেছে। ওকে নিয়ে কিছু বলার নেই।’ ৩৫ বলে ৪০ রান করে আউট হন রাহানে।

হারের ব্যাখ্যা দিয়ে ভারতকে দু-দুটি বিশ্বকাপ (২০০৭ টি২০, ২০১১ ওয়ানডে) জেতানো অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘এই উইকেটে আগে আর পরে ব্যাট করার মধ্যে অনেক পার্থক্য। আমাদের স্পিনাররা পরে বল গ্রিপই করতে পারছিল না। যে কারণে অশ্বিনকে দুই ওভারের রান বেশি দেয়া যায়নি। অথচ প্রথম ইনংসে (উইন্ডিজের বোলিং) এমনটা ছিল না।’ নিজেদের আরও রান করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন তিনি, ‘এখানে ২৩০ রান তাড়া করাও অসম্ভব নয়। আমাদের আরও ২০টা রান বেশি করা উচিত ছিল, কিন্তু তাতে ম্যাচ জেতার গ্যারান্টি ছিল না!’ তবে অবসরসংক্রান্ত প্রশ্নে পরিস্থিতির জন্ম দেন ‘ক্যাপ্টেন কুল’। আপনি কি এবার অবসর নিচ্ছেন? বিদেশী মুখ দেখে ধোনির মুখে হাসি। হাতে মাইক নিয়ে বলেন, ‘বাহ, ভাল প্রশ্ন! আসুন, আসুন, আপনার সঙ্গে কথা বলি! লেটস হ্যাভ সাম ফান।’ থতমত অস্ট্রেলীয় ওই সাংবাদিক, ‘আমাকে ডাকছেন?’ ধোনি, ‘হ্যাঁ, আপনাকেই।’ কাছে আসতেই ধোনি তাকে পাশের চেয়ারে বসিয়ে কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘আপনার কি মনে হয় আমি আনফিট? উত্তর, ‘না।’ ফের ধোনির প্রশ্ন, ‘আপনার কি মনে হয়, আমি ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চালিয়ে যেতে পারব?’ উত্তরে সাংবাদিক ‘হ্যাঁ সূচক’ মাথা নাড়েন। এরপর হেসে হেসে ধোনি বলেন, ‘তাহলে তো আপনিই আপনার প্রশ্নের উত্তর জানেন। আমাকে আর বলছেন কেন? আপনি ভারতীয় সাংবাদিক হলে অন্যরকম উত্তর পেতেন!’ ধোনি হয়ত মনে মনে স্থানীয় সাংবাদিককেই ভাবছিলেন। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর থেকে যারা তাকে তেতো এই পশ্নে জর্জরিত করে ছাড়ছেন। কবে অবসর নেবেন ধোনি?

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে অস্ট্রেলিয়াকে টি২০তে ‘হোয়াইটওয়াশ’ ও বাংলাদেশ থেকে এশিয়া কাপ জিতে ফেরায় সেটি কিছুটা চাপা পড়ে গিয়েছিল। টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হারে আবার একই প্রশ্নের মুখে ভারতের সফলতম অধিনায়ক।