২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভুক্ত শেখ জামাল ধানমণ্ডি!

  • স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে আট খেলোয়াড় ছাড়াই খেলতে রাজি লীগ চ্যাম্পিয়নরা

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ এর আগে পাঁচবার অনুষ্ঠিত হয়েছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের আসর। কিন্তু কোন আসর শুরুর আগে এত জটিলতা আর নাটকীয়তা হয়নি, যেটা এবার হচ্ছে। রাজনীতিতে যেমন শেষ কথা বলে কিছু নেই, তেমনি দেখা যাচ্ছে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলেও শেষ দল বলে কিছু নেই। কেননা এখানে গ্রুপিং ড্র হওয়ার পর দুবার দুটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, দুবার ফিক্সচার পরিবর্তন করা যায়, একবার তারিখ দিয়ে দুইদিন খেলা পেছানো যায়! শুক্রবার টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে ঘটে শেষ নাটক। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পেশাদার লীগ কমিটির জরুরী সভা শেষে ঘোষণা দেয়া হয়, স্বাধীনতা কাপে খেলবে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। কোন শর্ত ছাড়াই খেলতে রাজি হওয়ায় শেখ জামালকে ‘এ’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হলো।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা কাপে খেলতে চেয়ে শেখ জামাল বাফুফেকে বৃহস্পতিবার লিখিত আবেদন করে। সেখানে তারা দাবি করেছিল, ৮ খেলোয়াড়কে ফেরত দিলেই তারা স্বাধীনতা কাপে খেলবে। কিন্তু বাফুফে তাদের আগের সিদ্ধান্ত অনড় থাকলে শেষ পর্যন্ত নমনীয় হয়ে খেলতে রাজি হয় ধানম-ির ক্লাবটি। শেখ জামাল জানিয়েছে, আদালতে বিচারাধীন আট খেলোয়াড়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত তাদের ফেরত চাইবে না। এরপরই সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শেখ জামাল স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলবে। অনেক ফুটবলপ্রেমী মন্তব্য করেন, ‘নিজেদের জেদ বজায় না রেখে টুর্নামেন্টে বিনা শর্তে খেলতে রাজি হয়ে সঠিক অথচ বিলম্বিত সিদ্ধান্তই নিল শেখ জামাল। এটা তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার মতোই বিষয়।’

পেশাদার লীগ কমিটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে খেলা আয়োজনেই আগ্রহী ছিলাম। শেখ জামাল ক্লাবের বিষয়টি সভায় নিষ্পত্তি হয়েছে। আদালতে বিচারাধীন আট খেলোয়াড়কে ছাড়াই খেলতে রাজি হয়েছে তারা। তাই শেখ জামালকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করায় আর কোন সমস্যা দেখছি না।’ শেখ জামাল ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু বলেন, ‘আমরা খেলার পক্ষেই ছিলাম সবসময়। দল বদল করেছি খেলার জন্যই। আট খেলোয়াড়কে ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। নিষ্পত্তির আগ পর্যন্ত আমরা খেলে যাব। আদালত যে রায় দেবে সেই রায় মেনে নেব।’

শুক্রবার স্বাধীনতা কাপে দুটি ম্যাচ ছিল। টিম বিজেএমসি-রহমতগঞ্জ ম্যাচের পর ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও উত্তর বারিধারার মধ্যকার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি হয়নি। এটি আজ অনুষ্ঠিত হবে। এর কারণ শেখ জামালের অন্তর্ভুক্তির ফলে ফিক্সচার পরিবর্তন।

২০১০ সালে ধানম-ি ক্লাবটি শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব নামে আত্মপ্রকাশ করে। তারা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। মোট তিনবার লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। ২০১৩ সালে আটবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপ জয় করে ক্লাবটি (মোট শিরোপা তিনটি)। ২০১০ সাল থেকে টানা চার বছর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল খেলে তারা। দেশের বাইরে নেপালে ২০০০ সালে ক্লাব বুদ্ধ সুব্বা গোল্ডকাপ জয় করে। ২০১১ সালে নেপালে সাফাল পোখারা কাপ টুর্নামেন্টের ফাইনালে শেখ জামাল নেপাল আর্মিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে ভারতের কলকাতায় আইএফএ শিল্ড কাপের ফাইনালে উঠে শেখ জামাল। ফাইনালে কলকাতা মোহামেডানের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। ওই বছরই ভুটানে অনুষ্ঠিত কিংস কাপে হয় অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন।

এর আগে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে কখনই শিরোপা জেতেনি শেখ জামাল। ২০১১ সালে অবশ্য ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু সেবার ফরাশগঞ্জের কাছে ফেবারিট হয়েও অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গিয়েছিল তারা। এবার আট খেলোয়াড় ছাড়া খেলতে হবে তাদের। এখন দেখার বিষয়, এমন খর্বশক্তির দল নিয়ে এই আসরে কেমন ফল করে তারা।