২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপিতে পদবিহীন সিনিয়র নেতাদের মধ্যে হতাশা

বিএনপিতে পদবিহীন সিনিয়র নেতাদের মধ্যে হতাশা
  • পাঁচজন ছাড়া পদে নেই কোন কেন্দ্রীয় নেতা ;###;পদ পেতে নেতাদের নানামুখী তৎপরতা

শরীফুল ইসলাম ॥ বিএনপিতে বর্তমানে ৫জন ছাড়া কোন কেন্দ্রীয় নেতার পদ নেই। জাঁকজমকভাবে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর ২ দফায় মাত্র ৫ জন নেতাকে কেন্দ্রীয় কমিটির পদ দেয়া হলেও বঞ্চিত করা হয়েছে অন্য নেতাদের। আর কবে দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি হবে তাও কেউ বলতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে পদবিহীন সিনিয়র নেতাদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তবে সুবিধাজনক পদ ফিরে পেতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলকে ঢেলে সাজানোর ঘোষণা দিয়ে ১৯ মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করা হয়। কাউন্সিলের আগে দলীয় হাইকমান্ড যোগ্য নেতাদের নিয়ে দ্রুত নতুন কমিটি দেয়ার কথা বলে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে তুলে। কিন্তু কাউন্সিলের দিন কর্ম অধিবেশনে খালেদা জিয়াকে চেয়ারপার্সন ও লন্ডন প্রবাসী তারেক রহমানকে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও আর কোন পদের দায়িত্ব কাউকে দেয়া হয়নি। এ নিয়ে যখন চারদিকে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে তখন ৩০ মার্চ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মহাসচিব, রুহুল কবির রিজভীকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও মিজানুর রহমান সিনহাকে দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও দলের নেতাকর্মীরা আশা করেছিল সোয়া ৬ বছর আগে দেয়া ৩৮৬ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মতো এবারও একযোগে বড় একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু তা না হওয়ায় বিএনপি নেতাদের আশার গুড়ে বালি পড়ে।

এদিকে জাতীয় কাউন্সিলের ২ সপ্তাহ পড়েও নতুন কমিটিতে স্থান না পাওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুনরায় সুবিধাজনক পদ ফিরে পেতে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। দেশে খালেদা জিয়ার সুনজরে থাকার পাশাপাশি বিদেশে তদ্বির করে তারেক রহমানের গুডবুকে থাকার চেষ্টা করছেন। এ দু’দিকে আশীর্বাদ যার প্রতি থাকবে তিনিই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সুবিধাজনক পদ পাবেন এ কথা এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের মুখে মুখে । আবার কমিটিতে স্থান পেতে কোন কোন নেতা আর্থিক লেনদেন করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবার আরও কয়েক ধাপে দেয়া হবে। আগের ২ ধাপের পর তৃতীয় ধাপে ঘোষণা দেয়া হবে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নাম। এর পর ভাইস চেয়ারম্যান যুগ্ম মহাসচিব পদের নাম ঘোষণা করা হবে। আর সর্বশেষ ধাপে অন্যান্য সম্পাদকীয় ও নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে। সব মিলিয়ে এবারের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৫ শতাধিক নেতা স্থান পেতে পারেন বলে জানা গেছে।

এবার দলের স্থায়ী কমিটিতে যারা স্থান পাচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আগের কমিটিতে এ পদে থাকা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আসম হান্নান শাহ, ড. আবদুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও নজরুল ইসলাম খান। আর পদোন্নতি পেয়ে স্থায়ী কমিটিতে আসার জন্য যারা চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আগের কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সাদেক হোসেন খোকা, সেলিমা রহমান ও মেজর (অব) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এম মোরশেদ খান, আগের কমিটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, শামসুজ্জামান দুদু, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও যুগ্ম মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান প্রমুখ। তবে স্থায়ী কমিটির সদস্য কি আগের মতো ১৯ জনই থাকবে না আরও বাড়ানো হবে তা একমাত্র খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে আগে ১৭টি পদ থাকলেও এবারের জাতীয় কাউন্সিলে ৩৫টি পদ করা হয়েছে। আর ভাইস চেয়ারম্যান পদে কমিটিতে স্থান পেতে যারা চেষ্টা-তদ্বির করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আগের কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বরকতউল্লাহ বুলু, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কবির রিজভী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, আগের কমিটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, আবদুল হালিম, ফজলুর রহমান পটল, মোসাদ্দেক আলী ফালু, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, মেজর জেনারেল (অব) মাহমুদুল হাসান, অধ্যাপক এমএ মান্নান, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, আগের কমিটির প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার, নিতাই রায় চৌধুরী, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস প্রমুখ।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদে যারা স্থান পেতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আগের কমিটির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম শামসুল ইসলাম, সারোয়ারী রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বিচারপতি টিএইচ খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই, পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মনিরুল হক চৌধুরী, দলের নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হক, আখতার হামিদ সিদ্দিকী ও একেএম মোশাররফ হোসেন।

পদোন্নতি পেয়ে যুগ্ম মহাসচিব পদ পেতে যারা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে শোনা যাচ্ছে তারা হলেন আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন, নাজিমউদ্দিন আলম, যুব বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার খন্দকার, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সহ-প্রচার এমরান সালেহ প্রিন্স, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সহ-দফতর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি প্রমুখ।

এবার পদোন্নতি পেয়ে যারা সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেতে যারা লবিং-তদ্বির করছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন আগের কমিটির সহ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, কৃষক দল নেতা তকদির হোসেন জসিম, শাহজাহান মিয়া সম্রাট আগের কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক হাবিব উন নবী খান সোহেল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভূইয়া, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুনা, রেহানা আক্তার রানু, নীলুফার চৌধুরী মনি, শাম্মী আক্তার, আসিফা আশরাফি পাপিয়া, হেলেন জেরিন খান, ওয়াদুদ ভুইয়া প্রমুখ।

বিএনপির আগের কমিটির ৩৮৬ জন নেতার মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গনি ও খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা গেছেন। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করা হয়েছে। এ ছাড়াও আগের কমিটির আরও ক’জন নেতা মারা গেছেন। রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন আরও ক’জন নেতা। আর দলে নিষ্ক্রিয় থাকায় বর্তমান কমিটির অর্ধশতাধিক নেতা। নিষ্ক্রিয়দের মধ্যে যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে তারা হলেন আগের কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লুৎফর রহমান খান আজাদ, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হাই, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক একেএম মোশাররফ, নির্বাহী কমিটির সদস্যর মেজর (অব) মঞ্জুর কাদের, সিরাজুল ইসলাম সরদার, এন আই খান, খন্দকার আহসান হাবিব, ইঞ্জিনিয়ার মোঃ শামসুদ্দিন, এম আকবর আলী, আনোয়ার হোসাইন, মিজানুর রহমান, শাহানা রহমান রানী, মতিয়ার রহমান তালুকদার, রাবেয়া সিরাজ, খালেদা পান্না, আলমগীর মোঃ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ প্রমুখ। যারা মারা গেছেন আর যারা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন তাদের বাদ দিলেও আগের কমিটির আরও প্রায় ৩শ’ কেন্দ্রীয় নেতা এখন পদহীন। তাঁরা কবে পদ ফিরে পাবেন তা কেউ বলতে পারছে না।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব) মাহবুবুর রহমান, জনকণ্ঠকে বলেন, দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি কবে হবে জানি না। চেয়ারপার্সন কমিটি গঠনের কাজ করছেন। তবে আমি মনে করি তাড়াতাড়ি কমিটি হওয়া দরকার। তা না হলে রটনা রটতে থাকবে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কমিটি কবে হবে জানি না। তবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবেন বলে আমরা আশাবাদী।