২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্ষার আমেজ চৈত্রে ॥ আরও কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টি

বর্ষার আমেজ চৈত্রে ॥ আরও কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টি

নিখিল মানখিন ॥ চৈত্রে বর্ষার আমেজ ! তবে এটাকে আবহাওয়ার স্বাভাবিক আচরণ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এমন অবস্থা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। সারাদেশে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সৃষ্টি হতে পারে নিম্নচাপ, ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র তাপপ্রবাহ। বর্তমানে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার সৃষ্টি হওয়ায় উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর। কয়েকদিন ধরে অব্যাহত থাকা বৃষ্টি দেশের বোরো আবাদে উপকারে আসবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এ বছর খুব বেশি চৈত্রের খরা পোহাতে হয়নি দেশের মানুষকে। এ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যেই রয়ে গেছে। এ সময় যেকোন সময় দেখা দিতে পারে কালবৈশাখী ঝড়, সঙ্গে থাকতে পারে বৃষ্টি। গত বছরও এপ্রিলের ১ ও ২ তারিখে খরতাপ থাকলেও পরদিন থেকেই নেমে আসে মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। গত কয়েকদিন ধরে দেশের অধিকাংশ এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি এই সময়ে আবহাওয়ার স্বাভাবিক আচরণ। আর ক’দিন পরই বাড়তে থাকবে তাপমাত্রা। এই মাসে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

ঝড়ো হাওয়ার কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলছে আবহাওয়া অধিদফতর। সূত্রটি আরও জানায়, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ২ থেকে ৩দিন বজ্রসহ মাঝারি থেকে তীব্র কালবৈশাখী অথবা বজ্র-ঝড় ও দেশের অন্যত্র ৩ থেকে ৪দিন হাল্কা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় হতে পারে। দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে একটি তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহ এবং অন্যত্র ১ থেকে ২টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপ প্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ঢাকা বিভাগে ১৪৭ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৪৩ মিমি, সিলেটে ২৯৬ মিমি, রাজশাহীতে ৮০ মিমি, রংপুরে ৮৮ মিমি, খুলনায় ৭২ মিমি ও বরিশাল বিভাগে ১৩২ মিলিমিটার থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় ২৮ মিলিমিটার, ময়মনসিংহে ৫৮ মিমি, টাঙ্গাইলে ২৬ মিমি, ফরিদপুরে ১৬ মিমি, মাদারীপুরে ৫৯ মিমি, গোপালগঞ্জে ৪৬ মিমি, নেত্রকোনায় ৪ মিমি, চট্টগ্রামে ২০ মিমি, সন্দ্বীপে ১৯ মিমি, সীতাকু-ে ৫১ মিমি, রাঙ্গামটি ২ মিমি, কুমিল্লা ৫২ মিমি, চাঁদপুরে ১৮ মিমি, মাইজদীকোর্টে ৩৬ মিমি, ফেনীতে ২০ মিমি, হাতিয়ায় ৩০ মিমি, কক্সবাজারে ৩ মিমি, টেকনাফে ১৫ মিমি, সিলেটে ৫ মিমি, শ্রীমঙ্গলে ১৫ মিমি, রাজশাহীতে ২৯ মিমি, ঈশ্বরদীতে ২৮ মিমি, বগুড়ায় ২০ মিমি, বদলগাছীতে ৩৮ মিমি, তারাশে ৪৬ মিমি, রংপুরে ২৯ মিমি, দিনাজপুরে ২৬ মিমি, সৈয়দপুরে ২৬ মিমি, রাজারহাটে ২০ মিমি, খুলনায় ৩৮ মিমি, মংলায় ১৮ মিমি, সাতক্ষীরায় ১৪ মিমি, যশোরে ৩৪ মিমি, চুয়াডাঙ্গায় ৩৩ মিমি, বরিশালে ১৮, পটুয়াখালীতে ৩১ মিমি, খেপুপাড়ায় ১৮ মিমি ও ভোলায় ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, আগামী মাসে দেশে স্বাভাবিক অপেক্ষা কিছুটা বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। ওই মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ওই মাসে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ২ থেকে ৩দিন বজ্রসহ মাঝারি থেকে তীব্র কালবৈশাখী অথবা বজ্র-ঝড় ও দেশের অন্যত্র ৩ থেকে ৪টি হাল্কা থেকে মাঝারি কালবৈশাখী অথবা বজ্রঝড় হতে পারে। ওই মাসে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ১ থেকে ২টি তীব্র ধরনের তাপপ্রবাহ এবং অন্যত্র ২ থেকে ৩টি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

চৈত্রের ‘স্বস্তির বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আসছে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত থেমে থেমে এ বৃষ্টি অব্যাহত থাকার কথা বলছে আবহাওয়া বিষয়ক ওয়েবসাইটগুলো। সে সঙ্গে বজ্রপাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ শনিবার সকালে আকাশ কিছুট পরিষ্কার থাকলেও দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আগামীকাল রবিবার সকালেই বৃষ্টি ঝরবে। দুপুরের পর আরও একদফা বৃষ্টির কথা বলা হচ্ছে। তবে এদিন তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে ৩৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে বলে জানিয়েছে আকু ওয়েদার। এরপর বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমে এলেও ৬ এপ্রিলের আগ পর্যন্ত তা একেবারে কমবে না। সেক্ষেত্রে ওই দিন দুপুরের পর থেকে দিনের শেষভাগ পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার কথা বলছে আবহাওয়া ওয়েবসাইটগুলো। বৃষ্টি হলেও ৬ এপ্রিল তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৯ ডিগ্রির ওপর ওঠার কথা বলছে আকু ওয়েদার। মূলত চৈত্রের বাকি দিনগুলোর খরতাপের চিত্র এখান থেকেই শুরু।