১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুলিশ ও ডিবির পর এবার সিআইডির তদন্ত শুরু

পুলিশ ও ডিবির পর এবার সিআইডির তদন্ত শুরু
  • তনু হত্যা ॥ কর্মপন্থা নির্ধারণে কাল ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

মীর শাহ আলম, কুমিল্লা থেকে ॥ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারী কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুর চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি পুলিশ-ডিবির পর এবার আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে সিআইডি। জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা থেকে মামলার যাবতীয় নথি বুঝে পাওয়ার পর শুক্রবার থেকে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে সিআইডির তদন্তকারী দল। শুক্রবার দিনব্যাপী সিআইডির তদন্ত দল কুমিল্লার সেনানিবাস এলাকায় যেখানে তনুর লাশ পাওয়া গিয়েছিল সেই স্থান পরিদর্শনসহ ঘটনার পারিপার্শ্বিকতার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। এদিকে, মামলার তদন্তে কর্মপন্থা নির্ধারণে অতিরিক্ত আইজিপি হেমায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সিআইডির উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক রবিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এছাড়া তনু হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার ঘটনার ১২তম দিনেও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ অব্যাহত ছিল।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে দেশব্যাপী আলোচিত এ মামলার যাবতীয় নথিপত্র সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার নথি বুঝে পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে কুমিল্লা ও নোয়াখালী বিভাগের সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ জালাল উদ্দিনের নেতৃত্বে সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক গাজী ইব্রাহিম ও শাহনেয়াজসহ একটি দল কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ঘটনাস্থলে যায়। তারা দিনভর ওই এলাকা পরিদর্শন শেষে মামলার বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করেন। সূত্র জানায়, তনুর ব্যবহৃত চারটি মোবাইল সিমের কললিস্ট, দুটি সুরতহাল রিপোর্ট, ব্যবহৃত একটি ডায়েরি এখন পর্যালোচনা করছে তদন্তকারী দল। এছাড়াও হত্যার দু’দিন আগে তনু যেসব বন্ধুর সঙ্গে সিলেট গিয়েছিল এবং তনু ভিক্টোরিয়া কলেজের যে নাট্য থিয়েটারে সম্পৃক্ত ছিল তদন্তে সহায়তার জন্য তাদের সঙ্গেও কথা বলবে তদন্তকারী দল। তনুকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কি-না এবং কিভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কিংবা লাশ উদ্ধারের কতক্ষণ আগে কী অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছিল সেসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ময়নাতদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন তদন্তকারীরা। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাঃ কামাদা প্রসাদ সাহা জানান, ঢাকা থেকে ভিসেরা ও অন্যান্য কেমিক্যাল রিপোর্ট আসার পর দুটি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেয়া হবে। তবে ডিএনএ রিপোর্ট সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এতে কিছু সময় লাগতে পারে। সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর তনু হত্যাকা- সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এদিকে, সেনানিবাসের ঘটনাস্থলের পাশে অরক্ষিত ২২শ’ ফুট এলাকা দিয়ে পার্শ¦বর্তী বদুইর গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামে লোকজনের যাতায়াতের সুবিধা থাকায় ওই সব এলাকার কয়েক যুবককে সন্দেহের তালিকার রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের আশপাশের গ্রামের বেশ কয়েকজনকে র‌্যাব-ডিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, মামলার নথিপত্র হাতে পেয়েছি। ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি, মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সূত্র জানায়, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হেমায়েত হোসেন ও বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহ্হার আকন্দসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা রবিবার ঢাকার সিআইডি সদর দফতরে চাঞ্চল্যকর এ মামলার পরবর্তী কর্মপন্থা নির্র্ধারণে বৈঠকে বসবেন। পরদিন সোমবার বা যে কোন সময় সিআইডর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কুমিল্লায় আসার কথা রয়েছে।

বিক্ষোভ-সমাবেশ অব্যাহত ॥ এদিকে, তনু হত্যার বিচার দাবিতে কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে শনিবার থেকে এক কোটি গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। গণজাগরণ মঞ্চ কুমিল্লার সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান জানান, এক কোটি প্রতিবাদী জনতার স্বাক্ষর সংগ্রহ শেষে তা সংসদে প্রেরণ করা হবে। তনু হত্যার বিচারের দাবিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা নগরীর পূবালী চত্বরে কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে নাগরিক সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রতিবাদী জনতার সঙ্গে অংশ নেয় বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, মাসাস, বাংলাদেশ যুবমৈত্রীসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। সমাবেশে কুমিল্লার গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক খায়রুল আনাম রায়হান, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শাহ আলম, পরেশ রঞ্জন কর, বাসদ নেতা মহিউদ্দিন প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে তনুকে সেনানিবাস এলাকায় হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।