১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

গ্রাম থেকেও শিক্ষার্থীরা উঠে আসছে সামনের কাতারে

গ্রাম থেকেও শিক্ষার্থীরা উঠে আসছে সামনের কাতারে
  • সেরা মেধাবীদের তালিকায় ১২ জনের ১০ জনই ঢাকার বাইরের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা চতুর্থবারের মতো সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশসেরা ১২ মেধাবী শিক্ষার্থীকে বাছাই করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বছরের সেরা মেধাবীদের তালিকায় স্থান করে নেয়া ১২ জনের ১০ জনই ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থী। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম, নবম থেকে দশম ও উচ্চ মাধ্যমিক এই তিন বিভাগে চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত হয়েছে বছরের সেরা মেধাবীরা। বিষয় চারটি হলো-ভাষা ও সাহিত্য, দৈনন্দিন বিজ্ঞান বা বিজ্ঞান, গণিত ও কম্পিউটার এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ। ঢাকার বাইরের শিক্ষার্থীদের ভাল করায় সন্তোষ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ চিত্রই প্রমাণ করে গ্রাম থেকেও শিক্ষার্থীরা উঠে আসছে সামনের কাতারে।

গত বছর দেশ সেরা ১২ মেধাবীর মধ্যে ৯ জন ছিল ঢাকা শহরের বাইরের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এবার বাইরের শিক্ষার্থীদের অবস্থান আরও ভাল হয়েছে। এবার দেশব্যাপী আয়োজিত সৃজনশীল মেধা অন্বেষণের জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বছরের সেরা মেধাবী ১২ শিক্ষার্থীর নাম ঘোষণা করা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত এ প্রতিযোগিতা। শহর ও গ্রামে শিক্ষার বৈষম্য নিরসন এবং অবহেলা-অনাদরে বেড়ে ওঠা প্রতিভাকে খুঁজে বের করে বিকশিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় ২০১৩ সাল থেকে। সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ নীতিমালায় বলা হয়েছে, নীতিমালার আলোকে প্রতিবছর তৃণমূল থেকে বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘অসাধারণ’ মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। মেধা অন্বেষণ করে তাদের জাতীয়ভাবে ‘জাতীয় মেধা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং উৎসাহ প্রদানে এককালীন দেয়া হবে বিশেষ বৃত্তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় এজন্য জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা শেষ করার কথাও আছে নীতিমালায়। সে আলোকেই রাজধানীতে বৃহস্পতিবার জাতীয় পর্যায়ে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা-২০১৬ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষামন্ত্রী এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এবছর ‘ভাষা ও সাহিত্য’ বিষয়ে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের নাহিয়ান ইসলাম ইনান, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সিরাতল মোস্তাকিম শ্রাবণী এবং লালমনিরহাটের মজিদা খাতুন সরকারী মহিলা কলেজের মৌমিতা রহমান ঈপসিতা নির্বাচিত হয়েছে। ‘দৈনন্দিন বিজ্ঞান/বিজ্ঞান’ বিষয়ে দিনাজপুরের আমেনা-বাকী রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজের মোঃ মখলেসুর রহমান ইমন, জয়পুরহাট সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শতাব্দী রায় এবং বগুড়ার সরকারী আযিযুল হক কলেজের মাহিয়া আহমেদ হয়েছেন সেরা মেধাবী। ‘গণিত ও কম্পিউটার’ বিষয়ে রংপুর জিলা স্কুলের শ্বাশত সাহা রায়, কুমিল্লা জিলা স্কুলের শৌর্য দাশ এবং ঢাকার নটরডেম কলেজের শেখ আজিজুল হাকিম নির্বাচিত হয়েছে। ‘বাংলাদেশ স্টাডিজ ও মুক্তিযুদ্ধ’ বিষয়ে বি-বাড়ীয়ার অন্নদা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের মোতাকাব্বির বিন মোতাহার, কুমিল্লা জিলা স্কুলের নাজমুস সাকিব এবং বিয়ানী বাজার সরকারী কলেজের ঐশ্বর্য সাহা উর্মি সেরা মেধাবী নির্বাচিত হয়েছে।

দেশসেরা ১২ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদসহ এক লাখ টাকা করে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী। তারা বিদেশে শিক্ষা সফরের সুযোগও পাবে। তবে এই অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এই প্রতিযোগিতা আয়োজক কমিটির সদস্যরা ফলাফলের সার্বিক চিত্রে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, এই প্রতিযোগিতার ফলই প্রমাণ করে গ্রাম থেকেও শিক্ষার্থীরা উঠে আসছে। এটা মফস্বলের অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। ২০১৩ সাল থেকে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উপজেলা পর্যায়ে সেরা ১২ জনের সবাইকে এক হাজার টাকা করে দেয়া হবে। জেলা পর্যায়ে সেরা ১২ জনের প্রত্যেকে দেড় হাজার টাকা এবং বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা ১২ জন প্রত্যেকে দুই হাজার টাকা করে পুরস্কার ও সনদ পাবে।

চতুর্থবারের মতো এ আয়োজন হলেও এবারের আসরের ব্যাপ্তি ছিল অনেক বেশি। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রচার চালাতেও নেয়া হয় নানা উদ্যোগ। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক মেধাবী আছে যারা সুযোগের অভাবে মেধার বিকাশ ঘটাতে পারে না, অবহেলায় আড়ালে থেকে যায়, তাদের নিয়ে এসে উৎসাহিত করার জন্য এ আয়োজন। বিশ্বায়নের এ যুগে দেশের উন্নয়নে মেধার বিকল্প নেই। একবিংশ শতাব্দীতে মেধাবীরাই সমাজকে নেতৃত্ব দেবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা মেধাবীদের খুঁজে বের করা, তাদের লালন ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। শহর ও গ্রামে শিক্ষার বৈষম্য নিরসন এবং অবহেলা-অনাদরে বেড়ে ওঠা প্রতিভাকে খুঁজে বের করে বিকশিত করার লক্ষ্য নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।