১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানুষ জাগানোর প্রত্যয়ে সত্যেন সেন গণসঙ্গীত উৎসব শুরু

মানুষ জাগানোর প্রত্যয়ে সত্যেন সেন গণসঙ্গীত উৎসব শুরু
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুর মানেই শুধু মানব হৃদয় জুড়ানোর অনুষঙ্গ নয়। প্রশান্তির পরিবর্তে কখনও কখনও জাগিয়ে তোলে মানবসত্তাকে। উস্কে দেয় ভেতরের দ্রোহটাকে। সুরের আশ্রয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে মানবাত্মা। বাণী আর সুরের উদ্দীপনায় আলোড়িত হয় মানবতা বোধ। বিশেষ করে সেই গানের আঙ্গিক যদি হয় গণসঙ্গীত। ঠিক তেমনটাই ঘটল সত্যেন সেন গণসঙ্গীত উৎসব ও জাতীয় গণসঙ্গীত প্রতিযোগিতায়। ভাষা শহীদদের স্মৃতির স্মারক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণসঙ্গীতের আশ্রয়ে উচ্চারিত হলো মানবতার জয়গান। সুরে সুরে ব্যক্ত হলো মানুষকে জাগিয়ে তোলার আহ্বান। সর্বসাধারণের মাঝে গণসঙ্গীতকে ছড়িয়ে দেয়া এবং প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সত্যেন সেনের জন্মদিন উপলক্ষে প্রতিবছর উৎসবটির আয়োজন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী।

শুক্রবার বসন্ত দিনের উদাসী বাতাস বয়ে যাওয়া বিকেলে বসে এই উৎসব ও প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আয়োজন। সপ্তমবারের মতো অনুষ্ঠিত উৎসব সেøাগান ‘মানুষ জাগাও, স্বদেশ জাগাও, বিশ্ব জাগাও সঙ্গীতে।’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগঠনের শিল্পীরা গেয়ে শোনায় বাঙালীর প্রাণের গানÑ আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি...। জাতীয় সঙ্গীতের সুরে উড়িয়ে দেয়া হয় জাতীয় পতাকা ও উদীচীর পতাকা। এরপর দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামের শহীদদের স্মরণে মিনারের বেদিতে অর্পণ করা হয় পুষ্পাঞ্জলি।

দুই দিনব্যাপী উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট লোকশিল্পী গৌরাঙ্গ আদিত্য। সুদীর্ঘ কাল ধরে হাটে-মাঠে-ঘাটে যাত্রাপালায় বিবেকের গান গেয়ে আসছেন এই প্রবীণ শিল্পী। উদ্বোধনী ঘোষণার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে কাজ করে উদীচী। বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলে এই সংগঠন। সংস্কৃতিচর্চায় তারা সঙ্গীতকে হাতিয়ার করে কাজ করছে মানবতার পক্ষে। পাশাপাশি গড়ে তুলছে দক্ষ গণসঙ্গীত শিল্পী। তাই এমন উৎসবের উদ্বোধন করে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। উদ্বোধন কথন শেষে রবিউল ইসলাম শশীর গ্রন্থনায় পরিবেশিত হয় সঙ্গীতে জাগো শীর্ষক চমৎকার একটি গীতি-আলেখ্য। গানের সুরে ও নাচের প্রকাশে উঠে আসে এদেশের ইতিহাসের পরম্পরা। তুলে ধরা হয় ব্রিটিশবিরোধী তেভাগা আন্দোলন থেকে শুরু করে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। শেষ অংশে প্রকাশিত হয় স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের বিজয়গাথা। আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা, বাজান চল যাই চল মাঠে লাঙ্গল বাইতে, নাও ছাইড়া দে রে মাঝি উড়াই দেসহ বেশ কয়েকটি গানের আশ্রয়ে সাজানো হয় নান্দনিক কোলাজটি। এই পরিবেশনা শেষ হতেই গাওয়া হয় সম্মেলক গান। অনেকগুলো কণ্ঠ এক সুরে গেয়ে যায়Ñ কে বলেছে হয় না/এসো এই মঞ্চে/উদীচী এমনই এক আয়না ...। শিল্পীদের সঙ্গে সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ উপস্থিত সবার মাঝে ভেসে বেড়ায় এই গানের সুরের অনুরণন। সবগুলো ঠোঁট মিলে যায় এই গানের চরণে।

উদীচীর সভাপতি কামাল লোহানীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী আলোচনায় অংশ নেন আমন্ত্রিত বিদেশী অতিথি পশ্চিমবঙ্গের বরেণ্য গণসঙ্গীত শিল্পী বিপুল চক্রবর্তী ও অনুশ্রী চক্রবর্তী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য ছড়াকার আখতার হুসেন, বর্ষীয়ান সাংবাদিক শুভ রহমান এবং উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেনের স্নেহধন্য ও আত্মগোপন থাকাকালীন সময়ে তাঁর পরিচর্যাকারী আমেনা আক্তার।

উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা দেশের নানা সঙ্কট নিয়ে কথা বলেন। কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় কলেজছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকা-ের বিচার দাবি তাঁরা বলেন, সামরিক বা বেসামরিক যে কোন ব্যক্তিই এ নৃশংস হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাক না কেন, তাকে বা তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। এসময় কামাল লোহানী আগামী ৫ এপ্রিল তনু হত্যাকা-ের প্রতিবাদ এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবিতে উদীচীর পক্ষ থেকে সারাদেশে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ কর্মসূচীর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় উদীচীর শাখা সংগঠনগুলো ওই দিন একযোগে এ কর্মসূচী পালন করবে।

তনুর হত্যার প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ॥ নাট্যকর্মী ও কলেজশিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সারাদেশ। দেশজুড়ে বিক্ষোভ, আলোচনা, সভা-সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে জানানো হচ্ছে এই নির্মম হত্যাকা-ের প্রতিবাদ। সেই সূত্রে শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো তনু হত্যার প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে তনু হত্যার প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত করেন সংগঠনের সভাপতি গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীর।

নাট্যজন সুরুজের চিকিৎসা সহায়তায় নাট্য প্রদর্শনী ॥ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জ জেলার নাট্য সংগঠন থিয়েটার মঞ্চ ও শিশু-কিশোর নাট্যমঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা, মঞ্চাভিনেতা এবং নির্দেশক আমির হোসেন সুরুজ সম্প্রতি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। তার সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ। যা আর্থিকভাবে অসচ্ছল আশৈশব মঞ্চনাটকে নিবেদিত এই প্রবীণ নাট্যজনের পক্ষে বহন করা দুঃসাধ্য। তার সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা সহায়তায় শুক্রবার সন্ধ্যায় নাট্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন।