১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেজগাঁওয়ে নির্মাণাধীন বাড়িতে ডেভেলপার কোম্পানির হামলা

তেজগাঁওয়ে নির্মাণাধীন বাড়িতে ডেভেলপার কোম্পানির হামলা
  • অস্ত্রের মুখে মালিকের পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে বেধড়ক মারধর ॥ নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুট, আসবাবপত্র ভাংচুর- থানায় মামলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দিন দুপুরে রাজধানী ঢাকার তেজগাঁওয়ের একটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর তাদের বেধড়ক মারধর করে। মারধরের হাত থেকে রক্ষা পায়নি নারীরাও। ভেঙ্গে চুরমার করে দেয়া হয়েছে সব আসবাবপত্র। দেখলে মনে হবে যেন সমস্ত আসবাবপত্র প্রচ- ঘুর্ণিঝড়ে ভেঙ্গে ল-ভ- হয়ে গেছে। এই হামলার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল চারটায় তেজগাঁও থানাধীন তেজকুনিপাড়ার নির্মাণাধীন ১৯৫/৫ নম্বর ৬তলা বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে বাড়ির মালিকের স্ত্রী রাবেয়া আক্তার বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ১০ মে এসডি কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে বাড়িটি ছয়তলা করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি অনুযায়ী ৩০ মাসের মধ্যে বাড়িটি সম্পূর্ণ নির্মাণ করার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয় কোম্পানিটি। এরপর একাধিকবার বাড়ি নির্মাণের সময় বাড়ানো হয়। বর্ধিত সময়ের মধ্যেও কোম্পানিটি বাড়ি নির্মাণ করতে ব্যর্থ হয়। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালের আগস্টে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই রাস্তায় বেরুলে কোম্পানির লোকজন তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করত। এমনকি হত্যার হুমকি পর্যন্ত দিত।

এদিকে কোম্পানিটি বাড়ি নির্মাণ শুরু করার পরেই কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি করে। বাড়ি নির্মাণ চুক্তি বাতিল হওয়ায় যারা ফ্ল্যাট কেনেন তারা বিপাকে পড়েন। কোম্পানি যেহেতু বাড়ি নির্মাণ শেষ করতে পারেনি এবং চুক্তি বাতিল হয়ে গেছে, এজন্য ফ্ল্যাট মালিকরা ডেভেলপার কোম্পানিকে চাপ দিতে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে ডেভেলপার কোম্পানি এবং ফ্ল্যাটের ক্রেতারা যোগসাজশ করে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করে।

তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকেলে কোম্পানির মালিক ও নির্মাণাধীন বাড়ির ফ্ল্যাটের দাবিদার শফিকুল ইসলাম (৫০), কোম্পানির পরিচালক মোনায়েম (৫০), রকিবুল হাসান চৌধুরী (৪০), কোম্পানির কর্মকর্তা কামাল (৪০), জাহিদ (৪০), আবুল কাশেম (৫০), তাদের সহযোগী মহিলা নেত্রী সুমী বেগম (৩০), জালাল (৪০), জামাল (২৮), জামালের স্ত্রী, রবিন (৩২) ও ফারুক (২৮)সহ ৪০/৫০ জন শাবল, হাতুড়ি, লোহার রড, রামদা ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ওই বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকালে তারা বাড়ির লোকজনদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। এক পর্যায়ে বাড়ির দুইটি বড় লোহার গেট ভেঙ্গে ফেলে। এরপর তারা সোজা বাড়ির মালিকের দোতলায় উঠে যায়। সেখানে তারা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে টিভি ফ্রিজ, আলমারি হারমোনিয়ামসহ সমস্ত আসবাবপত্র ভেঙ্গে চুরমার করে।

বাধা দিতে গেলে আসামিরা মামলার বাদী রাবেয়া আক্তার, তার স্বামী হারুন অর রশীদ, ছেলে আব্দুল কায়েস ও মেয়ে সানজিদা আক্তারকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের এক পর্যায়ে আসামি কামাল সানজিদার গেঞ্জি ধরে টান দিয়ে খুলে ফেলার চেষ্টা করে। আসামিরা আলমারি ভেঙ্গে নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা ও আনুমানিক ৮ লাখ টাকা মূল্যমানের ২০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। এছাড়া বাড়িতে অন্তত ৫ লাখ টাকার আসবাবপত্র ভাংচুর করে। ৫টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ নিয়ে যায়। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ এগিয়ে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মামলা করলে তাদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলে আসামিরা হুমকি দিয়ে যায়।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাজুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার বিষয়ে আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা চলছে। যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার জনকণ্ঠকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।