১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুই বাংলাদেশীকে দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস আফগানিস্তানের

কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ অপহৃত দুই বাংলাদেশীকে দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছে আফগানিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মজিদ দানেস্যুর জানিয়েছেন, দুই বাংলাদেশী উদ্ধারে তারা ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এসব তথ্য জানায়।

আফগানিস্তানে অপহৃত দুই বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কর্মকর্তা (সচিব পদমর্যাদা) আবদুল মজিদ দানেস্যুরকে টেলিফোন করা হয়। এ সময় তিনি দুই বাংলাদেশীকে দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে অপহৃত দুই বাংলাদেশীকে উদ্ধারের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশটির সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। টেলিফোনে দেশটির পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আমাদের আলাপও হয়েছে। তিনি দুই বাংলাদেশীকে দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

সূত্র জানায়, নিখোঁজের ১২ দিন পরও কোন হদিস মেলেনি আফগানিস্তানে অপহৃত দুই বাংলাদেশীর। গত ১৮ মার্চ বেসরকারী এনজিও সংস্থা ব্র্যাকের ওই দুই বাংলাদেশী কর্মকর্তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে স্থানীয় দুর্বৃত্তরা। সেখানে নিয়মিত ফিল্ড ভিজিট শেষে আফগানিস্তানের কুন্দুজ থেকে কাবুলে ফিরছিলেন ব্র্যাকের তিন কর্মকর্তা। এদের মধ্যে একজন আফগান ও দু’জন বাংলাদেশী কর্মকর্তা ছিলেন। পথের মাঝে তাদের গাড়ি থামিয়ে গাড়িচালক ও আফগান কর্মকর্তাকে ছেড়ে দিলেও অস্ত্রের মুখে বাংলাদেশী দুই কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। অপহৃত কর্মকর্তা দু’জন হলেন হাজি শওকত (৫০) ও সিরাজুল ইসলাম খান সুমন (৩৭)। হাজি শওকত আফগানিস্তানে ব্র্যাকের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়। সিরাজুল ইসলাম খান সুমনের বাড়ি পাবনায়। তিনি সেখানে সংস্থাটির প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা।

অপহরণের পর ব্র্যাকের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ব্র্যাকের পক্ষ থেকে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে অপরহণের সঙ্গে তালেবান জঙ্গীরা জড়িত কিনা সেটা নিশ্চিত হতে পারেনি ব্র্যাক।

যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনের কাজে থাকা ব্র্যাক কর্মীরা এর আগেও কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছেন। ২০১২ সালের মে মাসে ঘোর প্রদেশে ব্র্যাকের একটি কার্যালয়ে ঢুকে এক কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করে জঙ্গীরা। তার আগে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ব্র্যাকের এক প্রকৌশলীকে হত্যা করে অপহরণ করা হয় ছয়জনকে। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীদের গুলিতে প্রাণ যায় আরেক ব্র্যাক কর্মকর্তার। ওই বছর নূরুল ইসলাম নামে এক ব্র্যাক কর্মকর্তা অপহৃত হওয়ার ৮৩ দিন পর মুক্তি পান। ২০০৮ সালের অক্টোবরে গজনি প্রদেশ থেকে অপহৃত হন দুজন। ১০ দিন পর তাদের মুক্তি দেয়া হয়।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক আফগানিস্তানে কাজ শুরু করে ২০০২ সালে। দেশটির ৩৪টি প্রদেশে ব্র্যাকের প্রায় ৪শ’ অফিসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের কাজে রয়েছেন বাংলাদেশী কর্মীরা।