১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লেখাপড়া শেষে ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন সুমীর

ঠাকুরদা, পিসি ও বাবা মা চাইতেন পড়ালেখা করে সুমী দাস একদিন অনেক বড় হবে। সমাজের মুখ উজ্জল করবে। নিজের অদম্য ইচ্ছেও ছিল তাই। দলিত সম্প্রদায়ে জন্ম বলে সমাজ অনেক সময় তার এ চাওয়াকে ভাল চোখে দেখেনি। অবজ্ঞার দৃষ্টি ছিল অনেকের। পড়ালেখায় আসে বাধা আর বিপত্তি। কিন্তু মেধাবী সুমী দাস সব বাধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেন নীরবে। পিরোজপুরে জন্ম সুমীর। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরে মেধার স্বাক্ষর রেখে সবার নজর কাড়েন। পিরোজপুরে সরকারী সোহরাওয়ার্দ্দী কলেজে অনার্সে পড়ার দ্বিতীয় বর্ষে বসতে হয় বিয়ের পিড়িতে। বিয়ের সূত্রে চলে আসেন ময়মনসিংহ শহরের হরিজন পল্লীর ঠিকানায়। শিক্ষানুরাগী শ্বশুর আর মেধাবী শিক্ষিত স্বামী রিপন কুমারের সহায়তায় সুমীর শিক্ষায় ছেদ পড়েনি। স্বামী সংসার সামলেও কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছেশক্তির বলে সুমী ফের ভর্তি হয় ময়মনসিংহ সরকারী আনন্দ মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে। এখানে পড়ালেখার পাশাপাশি সুমী স্বাস্থ্য কর্মী হিসেবে বাড়তি রোজগার করে পরিবারের পাশাপাশি নিজের পড়ালেখার পুরো খরচের জোগান দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, স্বাস্থ্যকর্মী সুমী অসহায়দের কাছে ভরসার মানুষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ময়মনসিংহে শ্বশুরবাড়িতে পড়ালেখা নিয়ে শ্বশুর, স্বামী আর ননদেরও সহায়তার কমতি নেই। বিশেষ করে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার স্বামী রিপনের উৎসাহেই সুমীর এ পথচলা। পিরোজপুরে বাবার বাড়িতে থাকতে পড়ালেখার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নিয়ে প্যাথলজী ল্যাবে চাকরি করেন টানা তিন বছর। এ সময় সুমী ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্টকে সহায়তা করার সময় রপ্ত করেন স্যাম্পল কালেকশন থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষার নানা ধাপ। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ এসেও সেই জ্ঞানকে কাজে লাগান। বর্তমানে পড়ালেখার পাশাপাশি সুমী শহরের হরিজন পল্লী ছাড়াও পড়শিদের বাসা-বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করছেন। এ থেকে মাসে সুমী রোজগার করছেন ১০ হাজার টাকা। এর পুরোটাই পড়ালেখার খরচ জুগিয়ে সংসারের পেছনে ব্যয় করেন। সুমী দাস পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে ব্যাংকার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

Ñবাবুল হোসেন, ময়মনসিংহ থেকে