১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধুপখোলা মাঠের বেহাল দশা

  • কিডস পার্ক করা হবে ॥ মেয়র

হাসান ইমাম সাগর ॥ রাজধানীর পুরান ঢাকার একমাত্র খেলার মাঠ ধুপখোলা মাঠ। বর্তমান মাঠটি চার অংশে বিভক্ত। চারদিকে প্রাচীর বেষ্টিত এ মাঠটি বহু বছর ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। অব্যবস্থাপনা, অযতœ-অবহেলা আর দখলবাজদের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যেতে বসেছে মাঠটি। সন্ধ্যার পর এই স্থানটি মাদকসেবীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণিত হয়। প্রহরিহীন মাঠের প্রবেশ দ্বারগুলো ভেঙ্গে ফেলাতে অবাধে চলে মাদক কেনা-বেচার হাট। মাঠের ইস্ট ইন্ড ক্লাব অংশে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা উপচে পড়ছে। মাঠটির স্থানীয় অংশে রিক্সা ও ভ্যানের গ্যারেজসহ গড়ে উঠেছে কিছু টং দোকান। মাঠের মাঝে ফেলে রাখা হয়েছে ফ্লাইওভার নির্মাণকারীদের অব্যবহৃত ইট-সুরকির রাবিশ আর কংক্রিটের বড় বড় পাথর। চার পাশে প্রাচীরের গায়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য নির্মিত ঘরগুলো পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। রাতের বেলা এই ঘরগুলো মাদক সেবন আর গণটয়লেট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ছাড়া মাঠের একপাশে বেশ কয়েকটি পরিত্যক্ত টং দোকান ফেলে রাখা হয়েছে। প্রাচীরের দেয়ালগুলো ফেটে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১.৫ কিমি দূরে ধুপখোলায় অবস্থিত এ খেলার মাঠ। মাঠটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট ছাড়াও বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়রা শরীরচর্চা ও খেলাধুলা করে থাকে। কিন্তু সম্প্রতি মাঠের বিশ্ববিদ্যালয় অংশে পুরনো বিল্ডিং ভাঙ্গা ইট, কংক্রিট, চুন-সুরকি ফেলে খেলার অনুপযোগী করা হয়েছে। এতে খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও চিত্তবিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় শিশু-কিশোররা।

এ বিষয়ে বিল্লাল রিক্সা গ্যারেজের মিস্ত্রি মোঃ হানিফ হাওলাদার বলেন, আমগোর বিল্লাল মহাজন তিন চার মাসের জন্য এইহানে আইছে। অন্য হানে জায়গা পাইলে চইল্যা যামু। এক টং দোকানদার বলেন, প্রতিদিন দেড় শ’ টাকা দি এই খানে বসি। অহন সে বুঝু¹া কী হইব না হইব।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের অব্যবহৃত ইট, কংক্রিট ও বালু ফেলে মাঠকে খেলার অনুপযোগী করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, বেগম ফজিলাতুন্নেচ্ছা হলের আবর্জনা ইট-কংক্রিট অনত্র ফেলার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খেলার মাঠে আবর্জনা ফেলে মাঠকে খেলার অনুপযোগী করেছে। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এ্যাথলেটিকস মাসুদুর রহমান বলেন, মাঠের মধ্যে ইট, কংক্রিট ফেলায় আমরা মাঠে খেলাধুলা করতে পারছি না, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন ইভেন্টের খেলার প্রস্তুতি থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ছি।

শরীরচর্চা শিক্ষা কেন্দ্রের ফিজিক্যাল ইন্সস্ট্রাক্টর গৌতম কুমার দাস বলেন, প্রতিনিয়ত আমরা ফুটবল, ক্রিকেটসহ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন খেলার আয়োজন করি। কিন্তু বর্তমান মাঠের এই বেহাল দশার কারনে কোন ধরনের আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। এই মাঠে কোন খেলার আয়োজন করতে হলে হয় নতুন করে মাটি ফেলতে হবে তা না হলে এই ইট পাথর যুক্ত মাটি কেটে ফেলতে হবে। এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাঃ আলী নূর বলেন, মাঠের উন্নয়নে নির্মাণাধীন বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের ভিত মাটি কিছু ফেলা হয়েছে। তার সঙ্গে কিছু ইট খোয়াও মিশে গেছে। তবে এগুলো সরিয়ে খেলার উপযোগী করতে আমরা ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

এদিকে নিয়মিত শরীরচর্চা করতে আসা এক স্থানীয় লোকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগেও এই খেলার মাঠে ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যায় ক্রমেই খেলাধুলা হতো। কিন্তু এখন এখানে খেলতে আসলে হাত-পায়ে আঘাত লাগে। কিছু দিন আগে একটি বাচ্চার পা ভেঙ্গে গেছে এই মাঠে খেলতে এসে। অধিকাংশ লোক ইনজুরি হওয়ার ভয়ে এখন খেলতে আসে না। ইস্ট এ্যান্ড ক্লাবের সদস্য আবু যায়েদ জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের মাঠ বহুবার সংস্কার করার কথা বলছে সিটি কর্পোরেশন। কিন্তু আজও পর্যন্ত কোন সংস্কারের উদ্যোগ নেইনি। আমরা মাঝে মাঝে বিভিন্ন মেলা বা বছরে এক বার গরু-ছাগলের হাট বসায় সেখান থেকে কিছু টাকা পায়। তা দিয়ে এই ক্লাব চালায়। মাঠের সংস্কার কাজও করি। তবে এই দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন জনকণ্ঠকে বলেন, ধুপখোলার পুরা মাঠটাকে বাংলাদেশের সর্বাধুনিক কিডস (শিশু) পার্ক করা হবে। এই প্রকল্প ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার একনেক সভায় অনুমোদন হয়ে গেছে। এই কাজ আগামী ছয় মাসের মধ্যে শুরু করা হবে।