১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্য দুঃখিত : মুশফিকুর

কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্য দুঃখিত : মুশফিকুর

অনলাইন ডেস্ক ॥ ভারতের কাছে হারার পরে মুশফিকুর রহিম নিয়ে ভক্তদের রায় ছিল, কী করলে মুশফিকুর!

আর বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বিদায়ের পরপরই বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক কাম কিপার সম্পর্কে তাঁর অনুরাগীদের প্রতিক্রিয়া— কী বললেন মুশফিকুর!

বৃহস্পতিবার রাতে ঠিক কী বলেছিলেন মুশফিকুর? ভারতের হারের পর দুটো টুইট করেন তিনি। প্রথমটায় ম্যাচের পর টিভিতে কথা বলছেন ধোনি এই ছবি দিয়ে লেখেন— ‘এটাই হল সুখ...!!! হাহাহা...!!! ভারত সেমিফাইনালে হেরে গিয়েছে।’ দ্বিতীয় বার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের উল্লাসের ছবি দিয়ে মন্তব্য— ‘এটাই হল সুখ... এখন অনেক ভাল ভাবে ঘুমোতে পারব। উইন্ডিজ দুর্দান্ত!!!’

মুশফিকুরের এই জোড়া টুইটের জেরে তোলপাড় দুই দেশ। মুশফিকুর পরে আর একটা টুইট করে ক্ষমা চেয়ে এবং আগের টুইটগুলো মুছে দিলেও বিতর্ক থামেনি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত কেউ কেউ এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক। বিসিবি কর্তারা ডেকে তাঁর সঙ্গে কথা বললে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

যদিও সরকারি ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কেউ মুশফিকুর নিয়ে সে ভাবে কড়া প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন না। এ ব্যাপারে তাঁর সরকারি বক্তব্য চাওয়া হলে বিসিবি-র মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম বলেন, ‘‘এটা মুশফিকুরের ব্যক্তিগত ব্যাপার। বোর্ড এ ব্যাপারে মাথা ঘামাতে চায় না।’’ প্রায় একই কথা বলছেন বাংলাদেশের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশারও। শুক্রবার ফোনে ধরা হলে প্রথমে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে আধ ঘণ্টা বাদে ফোন করুন। আমি দেখি মুশফিকুরের সঙ্গে কথা বলতে পারি কি না।’’ পরে যোগাযোগ করা হাবিবুল বলেন, ‘‘আমি মুশফিকুরকে ফোনে পেলাম না। তবে এটা বলব, ও যদি সত্যি দুঃখপ্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে থাকে, তা হলে ব্যাপারটাকে এখনেই শেষ করে দেওয়া ভাল। এটা নিয়ে আমার কথা বলার কোনও মানে হয় না।’’

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এই নিয়ে কী ভাবছে? বাংলাদেশ টিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ম্যানেজার হিসেবে থাকা প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেটার খালেদ মামুদ সুজনকে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে পাওয়া যায়নি। তবে বিসিবি-র মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ফোনে বললেন, ‘‘সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এটা মুশফিকুরের ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া হলেও এটা ক্রিকেটের স্পিরিট বিরোধী। দরকারে ওর সঙ্গে কথা বলতে পারি। কারণ ও টিমের সিনিয়র ক্রিকেটার।’’

মুশফিকুরের টুইট দেখার পর বাংলাদেশ সমাজ এবং ক্রিকেট মহল কার্যত দু’ ভাগ। ঢাকায় ফোন করে জানা গেল, কেউ কেউ মনে করছেন, মুশফিকুরের এই টুইট ক্রিকেটের স্পিরিটের বিরোধী। এতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ভুল বার্তা গিয়েছে। কেউ কেউ আবার এই বিতর্কে মুশফিকুরের পাশেই। তাদের যুক্তি, আইসিসি এবং ভারতীয় ক্রিকেট মিলে বাংলাদেশকে অনেক ভাবে বঞ্চিত করেছে। তার উপর সে দিন ভারতের বিরুদ্ধে তিন বলে দু’রান তুলতে না পারার মানসিক যন্ত্রণা তো ছিলই। সব কিছু থেকেই আবেগের বশে এই কাণ্ড করেছেন মুশফিকুর।

বাংলাদেশ কিপারের এই দুই টুইটের পরেই শুরু হয় ভারতীয় সমর্থকদের পাল্টা টুইট। যার টার্গেট ছিলেন বাংলাদেশ কিপারই। পরে শুক্রবার ফের টুইট করে ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি। লেখেন— ‘দুঃখিত বন্ধুরা.. আমি ওয়েস্ট ইন্ডিজের একজন বড় সাপোর্টার। যাই হোক কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্য দুঃখিত।’

যা উল্লেখ করে ইউনুস বলছেন, ‘‘মুশফিকুরও হয়তো বুঝতে পেরেছে ওর ওই টুইটের প্রতিক্রিয়া ভাল হয়নি ভক্তদের মধ্যে। তাই মনে হয় ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছে পরে।’’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা