১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজিবাজারে সূচকের সঙ্গে লেনদেন কমেছে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আগের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহের শুরুতে সূচকের পতন ঘটলেও শেষ তিন কার্যদিবসেই সূচকের উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এমনকি প্রথম দুই দিন চলতি বছরের সর্বনিম্ন লেনদেনের ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে সূচক নেমে আসে ১০ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে। তবে শেষ তিনদিনেই সূচকের উর্ধগতিতে লেনদেন শেষ হয়। একই সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। কিন্তু এরপরও আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে আর্থিক লেনদেন ও সূচক উভয়ই কমেছে। শুধু তাই নয়, বাজার মূলধন ও মূল্য-আয় (পিই) অনুপাতও কমেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বড় পতনে লেনদেন শুরু হওয়ার পরে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গড় লেনদেন হয়েছে ৩৩৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের সপ্তাহের তুলনায় লেনদেন কম হয়েছে ৮.৭৭ শতাংশ।

অপরদিকে গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৮৮.৪৩ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর। ১.৮৯ শতাংশ লেনদেন হয়েছে ‘বি’ ক্যাটাগরিভুক্ত, ৭.৭৬ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরিভুক্ত এবং ০.৯১ শতাংশ হয়েছে ‘জেড’ ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে।

বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সপ্তাহ শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২.৯৬ পয়েন্টে। সূচক কমার এ হার ০.৩ শতাংশ। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর প্রধান সূচক ছিল ৪ হাজার ৩৭০.৫০ পয়েন্ট। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫৭.৫৪ পয়েন্টে। আগের সপ্তাহে সূচক কমেছিল ৭৫.৭৯ পয়েন্ট।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ সামান্য কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। সপ্তাহ শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৪১ কোটি টাকায়। সপ্তাহ শেষে বাজার মূলধন কমেছে ০.১৭ শতাংশ।

এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসই সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ২৪ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত সপ্তাহের ডিএসইতে পিই রেশিও ১৪ দশমিক ২৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে; যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৪ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, পিই রেশিও যতদিন ১৫ এর ঘরে থাকে ততদিন বিনিয়োগ নিরাপদ থাকে।

গপ্তাহ শেষে খাতভিত্তিক পিই রেশিও বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক খাতের পিই রেশিও অবস্থান করছে ৬ দশমিক ২ পয়েন্টে, সিমেন্ট খাতের ২৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট, সিরামিক খাতের ২৩ দশমিক ৩ পয়েন্টে, প্রকৌশল খাতের ১৯ দশমিক ৮ পয়েন্ট, খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের ৩৩ দশমিক ২ পয়েন্ট, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১২ দশমিক ৬ পয়েন্ট, সাধারণ বিমা খাতের ১০ দশমিক ৬ পয়েন্টে, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতের ৪২ দশমিক ৩ পয়েন্টে, পাট খাতের মাইনাস ৩১ দশমিক ৪ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল আমান ফিড। কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬২ কোটি ৫৮ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩.৭৩ শতাংশই লেনদেন হয়েছে এ কোম্পানিটির। লেনদেনের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিএসআরএম। ৬২ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এ কোম্পানির। যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩.৭০ শতাংশ। লেনদেনের তৃতীয় স্থানে থাকা এমারেল্ড অয়েলের সপ্তাহ জুড়ে ৬০ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশে থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো - ড্রাগন সোয়েটার, কেয়া কসমেটিকস, ওরিয়ন ইনফিউশান্স, কেডিএস এক্সেসরিজ, লংকাবাংলা ফাইন্যান্স, স্কয়ার ফার্মা, এএফসি এগ্রোবায়োটেক।

দরবৃদ্ধির সেরা কোম্পানিগুলো হলো : ইবনে সিনা, জেমিনি সী ফুড, কেডিএস এক্সেসরিজ, ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস, আইটিসি, ওরিয়ন ইনফিউশন, ডেসকো, ড্রাগন সোয়েটার, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড ও আইডিএলসি।

দর হারানোর সেরা কোম্পানিগুলো হলো : এমারেল্ড ওয়েল ইন্ড্রাস্টিজ, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ডেল্ট্রা ব্র্যাক, সাভার রিফ্যাক্টরীজ, আজিজ পাইপস, আরামিট, কে অ্যান্ড কিউ, ডেল্ট্রা কেমিক্যাল, অগ্রনী ইন্স্যুরেন্স ও আরামিট সিমেন্ট।