১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সহমর্মিতা ও সমবেদনা

কলকাতার ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় নির্মাণাধীন বিবেকানন্দ ফ্লাইওভার ভেঙ্গে ২৫ জন নিহত ও বহু লোক আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারটির নিচে বহু গাড়ি ও মানুষ আটকা পড়ে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় ৯০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে স্থানীয় মানুষ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিশ্বব্যাপী নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় অসংখ্য নিরপরাধ মানুষের মৃত্যু এখন যেন নৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হলেও এ ধরনের গাফিলতিজনিত মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। কলকাতার স্থানীয় সাংবাদিকের কলমে উঠে এসেছে তার মর্মস্পর্শী বিবরণ। লেখা হয়েছে: ‘একটা করে লোহার বিম সরছে রাস্তা থেকে। আর মৃত্যুর বীভৎস ছবি হাহাকার ছড়িয়ে দিচ্ছে গোটা এলাকায়। রাস্তার এ্যাসফল্টের সঙ্গে মিশে গেছে একটা গোটা ট্যাক্সি। তার মধ্যে চিঁড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে পিষে যাওয়া, মাংসপিণ্ডে পরিণত হওয়া দেহ। একটা নয়, অন্তত চারটে ট্যাক্সি পিষে গেছে ভেঙ্গে পড়া উড়ালপুলের তলায়। চাপা পড়েছে একটি যাত্রীভর্তি মিনিবাস, একটি স্কুল বাস, একটি ট্রাক। শুধু যানবাহন নয়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ গণেশ টকিজ মোড়ে যে পথচারীরা ছিলেন, তারাও চাপা পড়েছেন।

প্রতিবেশী দেশের ফ্লাইওভার দুর্ঘটনা আমাদের দেশের ফ্লাইওভার নিয়ে সচেতনতা ও সতর্কতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। ব্রিজ-ফ্লাইওভারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ আর সে সব ঠিকভাবে বানানো হচ্ছে কিনা, উন্নত দেশগুলোয় যার মাধ্যমে সে সবের ওপর নজর রাখা হয়, সেই ‘ব্রিজ সেফ্টি অডিট সফটওয়্যার’-ই কি আছে আমাদের দেশে? কলকাতায় এটি নেই। এমনকি নেই নির্মীয়মাণ ব্রিজ, ফ্লাইওভারগুলোর ওপর নজর রাখার জন্য প্রায় প্রতি দিনের ‘ব্রিজ হেল্থ মনিটরিং ব্যবস্থা’ও। কথা হচ্ছে এসব বিষয়ে আমরা কি সতর্ক ও সচেতন? কলকাতায় ভেঙ্গে পড়া উড়াল সড়কের নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এই উড়াল সড়ক কাজ পূর্ববর্তী সরকার বামফ্রন্টের আমলে শুরু হয়েছিলÑ এমন অজুহাত দেয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব আজ সমালোচনার মুখোমুখি। এটাকে তার নৈতিক দায় এড়ানোর বুলি হিসেবেই দেখছেন সমালোচকেরা।

কলকাতায় উড়াল সড়ক ধসে পড়ার ঘটনায় যে বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত-সমালোচিত হচ্ছে, সে বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার। তাই বড় ধরনের নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কিছু বিষয় অবশ্যই আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। জনতার নিরাপত্তা, নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষা, সার্বিক দুর্নীতিমুক্ত রাখা এবং নিয়মিত নির্মাণ কাজের তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য। শুধু নির্মাণের সময়েই নয়, নির্মাণ শেষে চালু হওয়ার পর ফ্লাইওভারের নিয়মিত তদারকি জরুরী। বর্তমানে আমাদের দেশে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এই কাজ যাতে নির্বিঘœ ও নিরাপদ হয় সেটাই কাম্য।

জোড়াসাঁকোর এই উড়াল সড়ক তো ভাঙ্গেনি, ভেঙ্গেছে কত প্রিয়জনের হৃদয়, কত না মায়ের বুক। যারা চলে গেছে না ফেরার দেশে তাদের প্রিয়জনেরা শোক সইবার শক্তি পাক। কলকাতার ফ্লাইওভার দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারবর্গের প্রতি রইল আমাদের গভীর সমবেদনা। যারা আহত হয়েছেন তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই। কলকাতা এই দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে উঠুক।