১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইন প্রণেতাদের বড় দুর্বলতা আইন বিষয়ে তারা অজ্ঞ

আইন প্রণেতাদের বড় দুর্বলতা আইন বিষয়ে তারা অজ্ঞ

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, আইনপ্রণেতাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো আইন বিষয়ে তারা অজ্ঞ। জাতীয় সংসদে প্রচলিত আইন কিংবা আইনের সংস্কার বিষয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা না হওয়ায় সংসদে আইনের দুর্বল চর্চা হচ্ছে। ফলে প্রতিটি আইনই ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ রয়ে যাচ্ছে। জনগণও ভোগান্তিতে পড়ে যান। তিনি আরও বলেন, দেশের বেশিরভাগ আইন অচল হয়ে গেছে। এসব আইনের ব্যবহারের কার্যকারিতা অনেক কম। এসব আইনের ব্যাপক সংস্কার করা না হলে বিচার বিভাগ আরও মুখ থুবড়ে পড়বে। শনিবার ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজনীতিবিদ (সংসদ সদস্য) যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে যান বা জনগণের অর্পিত দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে তাকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায়। একইভাবে সরকারী কর্মকর্তা যদি অনিয়ম করেন তাহলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু বিচার ব্যবস্থায় যদি কেউ অনিয়ম করেন তাহলে জনগণের আর কিছুই করার থাকে না। এ জন্য বিচার ব্যবস্থার বিশৃঙ্খল অবস্থা নিরসনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানান।

ওই অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাত বলেন, নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত, সবাই আইন বিক্রি করেই খায়। এর জবাবে আবুল বারাকাতকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ওনাকে (বারাকাত) আমি প্রশ্নে করছি, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ছিলেন। আপনি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনি যে লোনগুলো দিয়েছেন সেগুলো ন্যায় মতো দিয়েছেন। আপনি পারেন নাই আপনাকে কম্প্রমাইজ করতে হয়েছে। উপায় নেই আপনাকে বাধ্য হতে হয়েছে। এ সময় বারাকাত প্রতিউত্তর করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমি জানি একটাতে আপনাকে বাধ্য হতে হয়েছে।

এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, এ দেশের যেখানে রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম, সেখানে বিচার বিভাগ আলাদা কোন দ্বীপের মতো নয় যে সব জায়গায় অনিয়ম থাকবে আর বিচার বিভাগের সব ফেরেশতা হয়ে যাবে, এটা হতে পারে না। বিচার বিভাগেও কিছু অনিয়ম আছে কিন্তু সেটা ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি নয়। এই প্রক্রিয়া মেনে নিয়েই আমাদের মানুষের জন্য কাজ করে যেতে হবে।

ধর্ষণের পর খুন হওয়া কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার বিচার প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, তনু হত্যার ঘটনা একটি আধুনিক অপরাধ। পুরনো মানসিকতায় তদন্ত করে এর সুষ্ঠু বিচার সম্ভব নয়। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার সঙ্গে প্রচলিত ফৌজদারি আইনের মিল নেই। একে ঢেলে সাজাতে হবে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক রহমতউল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. আবদুল্লাহ আল ফারুক, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ড. সরকার আলী আক্কাস এবং বই দুটির প্রকাশক মোঃ শাহজাহান। এ ছাড়া উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আইন কমিশনের সদস্য ড. এম শাহ আলম রচিত ‘বাংলাদেশে আইনের সংস্কার ও আইন কমিশন’ এবং ‘সিলেক্টেড রাইটিংস অন ইন্টারন্যাশনাল ল’: কনস্টিটিউশনাল ল‘ এ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বই দুটি প্রকাশ করেছে নিউ ওয়ার্সি বুক কর্পোরেশন।