২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিজামীর রিভিউ মামলা আজ আপীলের কার্যতালিকায়

নিজামীর রিভিউ মামলা আজ আপীলের কার্যতালিকায়

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বদরবাহিনীর প্রধান জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের শুনানির জন্য মামলাটি আজ আপীলের কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। প্রধানবিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট আপীল বিভাগের কার্যতালিকায় ১৬ নম্বরে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আপীলে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বদরবাহিনীর কমান্ডার, চট্টগ্রামের বাঙালী খান, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর আপীলের পূর্ণাঙ্গ রায় বের হবার অপেক্ষায় রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হলে মীর কাশেম আলী রিভিউ আবেদন করতে পারবেন।

মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ আবেদনের উপর আজ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ মার্চ মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বদরবাহিনীর প্রধান জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) আবেদনের দ্রুত শুনানির জন্য রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনটি আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতির আদালত। প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট বেঞ্চে আজ ৩ এপ্রিল এ আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার দুপুরে আপীল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দারের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে ২৯ মার্চ মঙ্গলবার সুপ্রীমকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নিজামীর রিভিউ আবেদন দাখিল করেন তার আইনজীবীরা। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ-ের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরের বদরপ্রধান নিজামীর রিভিউ না টিকলে রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি প্রাণভিক্ষা চাইতে পারবেন। দুই আর্জিই নাকচ হলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে কারা কর্তৃপক্ষ দ- কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে। চলতি বছর ৬ জানুয়ারি আপীল আংশিক মঞ্জুর করে সেই ফাঁসির রায়ই বহাল রাখে সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রীমকোর্ট ১৫ মার্চ নিজামীর আপীলের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর ওইদিনই আসামির মৃত্যুর পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনাল থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘুরে লাল শালুতে মোড়ানো সেই মৃত্যু পরোয়ানা পরদিন সকালে কাশিমপুরে পৌঁছলে নিজামীকে তা পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রসিকিউশনের আনা ১৬ অভিযোগের মধ্যে আটটিতে নিজামীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এর মধ্যে ২, ৪, ৬ ও ১৬ নম্বর ঘটনায় নিজামীর ফাঁসির রায় আসে। আর অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় ১, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে নিজামীকে দেয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদ-।

আপীলের রায়ে বলা হয়, যে আট অভিযোগে তিনি (নিজামী) ট্রাইব্যুনালে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন, তার মধ্যে ১, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তিনি খালাস পেয়েছেন। আর ২, ৬, ৭, ৮ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তার দ- বহাল রয়েছে। এর মধ্যে ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে আপীল বিভাগ।

মীর কাশেম আলী

এবার জামায়াত নেতা মীর কাশেমের আপীল বিভাগের মৃত্যুদ-ের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায়। চলতি বছরের ৮ মার্চ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বদর বাহিনীর কমান্ডার, চট্টগ্রামের বাঙালী খান, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাশেম আলীর আপীল এক মিনিটে আংশিক খারিজ করে দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। ১২ নম্বর অভিযোগে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসীম হত্যার দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের আপীল বেঞ্চ ৮ মার্চ এই রায়ের সংক্ষিপ্ত সার জানিয়ে দেন। এই বেঞ্চের অন্য চার জন সদস্য হলেন- বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

ট্রাইব্যুনালের দেয়া ২, ৩, ৭, ৯, ১০, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগের দ- বহাল রেখেছেন আপীল বিভাগ। সব মিলিয়ে আপীল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের ২টি অভিযোগের মধ্যে একটিতে খালাস ও আরেকটিতে ফাঁসির আদেশ ৬টি অভিযোগে ৫৮ বছরের দ- পেয়েছেন। অন্যদিকে ট্রাইব্যুনাল ৪, ৬, ১২ দণ্ড প্রদান করলেও আপীল বিভাগ এ অভিযোগ থেকে মীর কাশেম আলীকে খালাস দিয়েছেন। এই তিনটিতে দুটিতে ১৪ বছর ও একটিতে ফাঁসির আদেশে খালাস দিয়েছে।