২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জামায়াত-শিবিরের জঙ্গীরাও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ক্রেতা

জামায়াত-শিবিরের জঙ্গীরাও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ক্রেতা

শংকর কুমার দে ॥ দেশের বিভিন্ন স্থানের সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে অস্ত্র কিনছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসছে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। রাজনৈতিক নেতাকর্মী ছাড়াও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্রের সদস্য এবং জামায়াত-শিবির জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যও তাদের অস্ত্রের ক্রেতা। এক সপ্তাহে অন্তত সাত অস্ত্র ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে তাদের দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে এ ধরনের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রে আন্ডারওয়ার্ল্ড আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কার তথ্য পাওয়ার পর অস্ত্র উদ্ধারাভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানান, গত ৩০ মার্চ ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর বংশাল এলাকার ইউসুফ মার্কেট থেকে তিন অস্ত্র ব্যবসায়ীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অস্ত্র বিক্রির জন্য উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে এসেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। গ্রেফতারকৃত অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে আছেন- দবির উদ্দিন ওরফে তুহিন, আব্দুল হামিদ ও ইরফানুল হাসান পিয়াস। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে ৬টি বিদেশী অস্ত্র, ১০টি ম্যাগজিনসহ ৩০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয় বলেও জানান গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

গ্রেফতারকৃত অস্ত্র ব্যবসায়ীরা জিজ্ঞাসাবাদে ডিবির কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, দেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাইপথে অস্ত্র ঢাকায় এনে অস্ত্র ব্যবসা করে আসছিলেন তারা। গ্রেফতারকৃত পিয়াস ৬০ হাজার টাকায় কুমিল্লা থেকে অস্ত্র কিনতে ঢাকায় আসে। এসব অস্ত্র নিয়ে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাহিদা মোতাবেক একেকটি অস্ত্র ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান।

কাউন্টার টেরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, অস্ত্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দেশের সন্ত্রাসীরা রাজনৈতিক পরিচয়ে অস্ত্র কিনছে। এসব অস্ত্র ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিও কিনছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান আটককৃতরা।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অস্ত্রের সরবরাহ বেড়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এক থেকে দেড় লাখ টাকায় মিলছে হাল্কা অস্ত্র। নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অবৈধ অস্ত্র কিনছেন প্রভাবশালী প্রার্থীরা। আবার প্রার্থীদের কাছে নিজেদের কদর বাড়াতে অবৈধ অস্ত্র জোগাড় করছে স্থানীয় সন্ত্রাসীরাও। আর সময়-সুযোগ বুঝে অস্ত্রের মজুদ বাড়াচ্ছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার ও জঙ্গীরাও। মাঠ পর্যায়ের এসব তথ্য সংগ্রহ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য মতে, সম্প্রতি সারা দেশে কয়েক শ’ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দারা। একই সময়ে অবৈধ অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তি। এ সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৫টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে ডিবি। এ ছাড়া র‌্যাবের অভিযানে আরও ৩০টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। তবে যে পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকছে তার খুব কম সংখ্যক উদ্ধার হয়েছে। অস্ত্রের ক্রেতাদের মধ্যে আছে জামায়াত-শিবির, নিষিদ্ধ জঙ্গীগোষ্ঠী এমনকি সন্ত্রাসীগোষ্ঠী।

পুলিশ সদর দফতরের এক উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, ইউপি নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। অস্ত্র ব্যবসায়ী চক্র ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আসা বিদেশী ক্ষুদ্র অস্ত্র এখন নির্বাচনের মাঠে ব্যবহার হচ্ছে। এসব অস্ত্রের মূল ক্রেতা ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীদের মাখামাখির কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এক কর্মকর্তা জানান, কুমিল্লা শহরকেন্দ্রিক সাত বড় মাপের অবৈধ অস্ত্র কারবারির নাম পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের পাশাপাশি তাদের ঘনিষ্ঠ নেতাকর্মীরা ২৩টি ক্ষুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। প্রতিটি অস্ত্রের জন্য তাদের কাছ থেকে এক থেকে দুই লাখ টাকা নেয়া হয়। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ছাড়াও চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও অপরাধীচক্রের সদস্য এবং জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীগোষ্ঠীর সদস্যরাও তাদের অস্ত্রের ক্রেতা।