২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কৃত্রিম চামড়া উদ্ভাবন

এবার আমাদের শরীরের মতোই পুরোপুরি কার্যকর কৃত্রিম চামড়া তৈরির সাফল্য দেখালেন জাপানের একদল বিজ্ঞানী। আশার কথা হলো এই চামড়ায় চুল গজিয়েছে এবং রোমকুপ দিয়েও ঘাম নিঃসরিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কয়েকটি রোমবিহীন ইঁদুরের শরীওে এই চামড়া প্রতিস্থাপন করে শতভাগ সফলতা পেয়েছেন। গবেষকরা আশাপ্রকাশ করেছেন যে, আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে মানব শরীরে এ ধরনের চামড়া প্রতিস্থাপন সম্ভব হবে। বিশেষ করে পুড়ে যাওয়া মানব শরীরে এ ধরনের চামড়া প্রতিস্থাপনে ভাল ফল আসবে। জাপানের কোবে শহরের রিকেন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট বায়োলজির গবেষক তাকাশি সুজি তার টোকিও, সেন্দাই ও সাগামিরার কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে গবেষণাটি পরিচালিত করেন। গবেষণাটি সম্প্রতি জার্নাল সায়েন্স এডভান্সে প্রকাশিত হয়েছে। তাদের এ সংক্রান্ত এই নয়া গবেষণাটি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে।

তাকাশি সুজি বলেছেন, আমরা শরীরের কার্যকরী অঙ্গ তৈরির যে স্বপ্ন দেখেছিলাম তা এখন পুরোপুরি বাস্তবে রূপ নেয়ার পথে। তিনি বলেন, এতদিন যে কৃত্রিম চামড়া তৈরি হয়েছিল তাতে রোমকুপ ও ঘাম নিঃসরিত হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ ক্ষেত্রে আমাদের উদ্ভাবিত এই চামড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে সফলভাবে চামড়া তৈরি করেছি যা শরীরের সাধারণ টিস্যুর মতোই কর্মক্ষম।

বিজ্ঞানী প্রথমে ইঁদুরের শরীরের টিস্যু সংগ্রহ করে এই চামড়া উদ্ভাবন শুরু করেন। জাপানের তৈরি এই কৃত্রিম চামড়া লন্ডনের কিংস কলেজের চর্ম বিজ্ঞানী প্রফেসর জন ম্যাকগ্রা আবিষ্কৃত চামড়া থেকে অধিক কার্যকরী ও উন্নততর।

জাপানী বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কারের সাধুবাদ জানিয়েছেন জন ম্যাকগ্রা। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম চামড়া আবিষ্কারে আরও একধাপ অগ্রগতি হলো। আমরা প্রাথমিকভাবে মানুষের শরীরে কার্যকরী চামড়া প্রতিস্থাপনে হোঁচট খেয়েছি। তবে আমার মনে হয় জাপানের দলটি এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারবে। চামড়া দিয়ে যদি ঘাম নিঃসরণ না হয় আর এতে যদি রোমকুপ না থাকে তবে একে আমরা চামড়া বলতে পারি না। আমার মনে হয় বিশ্বের আরও অনেক বিজ্ঞানাগারে এখন আরও কার্যকরী কৃত্রিম চামড়া আবিষ্কার নিয়ে গবেষণা হবে। বর্তমান যুগে এই চামড়ার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে প্রতিস্থাপন বিজ্ঞানে এই আবিষ্কার কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি। লাইভ সায়েন্স ও বিবিসি অবলম্বনে।