১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫৪ শতাংশ ভোট, বিএনপি ২০

  • দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় ভোট পড়েছে ৭৬.১৩ শতাংশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় ৬৩৯ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত ১১ ইউপির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। প্রাপ্ত ভোটের ফলে দেখা গেছে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৫৪ শতাংশ, ধানের শীষে ২০ শতাংশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৮ শতাংশ ভোট। কমিশন জানিয়েছে, শনিবার নাগাদ সব কেন্দ্রের ফল কমিশনের হাতে এসেছে। সব কিছু যাচাই-বাছাই করে আজ রবিবার দ্বিতীয় দফায় চূড়ান্ত ফল, ভোটের শতকরা হিসাবে এবং রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

কমিশনের দেয়া হিসাবে দেখা গেছে, দ্বিতীয় দফায় ১১টি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করার কারণে ৫৯৫ ইউপির চূড়ান্ত হিসাবে ৭৬ দশমিক ২১ শতাংশ ভোট পড়েছে। এসব এলাকায় ১ কোটি ৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭০ ভোটারের মধ্যে ৮০ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬০ জন ভোট দিয়েছেন। ফল স্থগিত থাকা ১১ ইউপির ভোট পড়ার তথ্য এই হিসাব থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩৩ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে।

ইসির চূড়ান্ত হিসাবে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনী ফলে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৪৪৪ ইউপিতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ৬১ ইউপিতে জয়লাভ করেছে। এছাড়া ১১৬টিতে জয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। এর বাইরেও দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ৩ টিতে জিতেছে। জাসদ ও জাতীয় পার্টি (জেপি) ২টি করে ইউপিতে জয় পেয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে সাতক্ষীরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের তিন প্রার্থী জয়লাভ করেছে। তবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলটির নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় তারা দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। এ কারণে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে দলটির প্রার্থীরা। দ্বিতীয় দফায় চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যসহ মোট ৩০ হাজার ৩৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী ২ হাজার ৬২৬ জন। এ পদে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ছিল ১ হাজার ৪৯৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ হাজার ১৬৯ জন নির্বাচনে অংশ নেয়। এ দফায় ভোটার ছিল মোট ১ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৩৩৪ জন। নির্বাচনে ইসির নিবন্ধিত ১৭টি দল নির্বাচনে অংশ নেয়। দলীয় প্রার্থী হিসেবে তারা দলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এর আগে গত ২২ মার্চ প্রথম দফায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অধিকাংশ ইউপিতে জয়লাভ করে। প্রথম ধাপের ৭১২ ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫৪০টিতেই জয়লাভ করে। বিএনপি প্রথম ধাপে জয় পায় ৪৭টিতে। প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিএনপির চেয়ে দ্বিগুণ ইউপিতে জয়লাভ করে। প্রথম ধাপে বিএনপি যেখানে ৪৭ ইউপিতে জয়লাভ করে সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পায় ১০৩ ইউপিতে। দ্বিতীয় দফায়ও একই চিত্র পাওয়া গেছে। ইসির উপসচিব রকিব উদ্দিন ম-ল সাংবাদিকদের জানান, দ্বিতীয় দফায় বৈরী আবহওয়ার কারণে কিছু এলাকা থেকে ফল পাঠাতে বিলম্ব হয়েছে। সম্পূর্ণ ফল কমিশনের হাতে আসায় এখন মাঠ পর্যায়ের তথ্য একীভূত করার কাজ চলছে। ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মোঃ ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের একীভূত তথ্য পাওয়া গেছে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ফল জানানো হবে। এদিকে প্রথম ও দ্বিতীয় দফা নির্বাচন শেষে কমিশনের দৃষ্টি এখন তৃতীয় ও চতুর্থ দফা নির্বাচনের দিকে। আগামী ২৩ এপ্রিল তৃতীয় দফা, ৭ মে চতুর্থ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখনও দু’দফায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা বাকি রয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, এ মাসের শেষ নাগাদ পঞ্চম দফায় নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচী ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে তৃতীয় দফায় নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে।