১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুঁজির প্রভাব ধ্বংস করছে নাটকের শিল্পগুণ

  • নাট্যকারদের সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মান বিচার করতে গেলে শুধু পিছনে ফিরে তাকাতে হয়, সামনে ভাল কিছু হবে কি না তারও ঠিক নেই। টেলিভিশন স্টেশনগুলোর অতি বাণিজ্যিক চিন্তার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন টেলিভিশন নাটকের অর্থ বরাদ্দ কমতে শুরু করেছে। যা নাটকের মানকে প্রতিনিয়ত নিম্নগামী করছে। নাটকে আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহারের নামে প্রমিত বাংলা উচ্চারণ কমতে কমতে শূন্যের কোটায় এসে ঠেকেছে। নাটক অর্থ কি শুধু কমেডি, ভাড়ামি আর জোর করে লোক হাসানো! নাকি নাটক জীবনের প্রতিচ্ছবি। শক্তিশালী মাধ্যম নাটককে আমরা কী দিন দিন ধ্বংস করছি। স্বৈরাচারের শোষণের মধ্যেও বাংলাদেশ টেলিভিশনে যে নাটক করা যেত এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশেও তা সম্ভব নয়। সব কিছু মিলিয়ে আমরা খুব খারাপ সময় পার করছি। আলোচনাগুলো টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের প্রথম সম্মেলনের। আলোচনায় ঘুরে ফিরে এসেছে নাট্যকারদের শিল্পক্ষুধা কিভাবে মার খাচ্ছে পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্যে কাছে। কিন্তু তারপরও ভাল কিছুর চেষ্টা করা যেতে পারে সম্মিলিতভাবেই। সঙ্গত কারণেই সৃজনশীল মানুষের এক সঙ্গে থাকার প্রত্যায় নিয়ে পথ চলা শুরু হলো বাংলাদেশ টেলিভিশন নাট্যকার সংঘের। শনিবার রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে দিনব্যাপী টেলিভিশন নাট্যকারদের প্রথম জাতীয় সম্মেলনে একসঙ্গে কাজ করে দেশের টেলিভিশন নাটকের মান উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করেন নাট্যকাররা।

দিনভর আলোচনায় উঠে আসে নাট্যকারদের অনেক যন্ত্রণার কথা। এখনও সমাজে ‘নাট্যকার’ শব্দটি পেশা হিসেবে স্বীকৃত নয়। আবার নাট্যকাররা নির্মাতাদের কাছেও জিম্মি। ক্রমান্বয়ে আকাশ সংস্কৃতির কারণে ভারতীয় নাটেকর আগ্রাসন ঘটছে। দিন দিন টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বিজ্ঞাপন হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে আরও কঠিন সময় আসবে। যা সামাল দেয়া সকলের জন্য কঠিন হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষাবিদ ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পুঁজির প্রভাব ধ্বংস করছে শিল্পগুণকে। নাটক সব থেকে শক্তিশালী মাধ্যম। এই শক্তি দিয়ে পুঁজিবাদের প্রভাব ভাঙতে হবে। টেলিভিশন নাটকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কোন দিনই ভাল অবস্থার মধ্যে ছিলাম না। তবে এখন মনে হচ্ছে খুব খারাপ সময় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আমাদের নদী যেমন শুকিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই রকম শিল্পও শুুকিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাই মানুষের মধ্যে শ্রেণী বিভাজন তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের এখানে তিন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। প্রথমত অতিসুবিধাপ্রাপ্ত মানুষ তাদের ছেলে মেয়েদের ইংরেজী মাধ্যমে পড়ান আর দ্বিতীয়ত মধ্যবৃত্ত শ্রেণী সাধারণ স্কুলে পড়ান আর দরিদ্র শ্রেণী মাদ্রাসা শিক্ষা নিতে গিয়ে আরও বঞ্চিত হচ্ছে।