১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ব্যাটল অব দ্য পাওয়ার হিটার্স

ব্যাটল অব দ্য পাওয়ার হিটার্স

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ টি২০ ক্রিকেটের অপর নাম ব্যাটিং। বাইশ গজে নেমেই ব্যাটসম্যানরা যেখানে ঝড় তোলেন, সেখানে উইকেট পাওয়ার মতো সেরা ডেলিভারিগুলোতেও ছক্কা খান বোলাররা! কি নিষ্ঠুর এক লড়াই। বোলারদের জন্য ব্যাটসম্যানের মনে এতটুকু দয়ার পরশ নেই। মন্ত্র একটাই পেটাও, বাউন্ডারি হাঁকাও আর বল গ্যালারিতে পাঠাও। টি২০ বিশ্বকাপে আজ যখন নিজ নিজ দ্বিতীয় শিরোপার জন্য মুখোমুখি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড, তখন একদিকে ক্রিস গেইল, অন্যদিকে জো রুট। চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে মারলন স্যামুয়েলস-আন্দ্রে রাসেলদের চেয়ে জেসন রয়-ইয়ন মরগানই বা কম যান কোথায়? আবেগের ডালা নয়, পরিসংখ্যানই বলে টুর্নামেন্টের সেরা দুই ব্যাটিংশক্তি শিরোপার দ্বৈরথে মুখোমুখি। যেটিকে বলা হচ্ছে ‘ব্যাটল অব দ্য পাওয়ার হিটার্স।’

উদাহরণের জন্য খুব বেশি পেছনে যেতে হবে না। সেমিফাইনালের কথাই ধরা যাক। ১৯২ রানের পুঁজি গড়ার পর শুরুতেই গেইলকে (৫) ফিরিয়ে দিয়ে আনন্দে আত্মহারা মহেন্দ্র সিং ধোনি। ভারতীয় ক্রিকেটারদের মুখায়বয়ব বলে দিচ্ছিল, ম্যাচ জেতাটা সময়ের ব্যাপার! অথচ ওয়াংখেড়ে ভিন্ন এক দৃশ্য দেখে ক্রিকেট বিশ্ব। ২ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে ক্যারিবীয়রা। ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মোট ছক্কা ৪টি, উইন্ডিজের ১১টি! ধোনিদের চার ১৭টি, ড্যারেন সামিদের ২০টি! ভারতের মোট ২১ বাউন্ডারির বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৩১টি। অপরাজিত ৮৯ রান করতে বিরাট কোহলির চার ১১ ও ছক্কা মাত্র ১টি। অন্যদিকে ক্যারিবীয়দের জয়ের ‘নায়ক’ লেন্ডল সিমন্সের ৮২* রানে ৭ চারের বিপরীতে ছক্কা ৫টি। রাসেলের ২০ বলে অপরাজিত ৪৩ রানে চার ৩ ও ছক্কা ৪টি। বাকি দুটি ছক্কা ওপেনার জনসন চার্লসের।

এ থেকে একটা বিষয় পরিষ্কার গেইল ব্যর্থ হলেও উইন্ডিজের পাওয়ার-হিট থেমে থাকে না। এটাই অন্য দলগুলো থেকে তাদের আলাদা করে রেখেছে। টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচ খেলে ৪টিতে জয় ক্যারিবীয়দের। সব ম্যাচ মিলিয়ে শতকরা ৬৫.৩৪ ভাগ রানই তারা করেছে চার-ছক্কার মাধ্যমে। ৬২.৯৩ ভাগ বাউন্ডারি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে তাদের ফাইনালের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ব্যক্তিগত ইনিংসে ৬০, বা তার বেশিরভাগ (শতকরা) রান চার-ছক্কার মাধ্যমে করেছেন এমন ব্যাটসম্যানের নাম দেখুনঃ জনসন চার্লস, ক্রিস গেইল, মারলন স্যামুয়েলস, আন্দ্রে রাসেল, লেন্ডল সিমন্স, জেসন রয়, জস বাটলার, এ্যালেক্স হেলস ও জো রুটÑ সবাই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের! এবং এখানেও উইন্ডিজ এগিয়ে। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত ওয়েস্ট ক্যারিবীয়দের ছক্কা ৩৬, ইংলিশদের ৩৪। চারে অবশ্য মরগান-বাহিনী এগিয়ে (৭৮টি), সামিদের বাউন্ডারি ৬১টি।

ইংলিশদের পাওয়ার হিটিংয়ের বন্যায় ভেসে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। মুম্বাইয়ে গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে ২২৯ রান করেও প্রোটিয়ারা হেরেছিল ২ উইকেটে। ওয়াংখেড়ে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা চার-ছক্কার বৃষ্টি বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন । যেখানে ৪৪ বলে ৬ চার ৪ ছক্কায় ৮৩ রান করে ‘নায়ক’ বনে গিয়েছিলেন জো রুট। ওভার প্রতি ৯.৫০ রেটে টুর্নামেন্টে পাওয়ার প্লেতে রান তোলায় অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে মরগান বাহিনী। ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত ২০১০ টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেটিই ইংলিশদের এ পর্যন্ত একমাত্র আইসিসি শিরোপা। শ্রীলঙ্কার মাটিতে পরের আসরে (২০১২) বাজিমাত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই শিরোপা পুনরুদ্ধার স্বপ্নে বিভোর দু’দল। সামি ও মরগান টুর্নামেন্টের শুরু থেকে বারবার সে কথা বলে আসছিলেন। দুই সেনাপতির কণ্ঠে পাওয়ার ক্রিকেটের প্রত্যয়। সেই চাওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সুপার টেনে দুটি দল ছিল একই গ্রুপে। স্বভাবতই সেখানে দেখা হয়েছিল ইংলিশ ও ক্যারিবীয়দের। মুম্বাইয়ে সেদিন উইন্ডিজ নয়, ক্রিস গেইলের কাছে হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড! ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় প্রতিপক্ষকে ১৮৩ রানের ভাল লক্ষ্যই দিয়েছিল মরগানরা। কিন্তু গেইল ঝড়ের কাছে সব ম্লান হয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক বছর পর জাতীয় জার্সি পরেই ৫ চার ও ১১ ছক্কায় মাত্র ৪৮ বলে খেলেছিলেন ১০০ রানের ম্যারাথন ইনিংস! যা এ পর্যন্ত সুপার টেনে একমাত্র ও আসরের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তাতে ১১ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছিল উইন্ডিজ। অবশ্য সেমি নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরেছিল সামির দল! তবে সেমিতে ‘হট-ফেবারিট’ ভারতকে উড়িয়ে দিয়ে টগবগ করে ফুটছে ‘ফুর্তিবাজ’ ক্যারিবীয়রা।