১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

লর্ডসের প্রতিশোধ ইডেনে নিতে চায় ইংলিশরা

  • জয়ের জন্যই প্রস্তুত অধিনায়ক মরগান

স্পোর্টস রিপোর্টার, কলকাতা থেকে ॥ ইংল্যান্ড সেই ১৮৭৭ সাল থেকে ক্রিকেট খেলে। ওয়ানডে খেলে ১৯৭১ সাল থেকে। আর টি২০ খেলে ২০০৫ সাল থেকে। অথচ একবার কেবল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে ইংল্যান্ড। ১৯৭৯ সালে লর্ডসে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচটিতে হারেও ইংল্যান্ড। ৩৭ বছর পর আবার দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে। সেটিও আবার বিশ্বকাপের ফাইনাল। টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। সেই লর্ডসের বিশ্বকাপের ম্যাচটির দুঃসহ স্মৃতি যেন ইংলিশ ক্রিকেটারদের সামনে তরতাজা হয়ে জেগে উঠেছে। যখন আজ স্বল্পওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রতিপক্ষ দলটি ওয়েস্ট ইন্ডিজই, তাই লর্ডসের প্রতিশোধ এবার ইডেন গার্ডেনে নিতে চায় ইংল্যান্ড। ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগানই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। বলেছেন, ‘মুকুট জিততে চাই।’ আর মুকুট জেতা মানেই হচ্ছে প্রতিশোধ নিয়ে নেয়া।

সবমিলিয়ে ওয়ানডেতে ২৪ বার ফাইনালে খেলে ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপে খেলে তিনবার। ১৯৭৯ সালে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, ১৯৮৭ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৯৯২ সালে মেলবোর্নে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনাল খেলে। তিনবারই নিয়তিতে ইংল্যান্ডের হার লেখা হয়। সেই তুলনায় টি২০ বিশ্বকাপে ২০১০ সালে একবার ফাইনাল খেলে, একবারেই বাজিমাত করে। শিরোপা জিতে। ওয়ানডে ও টি২০ বিশ্বকাপ মিলিয়ে যেটি ইংল্যান্ডের একমাত্র শিরোপা জয়। তবে আজ যেহেতু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা। তাই ’৭৯ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিই তাদের সামনে ধরা দিচ্ছে।

মরগান জেতার জন্য প্রস্তুতও। বলেছেন, ‘দলের ক্রিকেটাররা ফিট আছে। উইকেটও অনেক ভাল দেখলাম। যেহেতু ফাইনাল ম্যাচ। চাপ খানিকটা থাকবেই। তবে আমরা অন্য ম্যাচগুলোর মতোই ফাইনাল ম্যাচটিও খেলার চেষ্টা করব। আশা অনেক। এখন তা পূরণ করতে হবে।’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘গত ১২ মাস ধরে আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। সেই পরিশ্রমের ফল মিলছে। উপমহাদেশের উইকেটে খেলছি। তাতে ফাইনালেও উঠেছি। দলের ক্রিকেটারদের নৈপুণ্যেই তা সম্ভব হয়েছে।’

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে যখন ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড, তখন থেকে স্বাভাবিকভাবেই ভারতের বিরাট কোহলি নয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলকে নিয়েই ভাবনা করতে হয়েছে। যেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরে গেছে ভারত, ইংলিশরা শুধু গেইলকে নিয়েই ভাবতে শুরু করেছেন। এমনই ভাবা হয়েছে। কিন্তু গেইলকে নিয়ে নয়, এখন পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নিয়েইতো চিন্তায় পড়েছে ইংলিশরা। সেমিফাইনালে গেইল খেলেননি। এরপর চার্লস, সিমন্স ও রাসেলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনই অবস্থা হয়েছে, গেইল ছাড়াও যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতে, সেই ভিত গড়া হয়ে গেছে। তবে মরগান কাউকে নিয়েই ভাবতে নারাজ, ‘গেইল অসাধারণ ব্যাটিং করে। তা সবাই জানে। তবে গেইল ছাড়াও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে অনেক ভাল ক্রিকেটার রয়েছেন। যারা ম্যাচ জেতাতে সক্ষম। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল ম্যাচে তা বোঝাও গেছে। আমরা আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে নয়, নিজেদের নিয়েই ভাবছি। কিভাবে শিরোপা জেতা যায়, সেই চিন্তাই করছি। এ মুহূর্তে মিলেছে। সেটি শিরোপা জিতেই উদযাপন করতে চাই।’

ইংল্যান্ড যে ফাইনালে উঠে যাবে, তা আসলে বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেউই ভাবেনি। উপমহাদেশে খেলা মানে এশিয়ার কোন দলই চ্যাম্পিয়ন হবে, এমন ধারণা ছিল। বিশেষ করে স্বাগতিক ভারত শিরোপা জিতবে, সেই দিকেই সবার মনোযোগটি ছিল। কিন্তু এশিয়ার কোন দল ফাইনালে যেতে পারেনি। উল্টো ইংল্যান্ড এমন কন্ডিশনে ফাইনালে খেলছে। মরগান বিষয়টিকে সাফল্য হিসেবেই দেখছেন, ‘দলের ক্রিকেটাররা তরুণ। অভিজ্ঞও আছেন। তবে সবাই আসলে নিজেদের উপস্থাপন করতে চেয়েছে। যখন একজন ক্রিকেটার নিজেকে মেলে ধরতে চান, তখন সে সাফল্য পাবেই। উইকেট সেখানে কোন বিষয়ই না। উপমহাদেশের উইকেটে আমরা ফাইনালে খেলছি। এটি অনেক বড় সাফল্য। এখন শিরোপা জিতে নিতে পারলেই হয়।’ দেখা যাক, টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতে ১৯৭৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে নিজ দেশের লর্ডসে হারের প্রতিশোধ ভিনদেশের ইডেন গার্ডেনে নিতে পারে কিনা ইংল্যান্ড।