২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোহামেডান-শেখ জামাল হাইভোল্টেজ ম্যাচ আজ

  • স্বাধীনতা কাপ ফুটবল

রুমেল খান ॥ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছিল শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড। জামালের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডও। আন্দোলনের সহযোগী শেখ জামাল এবং মোহামেডান আজ আর সহযোগী নয়, বরং প্রতিপক্ষ! তবে সেটা মাঠের বাইরে নয়, খেলার মাঠে। ‘কেএফসি স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এ গ্রুপ ‘এ’তে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে খেলাটি (একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অপর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড বনাম ফেনী সকার ক্লাব)।

গত মৌসুমে অনুষ্ঠিত হয়নি স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের আসর। তার আগের মৌসুমে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা কাপের শিরোপা জিতেছিল ‘সাদা কালো’ খ্যাত মোহামেডান। ফাইনালে তারা হারিয়েছিল ফেনী সকার ক্লাবকে। স্বভাবতই এবার মোহামেডানের সামনে অপেক্ষা করছে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ। শেখ জামাল ঘরোয়া ফুটবলে এখন পর্যন্ত যে দুটি শিরোপা জেতেনি, তার একটি হলো স্বাধীনতা কাপ (অপরটি সুপার কাপ)। ২০১১ সালে অবশ্য ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু সেবার ফরাশগঞ্জের কাছে ফেবারিট হয়েও অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে গিয়েছিল তারা। দারুণ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে শেখ জামাল। তাদের নির্ভরযোগ্য আট ফুটবলার নেই। তারা এখন তিনটি ক্লাবে (চট্টগ্রাম আবাহনী, ঢাকা আবাহনী ও শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র)। খেলোয়াড় ফেরত চেয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে। সেটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আর হলেও এই আসরে তারা ওই আট ফুটবলার কোন ক্লাবের হয়েই অংশ নিতে পারবে না। কদিন আগে স্বাধীনতা কাপের গ্রুপিং ড্র হয় ১০ দল নিয়ে। পরে আরামবাগের আ্েবদনের প্রেক্ষিতে তাদের টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যেই শেখ জামাল আদালতের দ্বারস্থ হয়। ফলে এই জটিলতায় খেলা পিছিয়ে যায় দুইদিন। এমনকি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) টুর্নামেন্টের তারিখ দুদিন পিছিয়ে দিলেও টুর্নামেন্ট আদৌ হবে কি না, এ নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। গত বুধবার বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘শেখ জামাল যেহেতু এই আসরে খেলতে চেয়ে আমাদের কাছে লিখিতভাবে কোন আবেদন করেনি, তাছাড়া টুর্নামেন্টের গ্রুপিং ড্র ও ফিক্সার যেখানে চূড়ান্ত হয়ে গেছে, সেখানে তাদের আর অংশ নেয়ার সুযোগ নেই।’ নিজেদের তাঁবুতে আট ফুটবলার ফেরতে না পেয়ে টুর্নামেন্ট যেন অনুষ্ঠিত না হয়, এ বিষয়েও আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল শেখ জামাল ক্লাব। তাদের এই আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত। সালাম মুর্শেদীর কথার প্রেক্ষিতে টনক নড়ে শেখ জামালের। বৃহস্পতিবার তারা টুর্নামেন্ট খেলতে চেয়ে লিখিত আবেদন করে। শুক্রবার টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার দুই ঘণ্টা আগে বাফুফে পেশাদার লীগ কমিটির জরুরী সভা শেষে ঘোষণা দেয়া হয়, স্বাধীনতা কাপে খেলবে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব। কোন শর্ত ছাড়াই খেলতে রাজি হওয়ায় শেখ জামালকে ‘এ’ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

লিখিত আবেদনে জামাল জানিয়েছিলÑ ৮ খেলোয়াড়কে ফেরত দিলেই তারা স্বাধীনতা কাপে খেলবে। কিন্তু বাফুফে তাদের আগের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে শেষ পর্যন্ত নমনীয় হয়ে খেলতে রাজি হয় ধানম-ির ক্লাবটি।ফুটবলপ্রেমীরা মন্তব্য করেন, টুর্নামেন্টে বিনাশর্তে খেলতে রাজি হয়ে সঠিক অথচ বিলম্বিত সিন্ধান্তই নিয়েছে শেখ জামাল। এবার আট খেলোয়াড় ছাড়া খেলতে হবে জামালকে। এখন দেখার বিষয়, এমন খর্বশক্তির দল নিয়ে এই আসরে কেমন ফল করে তারা।