১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরিকল্পিত উন্নয়ন ও আমাদের অর্থনীতি

রাজধানীর চারদিকের নদীগুলো দখল-জবরদখলকারীদের আগ্রাসনে সরু খালে পরিণত হয়েছে, আর খালগুলো তো বহু পূর্বেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। গত শতাব্দীর আশির দশকে ব্যক্তিগত খাতে আবাসন শিল্পের বিকাশ তথা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, ব্যক্তিগত ও সরকারী অপরিকল্পিত নানাবিধ অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কারণে ঢাকা বৈষম্যপূর্ণ, দুর্গন্ধময় ও নৈরাজ্যপূর্ণ এক নোংরা বাণিজ্যিক নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম সড়ক (প্রয়োজন ২৫%, আছে মাত্র ৮%), সরু সড়ক, ক্ষুদ্র যানবাহনের আধিক্য, পাতাল রেল ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহনের অনুপস্থিতি, আধুনিক ফুটপাথ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনুপস্থিতি আসলে মহানগরীকে মানুষের বসবাসের অনুপোযোগী করে ফেলেছে। গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে এখানে বসবাসকারী প্রায় দেড় কোটি মানুষ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ জরুরী। এক্ষেত্রে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণই পারে ঢাকা শহরের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে, যা দেশের অর্থনীতিকে টেকসই করতে ভূমিকা রাখবে। গোটা পয়ঃপ্রণালী সড়কের পাশ দিয়ে নিয়ে তার ওপরে অন্তত দেড়-দুই ফুট উচ্চতার সøাব দিয়ে ফুটপথ গড়ে তোলা যেতে পারে। এটা করলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে এবং মানুষ ফুটপথ ব্যবহারে অবশ্যই অভ্যস্ত হবে। সড়কসমূহ যতটা সম্ভব প্রশস্ত করা জরুরী। বিদ্যুতের তারগুলো সব মাটির নিচ দিয়ে টানার ব্যবস্থা করলে ভাল হয়। রাস্তা পারাপার বা ক্রসিংয়ের জন্য উন্নত দেশের আদলে অত্যন্ত সুপরিসর আন্ডারপাস জরুরী ভিত্তিতে এবং সর্বত্র নির্মাণ করতে হবে। অবশ্যই অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত অপরিসর ওভারব্রিজগুলো ভেঙ্গে দিতে হবে। মেগাসিটি ঢাকার পরিবহন সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদে পাতাল রেল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এগুলোর সঙ্গে পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থার সংযোগপূর্বক সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নদীগুলোর তীর মুক্ত করতে হবে যেকোন মূল্যে। ওগুলোরও দু’তীর কংক্রিটে বাঁধাইপূর্বক সুদৃশ্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে হবে। কোনক্রমেই ফেলে রাখা যাবে না। দীর্ঘসূত্রিতা এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে না। খালগুলোর সঙ্গে সঙ্গে নদীগুলোও গভীর করে খননপূর্বক সংযোগ প্রদানপূর্বক সুসমন্বিত এক নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিতে পারলে ঢাকা শহরের টেকসই উন্নয়ন যেমন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, তেমনি শহরের অর্থনৈতিক কর্মকা-েও গতি আনা সম্ভব হবে।

নাহিয়ান ইমন